০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ভারতের জিআই পণ্য

বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান বিবেচনায় দার্জিলিং চা এবং বাসমতি চাল নিঃসন্দেহে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটো জিআই পণ্য। কিন্তু, এই দুটো কৃষিজ পণ্য ছাড়াও বিগত কয়েক বছরে আরও অনেকগুলো নতুন পণ্য রপ্তানিকারকদের পছন্দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

দেখা গিয়েছে, এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড প্রসেসড ফুড এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এপিইডিএ) ‘কালা’ নামক এক প্রকার চাল, নাগা মির্চা, আসাম কাজি নেমু এবং ব্যাঙ্গালোর রোজ পেঁয়াজের মতো পণ্যের জন্য নতুন বৈশ্বিক বাজারে ট্রায়াল শিপমেন্টের সুবিধা দিচ্ছে।

এছাড়া, ভৌগলিক নির্দেশক স্বীকৃতি প্রাপ্ত নাগপুর কমলা, জিআই জাতের আম, জিআই-ট্যাগযুক্ত শাহী লিচু, ভালিয়া গম, মাদুরাই মাল্লি, বর্ধমান মিহিদানা এবং সীতাভোগ, ডাহানু ঘোলভাদ সাপোতা, জলগাঁও কলা, ভাজাকুলাম আনারস এবং মারায়ুর গুড়ের মতো অন্যান্য পণ্য আভ্যন্তরীণ ব্যবহারের পাশাপাশি সমানতালে রপ্তানিও করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভারতে প্রায় ৪১৭ টি নিবন্ধিত জিআই পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০টি পণ্যই কৃষি ও খাদ্য পণ্য। ১৭ মার্চ, বৃহস্পতিবার, ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।

বিবৃতি মোতাবেক, প্রায় ১০০ টির বেশি জিআই পণ্য এপিইডিএ নির্ধারিত পণ্যের অধীনে রয়েছে। যেমনঃ শস্য, তাজা ফল এবং শাকসবজি, প্রক্রিয়াজাত পণ্য ইত্যাদি। বিগত বছরগুলোতে জিআই পণ্য কর্তৃক রপ্তানি বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

সেখানে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে জিআই পণ্যসমূহের উল্লেখযোগ্য চালানের মধ্যে রয়েছে নাগাল্যান্ড থেকে যুক্তরাজ্যে নাগা মির্চা (রাজা মরিচ), মণিপুর এবং আসাম থেকে যুক্তরাজ্যে কালো চাল, যুক্তরাজ্য এবং ইতালিতে আসাম লেবু, তিনটি জিআই জাতের আম (ফজলি, পশ্চিমবঙ্গের খিরসাপাতি, এবং লক্ষ্মণভোগ), বিহার থেকে বাহরাইন এবং কাতারে একটি জিআই জাতের আম (জারদালু)।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকে জয়নগর মোয়ার (একটি মিষ্টিজাতীয় খাবার) প্রায় ৩০ কেজির একটি নমুনা চালান কলকাতা বিমানবন্দরের মাধ্যমে বাহরাইনে পাঠানো হয়েছে। নমুনা চালানের পর, বাহরাইন থেকে জয়নগর মোয়ার আরও অর্ডার পাওয়া গেছে।

এদিকে, ৫২৪ কেজি জিআই ট্যাগযুক্ত শাহী লিচুর প্রথম চালান বিহারের মুজাফফরপুর জেলা থেকে ২০২১ সালের মে মাসে লন্ডনে রপ্তানি করা হয়েছিল। অন্ধ্র প্রদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় জিআই ট্যাগযুক্ত বনগানাপাল্লে আম রপ্তানি করা হয়েছিলো।

২০২১ সালের জুনে, ১০৪৮ কেজি জিআই ট্যাগড মালিহাবাদী দুসেহেরি আমের সিজনের প্রথম চালান লখনউ থেকে যুক্তরাজ্য এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত রপ্তানি করা হয়েছিল।

অন্যান্য অঞ্চলের জিআই পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সাংলি কিশমিশ, নাগপুর কমলা, ডাহানু ঘোলভাদ চিকু, মারাঠওয়াড়া কেসার আম, মহারাষ্ট্রের জলগাঁও কলা, ওড়িশার কান্ধমাল হলুদ এবং কর্ণাটক থেকে ব্যাঙ্গালোর রোজ অনিয়ন, এলাহাবাদ সুরখা পেয়ারা, উত্তর প্রদেশের কালানামাক চাল এবং তামিলনাড়ুর মাদুরাই মল্লি।

উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের অনন্য জিআই পণ্য যেমন মণিপুর ব্ল্যাক রাইস (চক-হাও), মণিপুর কাচাই লেবু, মিজো মরিচ, অরুণাচল কমলা, মেঘালয় এর খাসি ম্যান্ডারিন, আসাম কাজি নেমু, কার্বি অ্যাংলং জিঞ্জার, জোহা রাইস, এবং ত্রিপুরা রানীর প্রচার করার জন্য আনারস কেন্দ্র এপিইডিএ-এর মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠকের আয়োজন করছে।

উল্লেখ্য, ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ উৎপাদকদের পণ্যের স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠা দেয়। এতে অন্য দেশের সমজাতীয় পণ্য থেকে তাদের পণ্য আলাদাভাবে চেনা যায়। এর ফলে তাদের এই পণ্যের আলাদা রেপুটেশন তৈরি হয়। বিশ্ববাজারে উৎপদনকারীরা পণ্যের জন্য ভালো দাম পান।

ট্রেডমার্কের সঙ্গে এর পার্থক্য হলো—ট্রেডমার্ক কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিতে পারেন কিন্তু ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ একটি দেশ প্যাটেন্ট করতে পারে। যা সেই দেশের পণ্য হিসেবে বিশ্ববাজারে পরিচিতি পাবে। এতে স্থানীয় উৎপাদকরা ভালো দাম পাবেন। মোট কথা জিআই পণ্য কোনও দেশ আমদানি করতে চাইলে তাহলে উৎপাদনকারী দেশকে একটি নির্ধারিত হারে রয়েলটি পরিশোধ করতে হবে। যা জিআই সনদ না পাওয়া পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় না। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ভারতের জিআই পণ্য

প্রকাশ: ০৩:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ ২০২২

বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান বিবেচনায় দার্জিলিং চা এবং বাসমতি চাল নিঃসন্দেহে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটো জিআই পণ্য। কিন্তু, এই দুটো কৃষিজ পণ্য ছাড়াও বিগত কয়েক বছরে আরও অনেকগুলো নতুন পণ্য রপ্তানিকারকদের পছন্দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

দেখা গিয়েছে, এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড প্রসেসড ফুড এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এপিইডিএ) ‘কালা’ নামক এক প্রকার চাল, নাগা মির্চা, আসাম কাজি নেমু এবং ব্যাঙ্গালোর রোজ পেঁয়াজের মতো পণ্যের জন্য নতুন বৈশ্বিক বাজারে ট্রায়াল শিপমেন্টের সুবিধা দিচ্ছে।

এছাড়া, ভৌগলিক নির্দেশক স্বীকৃতি প্রাপ্ত নাগপুর কমলা, জিআই জাতের আম, জিআই-ট্যাগযুক্ত শাহী লিচু, ভালিয়া গম, মাদুরাই মাল্লি, বর্ধমান মিহিদানা এবং সীতাভোগ, ডাহানু ঘোলভাদ সাপোতা, জলগাঁও কলা, ভাজাকুলাম আনারস এবং মারায়ুর গুড়ের মতো অন্যান্য পণ্য আভ্যন্তরীণ ব্যবহারের পাশাপাশি সমানতালে রপ্তানিও করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভারতে প্রায় ৪১৭ টি নিবন্ধিত জিআই পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০টি পণ্যই কৃষি ও খাদ্য পণ্য। ১৭ মার্চ, বৃহস্পতিবার, ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।

বিবৃতি মোতাবেক, প্রায় ১০০ টির বেশি জিআই পণ্য এপিইডিএ নির্ধারিত পণ্যের অধীনে রয়েছে। যেমনঃ শস্য, তাজা ফল এবং শাকসবজি, প্রক্রিয়াজাত পণ্য ইত্যাদি। বিগত বছরগুলোতে জিআই পণ্য কর্তৃক রপ্তানি বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

সেখানে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে জিআই পণ্যসমূহের উল্লেখযোগ্য চালানের মধ্যে রয়েছে নাগাল্যান্ড থেকে যুক্তরাজ্যে নাগা মির্চা (রাজা মরিচ), মণিপুর এবং আসাম থেকে যুক্তরাজ্যে কালো চাল, যুক্তরাজ্য এবং ইতালিতে আসাম লেবু, তিনটি জিআই জাতের আম (ফজলি, পশ্চিমবঙ্গের খিরসাপাতি, এবং লক্ষ্মণভোগ), বিহার থেকে বাহরাইন এবং কাতারে একটি জিআই জাতের আম (জারদালু)।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকে জয়নগর মোয়ার (একটি মিষ্টিজাতীয় খাবার) প্রায় ৩০ কেজির একটি নমুনা চালান কলকাতা বিমানবন্দরের মাধ্যমে বাহরাইনে পাঠানো হয়েছে। নমুনা চালানের পর, বাহরাইন থেকে জয়নগর মোয়ার আরও অর্ডার পাওয়া গেছে।

এদিকে, ৫২৪ কেজি জিআই ট্যাগযুক্ত শাহী লিচুর প্রথম চালান বিহারের মুজাফফরপুর জেলা থেকে ২০২১ সালের মে মাসে লন্ডনে রপ্তানি করা হয়েছিল। অন্ধ্র প্রদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় জিআই ট্যাগযুক্ত বনগানাপাল্লে আম রপ্তানি করা হয়েছিলো।

২০২১ সালের জুনে, ১০৪৮ কেজি জিআই ট্যাগড মালিহাবাদী দুসেহেরি আমের সিজনের প্রথম চালান লখনউ থেকে যুক্তরাজ্য এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত রপ্তানি করা হয়েছিল।

অন্যান্য অঞ্চলের জিআই পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সাংলি কিশমিশ, নাগপুর কমলা, ডাহানু ঘোলভাদ চিকু, মারাঠওয়াড়া কেসার আম, মহারাষ্ট্রের জলগাঁও কলা, ওড়িশার কান্ধমাল হলুদ এবং কর্ণাটক থেকে ব্যাঙ্গালোর রোজ অনিয়ন, এলাহাবাদ সুরখা পেয়ারা, উত্তর প্রদেশের কালানামাক চাল এবং তামিলনাড়ুর মাদুরাই মল্লি।

উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের অনন্য জিআই পণ্য যেমন মণিপুর ব্ল্যাক রাইস (চক-হাও), মণিপুর কাচাই লেবু, মিজো মরিচ, অরুণাচল কমলা, মেঘালয় এর খাসি ম্যান্ডারিন, আসাম কাজি নেমু, কার্বি অ্যাংলং জিঞ্জার, জোহা রাইস, এবং ত্রিপুরা রানীর প্রচার করার জন্য আনারস কেন্দ্র এপিইডিএ-এর মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠকের আয়োজন করছে।

উল্লেখ্য, ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ উৎপাদকদের পণ্যের স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠা দেয়। এতে অন্য দেশের সমজাতীয় পণ্য থেকে তাদের পণ্য আলাদাভাবে চেনা যায়। এর ফলে তাদের এই পণ্যের আলাদা রেপুটেশন তৈরি হয়। বিশ্ববাজারে উৎপদনকারীরা পণ্যের জন্য ভালো দাম পান।

ট্রেডমার্কের সঙ্গে এর পার্থক্য হলো—ট্রেডমার্ক কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিতে পারেন কিন্তু ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ একটি দেশ প্যাটেন্ট করতে পারে। যা সেই দেশের পণ্য হিসেবে বিশ্ববাজারে পরিচিতি পাবে। এতে স্থানীয় উৎপাদকরা ভালো দাম পাবেন। মোট কথা জিআই পণ্য কোনও দেশ আমদানি করতে চাইলে তাহলে উৎপাদনকারী দেশকে একটি নির্ধারিত হারে রয়েলটি পরিশোধ করতে হবে। যা জিআই সনদ না পাওয়া পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় না। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক