০৫:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিপদের বন্ধু ভারত-শ্রীলঙ্কা

মিহির ভোসলে: গত কয়েক মাস ধরেই প্রসারিত ও দৃঢ় হচ্ছে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক। নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের সফর, দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে এঁকে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে পারস্পরিক সম্পর্কের এই অকৃত্রিম বন্ধন! বিশেষ করে, লঙ্কান অর্থনীতির দুরাবস্থাকালীন সময়ে ভারত যেভাবে দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছে, আবার বৈশ্বিক যেকোনো ইস্যুতে শ্রীলঙ্কা যেভাবে ভারতকে সমর্থন দিয়েছে, তাতে উভয় রাষ্ট্রকে বিপদের বন্ধু হিসেবে চিহ্নিত করা ছাড়া উপায় নেই। এর কিছু ক্ষেত্র সম্পর্কে একবার চোখ বুলিয়ে নিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাবে।

 

বিপদের বন্ধু

ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের জনগণের মধ্যকার কৃষ্টি ও কালচারেও ব্যাপক মিল রয়েছে। একইভাবে মিল রয়েছে উভয় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের চিন্তাধারাতেও। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহের শেষদিকে আবারও নয়াদিল্লী সফরে আসবেন লঙ্কান অর্থমন্ত্রি বাসিল রাজাপাক্ষে। বিগত তিন মাসের মধ্যে যা ভারতে তাঁর দ্বিতীয় সফর।

গত সপ্তাহেও অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাক্ষের সঙ্গে টেলিফোন বৈঠকে বসেছিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেসময়, শ্রীলঙ্কাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে সমর্থন দেয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মোদী মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী। তারও আগে, গত মাসে নয়াদিল্লীতে বৈঠকে বসেছিলেন লঙ্কান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিএল পিরিস। সেসময়ও একই আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন জয়শঙ্কর।

তাছাড়া, শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির সাম্প্রতিক খারাপ সময়ে এর উন্নতিকল্পে ভারত সম্ভাব্য সকল উদ্যোগই গ্রহণ করেছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও লঙ্কার জন্য ভারতের প্রতিবেশী প্রথম নীতি প্রয়োগ করেছেন।

 

অর্থনৈতিক সহযোগিতা

লঙ্কান অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাক্ষের আসন্ন দিল্লী সফরেও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উক্ত অর্থ শ্রীলঙ্কাকে খাদ্য, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহ প্রয়োজনীয় ওষুধ আমদানীতেও সহায়তা করবে।

গত ডিসেম্বরেও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বন্ধন দৃঢ় করতে একটি চার-দফা প্যাকেজ চূড়ান্ত করে ভারত এবং শ্রীলঙ্কা। এর মাঝে ভারতের তরফে শ্রীলঙ্কাকে দেয়া লাইন অব ক্রেডিটের সম্প্রসারণ এবং মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গিয়েছিলো।

আর্থিক সহযোগিতার চার দফা প্যাকেজটি যথাক্রমে, প্রথমত, জরুরী ভিত্তিতে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্যাকেজ, যা ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইটেম রপ্তানির ক্ষেত্রে ক্রেডিট লাইনের সম্প্রসারণকে নিশ্চিত করবে।

দ্বিতীয়ত, একটি এনার্জি সিকিউরিটি প্যাকেজ, যাতে ভারত থেকে জ্বালানি রপ্তানির জন্য একটি ক্রেডিট লাইন এবং ত্রিনকোমালি ট্যাঙ্ক ফার্মের প্রাথমিক আধুনিকীকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তৃতীয়ত, শ্রীলঙ্কাকে বর্তমান অর্থপ্রদানের ভারসাম্য সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সাহায্য করার জন্য একটি মুদ্রা অদলবদলের প্রস্তাব। চতুর্থত, শ্রীলঙ্কায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতীয় বিনিয়োগের সুবিধা দেওয়া, যা রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশটির বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে এবং কর্মসংস্থান প্রসারিত করবে। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

এছাড়া, শুরু থেকেই ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এবং জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে নয়াদিল্লী। এর মাঝে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন নিষ্পত্তির স্থগিতকরণ এর মাধ্যমে ৫০০ মিলিয়ন এবং বাকি ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নগদ আদান প্রদান করা হবে।

তাই বলাই বাহুল্য দু দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতাও ব্যাপক ঘনিষ্ঠ।

 

দীর্ঘমেয়াদী দ্বিপাক্ষিক প্রকল্পের পুনরুজ্জীবন

দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সাথে সাথে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক প্রকল্পগুলোও সামনে এসেছে। নতুন বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কার মন্ত্রীসভা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের কাছে ইজারা দেওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ৯৯ টি ত্রিনকোমালি তেল ট্যাঙ্ক ফার্ম বিকাশের জন্য ভারতের সাথে একটি চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে।

একইভাবে, গত সপ্তাহে ভারত ও শ্রীলঙ্কা দ্বীপ-দেশের পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর জেলা ত্রিনকোমালির সামপুরে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যেটি প্রথমে ২০০৬ সালে রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজাপাকসের অধীনে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে চালু করা হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা আটকে রেখেছিলেন।

জ্বালানি প্রকল্পের পাশাপাশি, গত মাসে শ্রীলঙ্কার মন্ত্রীসভা একক ডিজিটাল পরিচয় কাঠামো বাস্তবায়নে অনুদান পাওয়ার জন্য ভারতের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অনুমোদন দিয়েছে। দৃশ্যত, রাজাপাকসে সরকার জাতীয় স্তরের কর্মসূচি হিসাবে ভারতের আধার কার্ডের আদলে তৈরি ইউডিআই কাঠামো বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিবে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপাকসে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় ভারত সরকার একক ডিজিটাল পরিচয় কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য একটি অনুদান দিতে সম্মত হয়েছিল।

 

ভারতের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার ইমেজ পুনরুদ্ধারের রোডম্যাপ

ভারতে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত মিলিয়ান্ডা মোরাগোদা জানুয়ারিতে টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি রাজাপাকসে লঙ্কান অর্থনীতির পুনর্গঠন করার প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ভারত এই প্রক্রিয়ার মূল চাবিকাঠি হতে চলেছে।

আবার, ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে একটি থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাইকমিশনার মোরাগোদা বলেছিলেন, শ্রীলঙ্কা-ভারত সম্পর্ককে লেনদেনের পর্যায় থেকে একটি কৌশলগত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আটটি ক্ষেত্র তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় ঘোষিত চার স্তম্ভ-সহযোগিতা প্যাকেজের চতুর্থ স্তম্ভে এ বিষয়ে সবিস্তারে বলা আছে।

শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনারের বিবৃতি স্বভাবতই দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান পর্যায়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেয়। সর্বোপরি, দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে সম্ভাব্য কোনো প্রচেষ্টাই বাদ রাখছেন না ভারত ও শ্রীলংকার নীতি-নির্ধারকেরা। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

বিপদের বন্ধু ভারত-শ্রীলঙ্কা

প্রকাশ: ০২:৫০:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ মার্চ ২০২২

মিহির ভোসলে: গত কয়েক মাস ধরেই প্রসারিত ও দৃঢ় হচ্ছে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক। নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের সফর, দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে এঁকে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে পারস্পরিক সম্পর্কের এই অকৃত্রিম বন্ধন! বিশেষ করে, লঙ্কান অর্থনীতির দুরাবস্থাকালীন সময়ে ভারত যেভাবে দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছে, আবার বৈশ্বিক যেকোনো ইস্যুতে শ্রীলঙ্কা যেভাবে ভারতকে সমর্থন দিয়েছে, তাতে উভয় রাষ্ট্রকে বিপদের বন্ধু হিসেবে চিহ্নিত করা ছাড়া উপায় নেই। এর কিছু ক্ষেত্র সম্পর্কে একবার চোখ বুলিয়ে নিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাবে।

 

বিপদের বন্ধু

ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের জনগণের মধ্যকার কৃষ্টি ও কালচারেও ব্যাপক মিল রয়েছে। একইভাবে মিল রয়েছে উভয় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের চিন্তাধারাতেও। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহের শেষদিকে আবারও নয়াদিল্লী সফরে আসবেন লঙ্কান অর্থমন্ত্রি বাসিল রাজাপাক্ষে। বিগত তিন মাসের মধ্যে যা ভারতে তাঁর দ্বিতীয় সফর।

গত সপ্তাহেও অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাক্ষের সঙ্গে টেলিফোন বৈঠকে বসেছিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেসময়, শ্রীলঙ্কাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে সমর্থন দেয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মোদী মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী। তারও আগে, গত মাসে নয়াদিল্লীতে বৈঠকে বসেছিলেন লঙ্কান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিএল পিরিস। সেসময়ও একই আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন জয়শঙ্কর।

তাছাড়া, শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির সাম্প্রতিক খারাপ সময়ে এর উন্নতিকল্পে ভারত সম্ভাব্য সকল উদ্যোগই গ্রহণ করেছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও লঙ্কার জন্য ভারতের প্রতিবেশী প্রথম নীতি প্রয়োগ করেছেন।

 

অর্থনৈতিক সহযোগিতা

লঙ্কান অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাক্ষের আসন্ন দিল্লী সফরেও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উক্ত অর্থ শ্রীলঙ্কাকে খাদ্য, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহ প্রয়োজনীয় ওষুধ আমদানীতেও সহায়তা করবে।

গত ডিসেম্বরেও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বন্ধন দৃঢ় করতে একটি চার-দফা প্যাকেজ চূড়ান্ত করে ভারত এবং শ্রীলঙ্কা। এর মাঝে ভারতের তরফে শ্রীলঙ্কাকে দেয়া লাইন অব ক্রেডিটের সম্প্রসারণ এবং মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গিয়েছিলো।

আর্থিক সহযোগিতার চার দফা প্যাকেজটি যথাক্রমে, প্রথমত, জরুরী ভিত্তিতে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্যাকেজ, যা ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইটেম রপ্তানির ক্ষেত্রে ক্রেডিট লাইনের সম্প্রসারণকে নিশ্চিত করবে।

দ্বিতীয়ত, একটি এনার্জি সিকিউরিটি প্যাকেজ, যাতে ভারত থেকে জ্বালানি রপ্তানির জন্য একটি ক্রেডিট লাইন এবং ত্রিনকোমালি ট্যাঙ্ক ফার্মের প্রাথমিক আধুনিকীকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তৃতীয়ত, শ্রীলঙ্কাকে বর্তমান অর্থপ্রদানের ভারসাম্য সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সাহায্য করার জন্য একটি মুদ্রা অদলবদলের প্রস্তাব। চতুর্থত, শ্রীলঙ্কায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতীয় বিনিয়োগের সুবিধা দেওয়া, যা রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশটির বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে এবং কর্মসংস্থান প্রসারিত করবে। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

এছাড়া, শুরু থেকেই ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এবং জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে নয়াদিল্লী। এর মাঝে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন নিষ্পত্তির স্থগিতকরণ এর মাধ্যমে ৫০০ মিলিয়ন এবং বাকি ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নগদ আদান প্রদান করা হবে।

তাই বলাই বাহুল্য দু দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতাও ব্যাপক ঘনিষ্ঠ।

 

দীর্ঘমেয়াদী দ্বিপাক্ষিক প্রকল্পের পুনরুজ্জীবন

দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সাথে সাথে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক প্রকল্পগুলোও সামনে এসেছে। নতুন বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কার মন্ত্রীসভা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের কাছে ইজারা দেওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ৯৯ টি ত্রিনকোমালি তেল ট্যাঙ্ক ফার্ম বিকাশের জন্য ভারতের সাথে একটি চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে।

একইভাবে, গত সপ্তাহে ভারত ও শ্রীলঙ্কা দ্বীপ-দেশের পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর জেলা ত্রিনকোমালির সামপুরে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যেটি প্রথমে ২০০৬ সালে রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজাপাকসের অধীনে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে চালু করা হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা আটকে রেখেছিলেন।

জ্বালানি প্রকল্পের পাশাপাশি, গত মাসে শ্রীলঙ্কার মন্ত্রীসভা একক ডিজিটাল পরিচয় কাঠামো বাস্তবায়নে অনুদান পাওয়ার জন্য ভারতের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অনুমোদন দিয়েছে। দৃশ্যত, রাজাপাকসে সরকার জাতীয় স্তরের কর্মসূচি হিসাবে ভারতের আধার কার্ডের আদলে তৈরি ইউডিআই কাঠামো বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিবে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপাকসে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় ভারত সরকার একক ডিজিটাল পরিচয় কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য একটি অনুদান দিতে সম্মত হয়েছিল।

 

ভারতের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার ইমেজ পুনরুদ্ধারের রোডম্যাপ

ভারতে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত মিলিয়ান্ডা মোরাগোদা জানুয়ারিতে টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি রাজাপাকসে লঙ্কান অর্থনীতির পুনর্গঠন করার প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ভারত এই প্রক্রিয়ার মূল চাবিকাঠি হতে চলেছে।

আবার, ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে একটি থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাইকমিশনার মোরাগোদা বলেছিলেন, শ্রীলঙ্কা-ভারত সম্পর্ককে লেনদেনের পর্যায় থেকে একটি কৌশলগত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আটটি ক্ষেত্র তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় ঘোষিত চার স্তম্ভ-সহযোগিতা প্যাকেজের চতুর্থ স্তম্ভে এ বিষয়ে সবিস্তারে বলা আছে।

শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনারের বিবৃতি স্বভাবতই দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান পর্যায়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেয়। সর্বোপরি, দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে সম্ভাব্য কোনো প্রচেষ্টাই বাদ রাখছেন না ভারত ও শ্রীলংকার নীতি-নির্ধারকেরা। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক