১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আন্তঃসহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিবে ৫ম বিমসটেক

মিহির ভোসলে: আগামী ৩০ মার্চ শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ৫ম বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন। উক্ত সম্মেলনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকার প্রধানদের।

উল্লেখ্য, বিমসটেক একটি মাল্টি-সেক্টরাল গ্রুপ হিসেবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সংযোগ হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড এর সদস্য হিসেবে স্বীকৃত।

বিশ্বজুড়ে মহামারী ভাইরাসের প্রকোপ, অর্থনৈতিক মন্দা এবং যুদ্ধ বিগ্রহে অশান্ত পরিবেশের মধ্যেই শুরু হচ্ছে এবারের বিমসটেক। তাই, আসন্ন এই সম্মেলনকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদও ব্যাপক। সেসব নিয়েই আমাদের এই লেখনী।

 

সম্মেলন থেকে প্রত্যাশা

বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আগামী ৩০ মার্চ, বুধবার, ৫ম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে শ্রীলঙ্কা। সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে আজ, অর্থাৎ, ২৮ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিমসটেক সিনিয়র কর্মকর্তাদের (এসওএম) বৈঠক। আয়োজনের অংশ হিসেবেই আগামীকাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বিমসটেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক।

বিমসটেক সম্মেলন সামনে রেখে গত শনিবার এক বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর। সেখানে বলা হয়েছে, “কোভিড মহামারী সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ সহ বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে সমস্ত বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্র। বিষয়টি বিমসটেকের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর তাগিদ দেয়। তাই আমরা আশা করি আন্তঃসহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিবে ৫ম বিমসটেক।

সম্মেলনে অংশ নিতে ইতোমধ্যে কলম্বো পৌঁছেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বুধবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিমসটেক চার্টার, সংগঠনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং প্রক্রিয়া, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পরিবহন সংযোগের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্ত করা এবং আরও ভাল কার্যকারিতার জন্য এর সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে যুক্তিযুক্তকরণের বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের আলোচ্যসূচিতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০১৮ সালে কাঠমান্ডুতে বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সেসময়, বিমসটেকের জন্য একটি খসড়া সনদ প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো। সংগঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি সংজ্ঞায়িত করতে পারে, এমন সনদ এবারের সম্মেলনে গৃহীত হতে পারে।

তাছাড়া, অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে এবারের বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে।

 

বৃহত্তর উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা

বিশ্বব্যাপী মহামারীতে লকডাউনসহ নানান ভূ-রাজনৈতিক কারণে অর্থনৈতিকভাবে দারুণ মার খেয়েছে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলো। বিমসটেকের সদস্য প্রতিটি দেশই আর্থিকভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। সাম্প্রতিক ইউক্রেন-রাশিয়া ইস্যু সহ বৈশ্বিক উদ্বেগের সকল ঘটনায় জাতিসংঘ সহ বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলো নিজেদের দায়িত্ব পালনে সুস্পষ্টভাবে ব্যর্থ। এমতাবস্থায়, আঞ্চলিক সংগঠনকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে সমাধানের বিকল্প নেই। এই চেতনা মাথায় রেখেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এবারের শীর্ষ সম্মেলন।

অত্র অঞ্চলজুড়ে চীনের আগ্রাসী ভূমিকা এবং সেটি মোকাবেলায় বঙ্গোপসাগরের দেশগুলো কীভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিবে এবারের বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন।

যদিও বিমসটেকের মূল লক্ষ্য হলো কাউন্টার টেরোরিজম এবং ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং শক্তির মতো অপ্রচলিত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলা করা, তবু উপকূলীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা বাহিনী নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ মহড়া সহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কার্যক্রম জোরদার করবে এই বিমসটেক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে।

এক্ষেত্রে ২০১৬ সালে ভারতের আহবানে ব্রিকস-বিমসটেক দেশগুলোর যৌথ মহড়ার কথা স্মরণ করা যেতে পারে। এরপর থেকেই ক্রমবর্ধমানভাবে বিমসটেককে এ অঞ্চলে সার্কের বিকল্প হিসেবেও দেখেন অনেকে।

তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই পাকিস্তান এই ধারণার অন্তর্ভূক্ত নয়। চীনের সাথে ভারতের পেশি শক্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠছে এই বিমসটেক। লক্ষণীয় বিষয়, শ্রীলঙ্কা সহ বেশ কয়েকটি বিমসটেক রাষ্ট্র চীনের কাছ থেকে বিশাল ঋণের মধ্যে রয়েছে। খোদ কলম্বোর কাছেই ৩.৫ বিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে চীনের। তাই আনুগত্য, মিত্রতা পরীক্ষার পাশাপাশি গোটা প্ল্যাটফর্মটি ভারতের জন্যেও অন্যদের তুলনায় বহুলাংশে গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশেষে এটুকুই বলবো, গঠনের ২৫ তম বছরে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রায় দেড় বিলিয়ন লোকের প্রতিনিধি হিসেবে বিমসটেক হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এমতাবস্থায়, দীর্ঘ সময় পর বিমসটেকের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলন দেশগুলোর আন্তঃসহযোগিতাকে আরও জোরদার করবে, এমনটাই প্রত্যাশা। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

 

ট্যাগ:

আন্তঃসহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিবে ৫ম বিমসটেক

প্রকাশ: ০৬:৪৪:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ মার্চ ২০২২

মিহির ভোসলে: আগামী ৩০ মার্চ শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ৫ম বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন। উক্ত সম্মেলনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকার প্রধানদের।

উল্লেখ্য, বিমসটেক একটি মাল্টি-সেক্টরাল গ্রুপ হিসেবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সংযোগ হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড এর সদস্য হিসেবে স্বীকৃত।

বিশ্বজুড়ে মহামারী ভাইরাসের প্রকোপ, অর্থনৈতিক মন্দা এবং যুদ্ধ বিগ্রহে অশান্ত পরিবেশের মধ্যেই শুরু হচ্ছে এবারের বিমসটেক। তাই, আসন্ন এই সম্মেলনকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদও ব্যাপক। সেসব নিয়েই আমাদের এই লেখনী।

 

সম্মেলন থেকে প্রত্যাশা

বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আগামী ৩০ মার্চ, বুধবার, ৫ম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে শ্রীলঙ্কা। সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে আজ, অর্থাৎ, ২৮ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিমসটেক সিনিয়র কর্মকর্তাদের (এসওএম) বৈঠক। আয়োজনের অংশ হিসেবেই আগামীকাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বিমসটেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক।

বিমসটেক সম্মেলন সামনে রেখে গত শনিবার এক বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর। সেখানে বলা হয়েছে, “কোভিড মহামারী সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ সহ বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে সমস্ত বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্র। বিষয়টি বিমসটেকের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর তাগিদ দেয়। তাই আমরা আশা করি আন্তঃসহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিবে ৫ম বিমসটেক।

সম্মেলনে অংশ নিতে ইতোমধ্যে কলম্বো পৌঁছেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বুধবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিমসটেক চার্টার, সংগঠনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং প্রক্রিয়া, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পরিবহন সংযোগের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্ত করা এবং আরও ভাল কার্যকারিতার জন্য এর সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে যুক্তিযুক্তকরণের বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের আলোচ্যসূচিতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০১৮ সালে কাঠমান্ডুতে বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সেসময়, বিমসটেকের জন্য একটি খসড়া সনদ প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো। সংগঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি সংজ্ঞায়িত করতে পারে, এমন সনদ এবারের সম্মেলনে গৃহীত হতে পারে।

তাছাড়া, অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে এবারের বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে।

 

বৃহত্তর উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা

বিশ্বব্যাপী মহামারীতে লকডাউনসহ নানান ভূ-রাজনৈতিক কারণে অর্থনৈতিকভাবে দারুণ মার খেয়েছে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলো। বিমসটেকের সদস্য প্রতিটি দেশই আর্থিকভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। সাম্প্রতিক ইউক্রেন-রাশিয়া ইস্যু সহ বৈশ্বিক উদ্বেগের সকল ঘটনায় জাতিসংঘ সহ বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলো নিজেদের দায়িত্ব পালনে সুস্পষ্টভাবে ব্যর্থ। এমতাবস্থায়, আঞ্চলিক সংগঠনকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে সমাধানের বিকল্প নেই। এই চেতনা মাথায় রেখেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এবারের শীর্ষ সম্মেলন।

অত্র অঞ্চলজুড়ে চীনের আগ্রাসী ভূমিকা এবং সেটি মোকাবেলায় বঙ্গোপসাগরের দেশগুলো কীভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিবে এবারের বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন।

যদিও বিমসটেকের মূল লক্ষ্য হলো কাউন্টার টেরোরিজম এবং ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং শক্তির মতো অপ্রচলিত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলা করা, তবু উপকূলীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা বাহিনী নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ মহড়া সহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কার্যক্রম জোরদার করবে এই বিমসটেক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে।

এক্ষেত্রে ২০১৬ সালে ভারতের আহবানে ব্রিকস-বিমসটেক দেশগুলোর যৌথ মহড়ার কথা স্মরণ করা যেতে পারে। এরপর থেকেই ক্রমবর্ধমানভাবে বিমসটেককে এ অঞ্চলে সার্কের বিকল্প হিসেবেও দেখেন অনেকে।

তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই পাকিস্তান এই ধারণার অন্তর্ভূক্ত নয়। চীনের সাথে ভারতের পেশি শক্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠছে এই বিমসটেক। লক্ষণীয় বিষয়, শ্রীলঙ্কা সহ বেশ কয়েকটি বিমসটেক রাষ্ট্র চীনের কাছ থেকে বিশাল ঋণের মধ্যে রয়েছে। খোদ কলম্বোর কাছেই ৩.৫ বিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে চীনের। তাই আনুগত্য, মিত্রতা পরীক্ষার পাশাপাশি গোটা প্ল্যাটফর্মটি ভারতের জন্যেও অন্যদের তুলনায় বহুলাংশে গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশেষে এটুকুই বলবো, গঠনের ২৫ তম বছরে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রায় দেড় বিলিয়ন লোকের প্রতিনিধি হিসেবে বিমসটেক হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এমতাবস্থায়, দীর্ঘ সময় পর বিমসটেকের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলন দেশগুলোর আন্তঃসহযোগিতাকে আরও জোরদার করবে, এমনটাই প্রত্যাশা। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক