০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গ্রীক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে জয়শঙ্কর

গ্রীক পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস ডেন্ডিয়াসের সাথে প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ২৩ মার্চ, বুধবার, দু দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্কের সার্বিক অবস্থান নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছেন দুই নেতা। পরবর্তীতে তথ্যটি নিশ্চিত করে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর।

এক বিবৃতিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়, কৌশলগত অংশীদারিত্বে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন জয়শঙ্কর এবং ডেন্ডিয়াস। উভয় পক্ষই নতুন ভূ-রাজনৈতিক এবং ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করেছে।

বার্তায় আরও বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, পূর্ব ভূমধ্যসাগর, আফগানিস্তান এবং ইউক্রেন সংক্রান্ত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে উভয় নেতার বৈঠকে। এসময়, জয়শঙ্করকে আন্তর্জাতিক সৌর জোটের ফ্রেমওয়ার্কে স্বাক্ষর করতে গ্রীসের অনুমোদনের কপিও হস্তান্তর করেন ডেন্ডিয়াস।

এর আগে দু দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত এসেছেন গ্রীসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস ডেন্ডিয়াস। ২২ এবং ২৩ মার্চ দুদিনব্যাপী প্রথমবারের মতো ভারতে অবস্থান করবেন তিনি। সফরকালে ভারতীয় উপ-রাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডুর সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও রয়েছে তাঁর।

এ নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিলো, এর আগে গত বছর জুন মাসে গ্রীস সফর করেছিলেন জয়শঙ্কর। সেসময়, ডেন্ডিয়াসকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। উভয়ের এই সফরের ফলে দু দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুসংহত ও শক্তিশালী হয়েছে বলে ধারণা করছে বোদ্ধামহল।

উল্লেখ্য, ভারত পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং গ্রীস পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন গণতন্ত্র। ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দু দেশের। উভয় রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে ব্যাপক ও দৃঢ় বন্ধন রয়েছে।

এদিকে, বৈশ্বিক ও বহুপাক্ষিক বিভিন্ন ইস্যু ও ফোরামে প্রায়শই এঁকে অন্যকে সমর্থন দিয়ে থাকে গ্রীস ও ভারত। সাইপ্রাস ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার সহ বিভিন্ন ইস্যুতে একমত হয়ে দীর্ঘদিন যাবত দাবি জানিয়ে আসছে দেশ দুটো।

ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের যে কয়টি রাষ্ট্রের সমর্থন লাভ করে থাকে, গ্রীস তাদের অন্যতম। ১৯৮৫ সালে দিল্লীতে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত ছয় দফা ঘোষণায় ভারতকে সমর্থন জানিয়ে অংশ নিয়েছিল গ্রীসও।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ বৈঠকে যোগ দিতে গ্রীস গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেসময় গ্রীক প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিসের সাথে দেখা করেছিলেন তিনি। তাছাড়া, ভারতের পুলওয়ামাতে হামলার সময় নয়াদিল্লীর সমর্থনে কথা বলেছিলো এথেন্স। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

গ্রীক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে জয়শঙ্কর

প্রকাশ: ০৬:১৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ মার্চ ২০২২

গ্রীক পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস ডেন্ডিয়াসের সাথে প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ২৩ মার্চ, বুধবার, দু দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্কের সার্বিক অবস্থান নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছেন দুই নেতা। পরবর্তীতে তথ্যটি নিশ্চিত করে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর।

এক বিবৃতিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়, কৌশলগত অংশীদারিত্বে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন জয়শঙ্কর এবং ডেন্ডিয়াস। উভয় পক্ষই নতুন ভূ-রাজনৈতিক এবং ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করেছে।

বার্তায় আরও বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, পূর্ব ভূমধ্যসাগর, আফগানিস্তান এবং ইউক্রেন সংক্রান্ত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে উভয় নেতার বৈঠকে। এসময়, জয়শঙ্করকে আন্তর্জাতিক সৌর জোটের ফ্রেমওয়ার্কে স্বাক্ষর করতে গ্রীসের অনুমোদনের কপিও হস্তান্তর করেন ডেন্ডিয়াস।

এর আগে দু দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত এসেছেন গ্রীসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস ডেন্ডিয়াস। ২২ এবং ২৩ মার্চ দুদিনব্যাপী প্রথমবারের মতো ভারতে অবস্থান করবেন তিনি। সফরকালে ভারতীয় উপ-রাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডুর সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও রয়েছে তাঁর।

এ নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিলো, এর আগে গত বছর জুন মাসে গ্রীস সফর করেছিলেন জয়শঙ্কর। সেসময়, ডেন্ডিয়াসকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। উভয়ের এই সফরের ফলে দু দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুসংহত ও শক্তিশালী হয়েছে বলে ধারণা করছে বোদ্ধামহল।

উল্লেখ্য, ভারত পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং গ্রীস পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন গণতন্ত্র। ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দু দেশের। উভয় রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে ব্যাপক ও দৃঢ় বন্ধন রয়েছে।

এদিকে, বৈশ্বিক ও বহুপাক্ষিক বিভিন্ন ইস্যু ও ফোরামে প্রায়শই এঁকে অন্যকে সমর্থন দিয়ে থাকে গ্রীস ও ভারত। সাইপ্রাস ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার সহ বিভিন্ন ইস্যুতে একমত হয়ে দীর্ঘদিন যাবত দাবি জানিয়ে আসছে দেশ দুটো।

ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের যে কয়টি রাষ্ট্রের সমর্থন লাভ করে থাকে, গ্রীস তাদের অন্যতম। ১৯৮৫ সালে দিল্লীতে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত ছয় দফা ঘোষণায় ভারতকে সমর্থন জানিয়ে অংশ নিয়েছিল গ্রীসও।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ বৈঠকে যোগ দিতে গ্রীস গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেসময় গ্রীক প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিসের সাথে দেখা করেছিলেন তিনি। তাছাড়া, ভারতের পুলওয়ামাতে হামলার সময় নয়াদিল্লীর সমর্থনে কথা বলেছিলো এথেন্স। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক