০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘ-আরব লীগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চাই: শ্রিংলা

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে আরব দেশগুলোর সঙ্গে জাতিসংঘের আলোচনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত এ কাজে সব রকম সহযোগিতায় প্রস্তুত। গত ২৩ মার্চ, বুধবার, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার ‘জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর (আরব লীগ) মধ্যকার সহযোগিতা’- শীর্ষক বৈঠকে এমনই মন্তব্য করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

বক্তব্য প্রদানকালে অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক বলেন, “আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের প্রচেষ্টায় আরব দেশগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব চালিয়ে যাবে ভারত। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের প্রচারেও আরব দেশগুলোর পাশেই থাকবে ভারত।”

শ্রিংলা বলেন, “এক সহস্রাব্দেরও বেশি সময় ধরে আরব বিশ্ব মানব সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রস্থল। এর কৌশলগত অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে আরব বিশ্বের উন্নয়ন আমাদের ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে এবং তারা বিশ্বব্যাপী গভীর প্রভাব ফেলেছে।”

ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব যোগ করেন, “আজ এই অঞ্চল যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এবং আমরা কীভাবে সেগুলোকে মোকাবেলা করব, তা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।”

শ্রিংলা বলেন, “ভারত এবং আরব বিশ্বের মধ্যে একটি সভ্যতার সম্পর্ক রয়েছে, যা আমাদের জনগণের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক এবং বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।”

আরব বিশ্বের সঙ্গে ভারতের গভীর সম্পর্ক ব্যখ্যা করে তিনি বলেন, “ভারত মহাসাগরের মধ্য দিয়ে ভারত ও আরব অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য আধুনিক বাণিজ্যের আবির্ভাবের আগেও কয়েক শতাব্দী ধরে বিকাশ লাভ করেছিল। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, আরব বিশ্বের কিছু অংশে ভারতীয় রুপি দিয়ে আইনি দরপত্র নেয়ার প্রচলন ছিলো।”

শ্রিংলা জানান, “আজ আরব বিশ্বের দেশগুলো ০৯ মিলিয়নেরও বেশি ভারতীয়দের আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং এই দেশগুলোর সাথে ভারতের বিস্তৃত অংশীদারিত্ব মানুষের প্রচেষ্টার প্রতিটি দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। কৃষি, ব্যবসা, বাণিজ্য এবং শিক্ষা থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্ন শক্তি, সন্ত্রাসবাদ এবং নতুন প্রযুক্তি সব ক্ষেত্রে আমাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে।”

তাছাড়া, ভারত এবং আরব রাষ্ট্রসমূহ ভবিষ্যতের জন্য একটি অংশীদারিত্ব গঠনের উদ্দেশ্যে নিয়মিত সংলাপ প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য দুই দশক আগে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলো বলেও জানান শ্রিংলা। একই সাথে, এশিয়া জুড়ে জনগণের স্বার্থে, বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য শান্তির জন্য আরব লীগ আরও জোরদার ভূমিকা নিতে পারে বলে অভিমত দেন তিনি। এতে ভারত সর্বোচ্চ সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।

এজন্য চারটি প্রস্তাবও পেশ করেছেন তিনি। সেগুলো যথাক্রমে,

প্রথমত, ভারত এবং আরব লীগের মধ্যে বৃহত্তর নীতিগত সমন্বয় থাকতে হবে।

শ্রিংলা বলেন, “এই অঞ্চলে শান্তি উদ্যোগের বিষয়ে আরব রাষ্ট্রের লীগ এবং এর সদস্যদের সাথে নিয়মিত এবং ঘন ঘন আলোচনা সাধারণ সমাধান এবং অর্থপূর্ণ ফলাফল অর্জনে অবদান রাখবে।”

দ্বিতীয়ত, মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সমন্বয় সাধনের জন্য প্রচেষ্টা করা আবশ্যক, বিশেষ করে জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং বিশেষ প্রতিনিধি এবং আরব রাষ্ট্রসমূহের লীগের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে।

তৃতীয়ত, পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে সংঘাত-পরবর্তী শান্তি বিনির্মাণে লীগ এবং এর সদস্যদের সাথে সম্পৃক্ততা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

চতুর্থত, সংশ্লিষ্ট দেশ ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের, বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের কল্যাণ নিশ্চিত করা, এই ধরনের সকল প্রচেষ্টার অগ্রভাগে থাকা উচিত।

এসবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন শ্রিংলা। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

জাতিসংঘ-আরব লীগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চাই: শ্রিংলা

প্রকাশ: ০৬:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ মার্চ ২০২২

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে আরব দেশগুলোর সঙ্গে জাতিসংঘের আলোচনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত এ কাজে সব রকম সহযোগিতায় প্রস্তুত। গত ২৩ মার্চ, বুধবার, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার ‘জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর (আরব লীগ) মধ্যকার সহযোগিতা’- শীর্ষক বৈঠকে এমনই মন্তব্য করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

বক্তব্য প্রদানকালে অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক বলেন, “আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের প্রচেষ্টায় আরব দেশগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব চালিয়ে যাবে ভারত। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের প্রচারেও আরব দেশগুলোর পাশেই থাকবে ভারত।”

শ্রিংলা বলেন, “এক সহস্রাব্দেরও বেশি সময় ধরে আরব বিশ্ব মানব সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রস্থল। এর কৌশলগত অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে আরব বিশ্বের উন্নয়ন আমাদের ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে এবং তারা বিশ্বব্যাপী গভীর প্রভাব ফেলেছে।”

ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব যোগ করেন, “আজ এই অঞ্চল যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এবং আমরা কীভাবে সেগুলোকে মোকাবেলা করব, তা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।”

শ্রিংলা বলেন, “ভারত এবং আরব বিশ্বের মধ্যে একটি সভ্যতার সম্পর্ক রয়েছে, যা আমাদের জনগণের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক এবং বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।”

আরব বিশ্বের সঙ্গে ভারতের গভীর সম্পর্ক ব্যখ্যা করে তিনি বলেন, “ভারত মহাসাগরের মধ্য দিয়ে ভারত ও আরব অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য আধুনিক বাণিজ্যের আবির্ভাবের আগেও কয়েক শতাব্দী ধরে বিকাশ লাভ করেছিল। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, আরব বিশ্বের কিছু অংশে ভারতীয় রুপি দিয়ে আইনি দরপত্র নেয়ার প্রচলন ছিলো।”

শ্রিংলা জানান, “আজ আরব বিশ্বের দেশগুলো ০৯ মিলিয়নেরও বেশি ভারতীয়দের আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং এই দেশগুলোর সাথে ভারতের বিস্তৃত অংশীদারিত্ব মানুষের প্রচেষ্টার প্রতিটি দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। কৃষি, ব্যবসা, বাণিজ্য এবং শিক্ষা থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্ন শক্তি, সন্ত্রাসবাদ এবং নতুন প্রযুক্তি সব ক্ষেত্রে আমাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে।”

তাছাড়া, ভারত এবং আরব রাষ্ট্রসমূহ ভবিষ্যতের জন্য একটি অংশীদারিত্ব গঠনের উদ্দেশ্যে নিয়মিত সংলাপ প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য দুই দশক আগে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলো বলেও জানান শ্রিংলা। একই সাথে, এশিয়া জুড়ে জনগণের স্বার্থে, বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য শান্তির জন্য আরব লীগ আরও জোরদার ভূমিকা নিতে পারে বলে অভিমত দেন তিনি। এতে ভারত সর্বোচ্চ সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।

এজন্য চারটি প্রস্তাবও পেশ করেছেন তিনি। সেগুলো যথাক্রমে,

প্রথমত, ভারত এবং আরব লীগের মধ্যে বৃহত্তর নীতিগত সমন্বয় থাকতে হবে।

শ্রিংলা বলেন, “এই অঞ্চলে শান্তি উদ্যোগের বিষয়ে আরব রাষ্ট্রের লীগ এবং এর সদস্যদের সাথে নিয়মিত এবং ঘন ঘন আলোচনা সাধারণ সমাধান এবং অর্থপূর্ণ ফলাফল অর্জনে অবদান রাখবে।”

দ্বিতীয়ত, মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সমন্বয় সাধনের জন্য প্রচেষ্টা করা আবশ্যক, বিশেষ করে জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং বিশেষ প্রতিনিধি এবং আরব রাষ্ট্রসমূহের লীগের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে।

তৃতীয়ত, পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে সংঘাত-পরবর্তী শান্তি বিনির্মাণে লীগ এবং এর সদস্যদের সাথে সম্পৃক্ততা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

চতুর্থত, সংশ্লিষ্ট দেশ ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের, বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের কল্যাণ নিশ্চিত করা, এই ধরনের সকল প্রচেষ্টার অগ্রভাগে থাকা উচিত।

এসবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন শ্রিংলা। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক