০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ব্রহ্মপুত্রে যাত্রা করা দীর্ঘতম জাহাজ এমভি রাম প্রসাদ বিসমিল

আসামের ব্রহ্মপুত্র নদে যাত্রা করা দীর্ঘতম জাহাজের তালিকায় নাম লেখালো মটর ভেসেল রাম প্রসাদ বিসমিল। ১৫ মার্চ, মঙ্গলবার, আসামের গুয়াহাটির পান্ডু বন্দরে নোঙর করে জাহাজটি। জাহাজটি প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ, ২৬ মিটার চওড়া।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারী, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার হলদিয়ার শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দর থেকে আব্দুল কালাম ও কল্পনা চাওলা নামে দুটি বার্জ নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ হয়ে অতঃপর আসাম পৌছালো জাহাজটি। এদিন হলদিয়া বন্দরের ১৩ নম্বর বার্থে পতাকা নেড়ে বার্জ দুটির যাত্রার সূচনা করেন জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল এবং জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।

দুটি বার্জে মূলত ১৭৯৩ টন স্টিল বোঝাই করে জামশেদপুরের টাটা স্টিল থেকে আসামে পৌছে দেয়া হয় জাহাজটির মাধ্যমে। সেসময়, টাটা স্টিলের কর্তা জানিয়েছিলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের দ্রুত উন্নয়ন ঘটছে, সেজন্য প্রতিমাসে ২০ হাজার টন স্টিলের প্রয়োজন হয় ওই এলাকায়। রেল বা সড়কপথে স্টিল পৌঁছতে সময় ও খরচ দুই-ই বেশি লাগে। সেজন্য বিকল্প নদীপথে টাটারা হলদিয়া থেকে নিয়মিত উত্তর-পূর্ব ভারতে স্টিল পাঠাবে।

উল্লেখ্য,  হলদিয়া বন্দর থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে পণ্য চলাচলের ক্ষেত্রে নদীপথ শুধু বিকল্প রুট নয়, এই যোগসূত্র ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। বাংলাদেশের জলপথ ব্যবহার করে আসাম সহ ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে নিয়মিত পণ্য যাতায়াত শুরু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও পাকাপোক্ত হচ্ছে।

কারণ, দু’দেশের অভ্যন্তরীণ নদীপথ ব্যবহারের ফলে অর্থনৈতিক লাভ করছে দুই দেশই। দু’দেশের অভ্যন্তরীণ জলপথ অর্থাৎ ইন্দো-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট এখন দু’দেশের জিও পলিটিক্যাল বা ভূ-কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করার মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে। এমন মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালও। তিনি বলেন, এই জলপথ দু দেশের কাছেই ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ তৈরি করেছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নে সড়ক, রেলপথের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে নদীপথে পণ্য পরিবহণে গুরুত্ব বাড়াচ্ছে ভারতের জাহাজমন্ত্রক। এজন্য হলদিয়া ও কলকাতা বন্দরকে পাখির চোখ করা হয়েছে। হলদিয়া বা কলকাতা থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে পৌঁছতে গেলে বাংলাদেশের মধ্যেকার নদীপথ ব্যবহার করতে হয়।

এই রুটের একটা অংশ ইন্দো বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট এবং অন্যটি ব্রহ্মপুত্র নদীর জাতীয় জলপথ ২। এই নদীপথে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে নাব্যতা একটি বড় সমস্যা। দীর্ঘ নদীপথে গভীরতা কম থাকায় বার্জে ৪ হাজার টনের জায়গায় মাত্র দেড়-দু হাজার টন পণ্য পরিবহণ সম্ভব হয়। নদীতে ড্রেজিং না হওয়ায় সমস্যা আরও বাড়ছে। প্রোটোকল রুটে পণ্য পরিবহণে নাব্যতা সমস্যার কথা এদিন স্বীকার করেন জাহাজ মন্ত্রী।

নির্বিঘ্ন ন্যাভিগেশনের জন্য ভারত এবং বাংলাদেশ সরকার যথাক্রমে ৮০:২০ অনুপাত সহ এই প্রসারিত ড্রেজিংকে সমর্থন করেছিল। ভারতের অভ্যন্তরীণ জলপথ কর্তৃপক্ষ (আইডব্লিউএআই) এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জল পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সকলেই এই ঐতিহাসিক কার্গো পরিবহন যাতে সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য একসাথে কাজ করেছে।

এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল বলেন, “যেহেতু ব্রহ্মপুত্রের উপর দিয়ে চলা এই দীর্ঘতম জাহাজের চালনা আজ পান্ডুতে নোঙর করতে সফল হয়েছে, আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমরা সফল হয়েছি। আমাদের অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। তাদের সমর্থন ছাড়া এটা সম্ভব হতো না। আমি আমাদের জনগণের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। পরিবহনের অন্যতম সেরা পদ্ধতির পুনরুজ্জীবন এবং পারস্পরিক সুবিধা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ দেওয়ার জন্য আমাদের সমর্থন করার জন্য।”

আসামের অর্থনৈতিক ইতিহাসের এই জলাবদ্ধতার মুহূর্তে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সোনোয়াল যোগ করেছেন, “আসামের জনগণের জন্য ব্রহ্মপুত্র হল জীবনরেখা”।

এর আগে প্রথমবারের মতো বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে বাংলাদেশ হয়ে আসামের পান্ডু পৌঁছেছে ভারতের পণ্যবাহী কার্গো ভেসেল বা পণ্যবাহী জাহাজ। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের জলপথে এ ধরণের নিয়মিত নৌযান আসাম তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আগেই জানিয়েছিলো বোদ্ধামহল। গত ০৬ মার্চ, রবিবার, জাহাজটি গুয়াহাটির পাণ্ডুতে পৌছায়। ভারতের এমভি লালবাহাদুর শাস্ত্রী নামের কার্গো ভেসেলের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয় এ পরিষেবা। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

ব্রহ্মপুত্রে যাত্রা করা দীর্ঘতম জাহাজ এমভি রাম প্রসাদ বিসমিল

প্রকাশ: ০৩:০০:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ ২০২২

আসামের ব্রহ্মপুত্র নদে যাত্রা করা দীর্ঘতম জাহাজের তালিকায় নাম লেখালো মটর ভেসেল রাম প্রসাদ বিসমিল। ১৫ মার্চ, মঙ্গলবার, আসামের গুয়াহাটির পান্ডু বন্দরে নোঙর করে জাহাজটি। জাহাজটি প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ, ২৬ মিটার চওড়া।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারী, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার হলদিয়ার শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দর থেকে আব্দুল কালাম ও কল্পনা চাওলা নামে দুটি বার্জ নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ হয়ে অতঃপর আসাম পৌছালো জাহাজটি। এদিন হলদিয়া বন্দরের ১৩ নম্বর বার্থে পতাকা নেড়ে বার্জ দুটির যাত্রার সূচনা করেন জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল এবং জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।

দুটি বার্জে মূলত ১৭৯৩ টন স্টিল বোঝাই করে জামশেদপুরের টাটা স্টিল থেকে আসামে পৌছে দেয়া হয় জাহাজটির মাধ্যমে। সেসময়, টাটা স্টিলের কর্তা জানিয়েছিলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের দ্রুত উন্নয়ন ঘটছে, সেজন্য প্রতিমাসে ২০ হাজার টন স্টিলের প্রয়োজন হয় ওই এলাকায়। রেল বা সড়কপথে স্টিল পৌঁছতে সময় ও খরচ দুই-ই বেশি লাগে। সেজন্য বিকল্প নদীপথে টাটারা হলদিয়া থেকে নিয়মিত উত্তর-পূর্ব ভারতে স্টিল পাঠাবে।

উল্লেখ্য,  হলদিয়া বন্দর থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে পণ্য চলাচলের ক্ষেত্রে নদীপথ শুধু বিকল্প রুট নয়, এই যোগসূত্র ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। বাংলাদেশের জলপথ ব্যবহার করে আসাম সহ ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে নিয়মিত পণ্য যাতায়াত শুরু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও পাকাপোক্ত হচ্ছে।

কারণ, দু’দেশের অভ্যন্তরীণ নদীপথ ব্যবহারের ফলে অর্থনৈতিক লাভ করছে দুই দেশই। দু’দেশের অভ্যন্তরীণ জলপথ অর্থাৎ ইন্দো-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট এখন দু’দেশের জিও পলিটিক্যাল বা ভূ-কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করার মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে। এমন মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালও। তিনি বলেন, এই জলপথ দু দেশের কাছেই ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ তৈরি করেছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নে সড়ক, রেলপথের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে নদীপথে পণ্য পরিবহণে গুরুত্ব বাড়াচ্ছে ভারতের জাহাজমন্ত্রক। এজন্য হলদিয়া ও কলকাতা বন্দরকে পাখির চোখ করা হয়েছে। হলদিয়া বা কলকাতা থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে পৌঁছতে গেলে বাংলাদেশের মধ্যেকার নদীপথ ব্যবহার করতে হয়।

এই রুটের একটা অংশ ইন্দো বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট এবং অন্যটি ব্রহ্মপুত্র নদীর জাতীয় জলপথ ২। এই নদীপথে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে নাব্যতা একটি বড় সমস্যা। দীর্ঘ নদীপথে গভীরতা কম থাকায় বার্জে ৪ হাজার টনের জায়গায় মাত্র দেড়-দু হাজার টন পণ্য পরিবহণ সম্ভব হয়। নদীতে ড্রেজিং না হওয়ায় সমস্যা আরও বাড়ছে। প্রোটোকল রুটে পণ্য পরিবহণে নাব্যতা সমস্যার কথা এদিন স্বীকার করেন জাহাজ মন্ত্রী।

নির্বিঘ্ন ন্যাভিগেশনের জন্য ভারত এবং বাংলাদেশ সরকার যথাক্রমে ৮০:২০ অনুপাত সহ এই প্রসারিত ড্রেজিংকে সমর্থন করেছিল। ভারতের অভ্যন্তরীণ জলপথ কর্তৃপক্ষ (আইডব্লিউএআই) এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জল পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সকলেই এই ঐতিহাসিক কার্গো পরিবহন যাতে সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য একসাথে কাজ করেছে।

এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল বলেন, “যেহেতু ব্রহ্মপুত্রের উপর দিয়ে চলা এই দীর্ঘতম জাহাজের চালনা আজ পান্ডুতে নোঙর করতে সফল হয়েছে, আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমরা সফল হয়েছি। আমাদের অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। তাদের সমর্থন ছাড়া এটা সম্ভব হতো না। আমি আমাদের জনগণের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। পরিবহনের অন্যতম সেরা পদ্ধতির পুনরুজ্জীবন এবং পারস্পরিক সুবিধা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ দেওয়ার জন্য আমাদের সমর্থন করার জন্য।”

আসামের অর্থনৈতিক ইতিহাসের এই জলাবদ্ধতার মুহূর্তে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সোনোয়াল যোগ করেছেন, “আসামের জনগণের জন্য ব্রহ্মপুত্র হল জীবনরেখা”।

এর আগে প্রথমবারের মতো বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে বাংলাদেশ হয়ে আসামের পান্ডু পৌঁছেছে ভারতের পণ্যবাহী কার্গো ভেসেল বা পণ্যবাহী জাহাজ। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের জলপথে এ ধরণের নিয়মিত নৌযান আসাম তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আগেই জানিয়েছিলো বোদ্ধামহল। গত ০৬ মার্চ, রবিবার, জাহাজটি গুয়াহাটির পাণ্ডুতে পৌছায়। ভারতের এমভি লালবাহাদুর শাস্ত্রী নামের কার্গো ভেসেলের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয় এ পরিষেবা। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক