০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পঞ্চম বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণাপত্র

বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোট-বিমসটেকের নেতারা ‘বিমসটেক সনদে’ স্বাক্ষর করেছেন। আজ বুধবার শ্রীলঙ্কার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলনে সংস্থার কার্যক্রমকে আরও কাঠামোগত ও নিয়ম ভিত্তিক করতে সনদে স্বাক্ষর করে সংস্থার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ ভুটান, নেপাল, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের অন্যান্য বিমসটেক নেতারা ভার্চুয়ালি শ্রীলঙ্কার আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন।

ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনি সহায়তা সংক্রান্ত বিমসটেক কনভেনশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিচারমন্ত্রী বা তাদের মনোনীতরা স্বাক্ষর করেছেন।

শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে বিমসটেক টেকনোলজি ট্রান্সফার ফ্যাসিলিটি (টিটিএফ) প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (এমওএ) বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা মনোনীত স্বাক্ষরকারীদের দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

অন্যদিকে, বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক একাডেমি বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মনোনীতরা স্বাক্ষর করেছেন।

পরে পঞ্চম বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। এর আগে আজ সকালে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে। বিমসটেকের বিদায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে সমাপনী বক্তব্যও দেন তিনি।

সনদে ভারতের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ধারণা করা হচ্ছে, সনদটি বিমসটেক ফোরামকে ভারত, বাংলাদেশসহ বঙ্গোপসাগর এলাকাকে একটি টেকসই শান্তিপূর্ণ ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সাহায্য করবে।

সনদটি বিমসটেক ফোরামকে সমন্বিত প্রচেষ্টা, অর্থপূর্ণ সহযোগিতা এবং গভীর সংহতির মাধ্যমে গতিশীল, কার্যকর ও উৎপাদনশীল আঞ্চলিক সংগঠনে পরিণত করতে সহায়তা করবে বলেও ধারণা করছে বোদ্ধামহল। সনদ ছাড়াও শীর্ষ সম্মেলনে আরও তিনটি চুক্তি করার প্রস্তাব করা হয়েছিলো এবং ‘পরিবহণ সংযোগের জন্য বিমসটেক মাস্টার প্ল্যান’সহ বহু কাঙ্ক্ষিত দুটি নথি সরকার প্রধানদের দ্বারা গৃহীত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিমসটেক একটি আঞ্চলিক সংস্থা, যার সাতটি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচটি দক্ষিণ এশিয়ার—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুটি—মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড। বিমসটেক ১৯৯৭ সালে ৬ জুন বাংলাদেশসহ চারটি সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। এখন সংস্থাটির বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ ও শক্তি থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা পর্যন্ত সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র রয়েছে। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

পঞ্চম বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণাপত্র

প্রকাশ: ০৭:৩১:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ মার্চ ২০২২

বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোট-বিমসটেকের নেতারা ‘বিমসটেক সনদে’ স্বাক্ষর করেছেন। আজ বুধবার শ্রীলঙ্কার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলনে সংস্থার কার্যক্রমকে আরও কাঠামোগত ও নিয়ম ভিত্তিক করতে সনদে স্বাক্ষর করে সংস্থার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ ভুটান, নেপাল, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের অন্যান্য বিমসটেক নেতারা ভার্চুয়ালি শ্রীলঙ্কার আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন।

ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনি সহায়তা সংক্রান্ত বিমসটেক কনভেনশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিচারমন্ত্রী বা তাদের মনোনীতরা স্বাক্ষর করেছেন।

শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে বিমসটেক টেকনোলজি ট্রান্সফার ফ্যাসিলিটি (টিটিএফ) প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (এমওএ) বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা মনোনীত স্বাক্ষরকারীদের দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

অন্যদিকে, বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক একাডেমি বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মনোনীতরা স্বাক্ষর করেছেন।

পরে পঞ্চম বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। এর আগে আজ সকালে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে। বিমসটেকের বিদায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে সমাপনী বক্তব্যও দেন তিনি।

সনদে ভারতের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ধারণা করা হচ্ছে, সনদটি বিমসটেক ফোরামকে ভারত, বাংলাদেশসহ বঙ্গোপসাগর এলাকাকে একটি টেকসই শান্তিপূর্ণ ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সাহায্য করবে।

সনদটি বিমসটেক ফোরামকে সমন্বিত প্রচেষ্টা, অর্থপূর্ণ সহযোগিতা এবং গভীর সংহতির মাধ্যমে গতিশীল, কার্যকর ও উৎপাদনশীল আঞ্চলিক সংগঠনে পরিণত করতে সহায়তা করবে বলেও ধারণা করছে বোদ্ধামহল। সনদ ছাড়াও শীর্ষ সম্মেলনে আরও তিনটি চুক্তি করার প্রস্তাব করা হয়েছিলো এবং ‘পরিবহণ সংযোগের জন্য বিমসটেক মাস্টার প্ল্যান’সহ বহু কাঙ্ক্ষিত দুটি নথি সরকার প্রধানদের দ্বারা গৃহীত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিমসটেক একটি আঞ্চলিক সংস্থা, যার সাতটি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচটি দক্ষিণ এশিয়ার—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুটি—মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড। বিমসটেক ১৯৯৭ সালে ৬ জুন বাংলাদেশসহ চারটি সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। এখন সংস্থাটির বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ ও শক্তি থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা পর্যন্ত সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র রয়েছে। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক