০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অপারেশন গঙ্গার শেষ ধাপে ভারতীয়দের হাঙ্গেরি পৌঁছানোর বার্তা

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে কত জন ভারতীয় এখনও আটকে রয়েছেন, সেটি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হতে পারেনি ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইউক্রেন সীমান্ত লাগায়ো দেশগুলোতে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় আরও কত ভারতীয় পড়ুয়া রয়েছেন, নির্দিষ্টভাবে সে হিসেবও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই।

তবে এমন অচলাবস্থার মাঝেই আটকে পড়া ভারতীয়দের ফেরাতে টুইট করলো হাঙ্গেরিতে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস। ‘অপারেশন গঙ্গা’র শেষ পর্যায়ের অভিযানের আগে রবিবার গুরুত্বপূর্ণ এই নির্দেশিকা জারি করা হয়।

মূলত, দূতাবাস অনেকেরই থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তার বাইরেও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে হাঙ্গেরিতে পৌঁছে ভারতীয় পড়ুয়াদের অনেকেই নিজেরা নিজেদের মতো থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। সে খবর দেশটির ভারতীয় দূতাবাসের কাছে থাকলেও, তেমন ভারতীয় পড়ুয়া কত জন, তা অজানাই রয়ে গিয়েছে এখনও।

এই অবস্থায় ‘অপারেশন গঙ্গা’র বিশেষ ফ্লাইটে তাঁরাও যাতে ঘরে ফিরতে পারেন, তার জন্যই টুইট করে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, “সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টার মধ্যে বুদাপেস্টের হাঙ্গেরিয়া সিটি সেন্টারে সকলকে আসতে বলা হলো। সেখান থেকেই ভারতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।”

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫ মার্চ, শনিবার, পর্যন্ত ১৩ হাজার ৩০০ পড়ুয়াকে ইউক্রেন থেকে দেশে ফেরানো হয়েছে। ধারণা করা হয়, প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় পড়ুয়া ইউক্রেনে পড়তে গিয়েছিলেন। খুব শিগগিরই বাকিদেরও দেশ ফেরানো হবে।

ভারতীয়রা ছাড়াও একাধিক দেশের পড়ুয়া রয়েছেন ইউক্রেনে। এঁদের একটা বড় অংশই আবার ডাক্তারি পড়তে ইউক্রেনে গিয়েছিলেন। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বেধে যাওয়ার কারণে এই পড়ুয়ারা রাজধানী কিয়েভ-সহ ইউক্রেনের কয়েক’টি শহরে আটকে পড়েন।

এরই মাঝে, কর্নাটকের বাসিন্দা নবীন শেখারাপ্পা জ্ঞানগৌদার নামে এক মেডিক্যাল পড়ুয়া ইতিমধ্যে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রে নিহত হয়েছেন। খারকিভ মেডিক্যাল কলেজের ওই ছাত্র খাবার কিনতে বেরিয়ে রুশ গোলাবর্ষণে নিহত হন। এর পরই ভারতীয় পড়ুয়াদের উদ্ধার করতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কাছে যুদ্ধবিরতির আর্জি জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।

হামলা আরও জোরদার করার আগে শনি ও রবি দু-দফায় কয়েক ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে রাশিয়া। শুধু বিদেশি পড়ুয়ারাই নয়, ইউক্রেনের সাধারণ নাগরিকদেরও যুদ্ধবিরতি চলাকালীন নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলে পুতিন বাহিনী। তার পরেই গত দু’দিন ধরে ইউক্রেনীয়রা দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধের এই ১১ দিনে ইউক্রেনের প্রায় ১৫ লক্ষ নাগরিক দেশ ছেড়েছেন। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

অপারেশন গঙ্গার শেষ ধাপে ভারতীয়দের হাঙ্গেরি পৌঁছানোর বার্তা

প্রকাশ: ০১:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে কত জন ভারতীয় এখনও আটকে রয়েছেন, সেটি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হতে পারেনি ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইউক্রেন সীমান্ত লাগায়ো দেশগুলোতে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় আরও কত ভারতীয় পড়ুয়া রয়েছেন, নির্দিষ্টভাবে সে হিসেবও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই।

তবে এমন অচলাবস্থার মাঝেই আটকে পড়া ভারতীয়দের ফেরাতে টুইট করলো হাঙ্গেরিতে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস। ‘অপারেশন গঙ্গা’র শেষ পর্যায়ের অভিযানের আগে রবিবার গুরুত্বপূর্ণ এই নির্দেশিকা জারি করা হয়।

মূলত, দূতাবাস অনেকেরই থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তার বাইরেও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে হাঙ্গেরিতে পৌঁছে ভারতীয় পড়ুয়াদের অনেকেই নিজেরা নিজেদের মতো থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। সে খবর দেশটির ভারতীয় দূতাবাসের কাছে থাকলেও, তেমন ভারতীয় পড়ুয়া কত জন, তা অজানাই রয়ে গিয়েছে এখনও।

এই অবস্থায় ‘অপারেশন গঙ্গা’র বিশেষ ফ্লাইটে তাঁরাও যাতে ঘরে ফিরতে পারেন, তার জন্যই টুইট করে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, “সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টার মধ্যে বুদাপেস্টের হাঙ্গেরিয়া সিটি সেন্টারে সকলকে আসতে বলা হলো। সেখান থেকেই ভারতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।”

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫ মার্চ, শনিবার, পর্যন্ত ১৩ হাজার ৩০০ পড়ুয়াকে ইউক্রেন থেকে দেশে ফেরানো হয়েছে। ধারণা করা হয়, প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় পড়ুয়া ইউক্রেনে পড়তে গিয়েছিলেন। খুব শিগগিরই বাকিদেরও দেশ ফেরানো হবে।

ভারতীয়রা ছাড়াও একাধিক দেশের পড়ুয়া রয়েছেন ইউক্রেনে। এঁদের একটা বড় অংশই আবার ডাক্তারি পড়তে ইউক্রেনে গিয়েছিলেন। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বেধে যাওয়ার কারণে এই পড়ুয়ারা রাজধানী কিয়েভ-সহ ইউক্রেনের কয়েক’টি শহরে আটকে পড়েন।

এরই মাঝে, কর্নাটকের বাসিন্দা নবীন শেখারাপ্পা জ্ঞানগৌদার নামে এক মেডিক্যাল পড়ুয়া ইতিমধ্যে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রে নিহত হয়েছেন। খারকিভ মেডিক্যাল কলেজের ওই ছাত্র খাবার কিনতে বেরিয়ে রুশ গোলাবর্ষণে নিহত হন। এর পরই ভারতীয় পড়ুয়াদের উদ্ধার করতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কাছে যুদ্ধবিরতির আর্জি জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।

হামলা আরও জোরদার করার আগে শনি ও রবি দু-দফায় কয়েক ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে রাশিয়া। শুধু বিদেশি পড়ুয়ারাই নয়, ইউক্রেনের সাধারণ নাগরিকদেরও যুদ্ধবিরতি চলাকালীন নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলে পুতিন বাহিনী। তার পরেই গত দু’দিন ধরে ইউক্রেনীয়রা দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধের এই ১১ দিনে ইউক্রেনের প্রায় ১৫ লক্ষ নাগরিক দেশ ছেড়েছেন। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক