০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

একটি হাইড্রোজেন ইকোসিস্টেম তৈরিতে ফোকাস করতে হবে: মোদী

ভারতের টেকসই শক্তি লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট হাইড্রোজেন ইকোসিস্টেমের উপর ফোকাস করতে হবে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ০৪ মার্চ, শুক্রবার, ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সেক্টরাল গ্রুপ অন রিসোর্সেস কর্তৃক আয়োজিত ‘টেকসই বৃদ্ধির জন্য শক্তি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের টেকসই উন্নতির দিকে এগোনোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট হাইড্রোজেন ইকোসিস্টেমের উপর ফোকাস করতে হবে। সেজন্য আমরা অ-জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে ৫০% শক্তি আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।”

মোদী বলেন, “আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট যে টেকসই শক্তির উৎস থেকেই টেকসই বৃদ্ধি সম্ভব। ফোকাস করা হাইড্রোজেন ইকোসিস্টেমটি সার, শোধনাগার এবং পরিবহন খাতের সাথে আন্তঃসংযুক্ত হবে এবং ভারতের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে বেসরকারি খাতকে অবশ্যই এতে যুক্ত করতে হবে।”

এদিন ভারত সরকারের সুপ্রিমো বলেন, “কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২২-২৩ এ ব্যাটারি অদলবদল নীতির উপর বিশেষ ফোকাস করা হয়েছে, যা শক্তি দক্ষতার ক্ষমতাকে স্কেল করতে পারে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইলেকট্রিক যানবাহন ইভি ইকোসিস্টেমে দক্ষতা বাড়াতে আমাদের অবশ্যই টেকসই এবং উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে হবে। সরকার এলইডি বাল্বের উৎপাদন বাড়িয়েছে, যার ফলে একটি এলইডি বাল্বের দাম কমেছে এবং উজালা প্রকল্পের আওতায় সাধারণ মানুষ, গরিব ও মধ্যবিত্তরা বিদ্যুতের বিল ২০,০০০ কোটি টাকার বেশি বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে।”

মোদী জানান, “কয়লা গ্যাসীকরণের জন্য চারটি পাইলট প্রকল্প এবং শিল্পের প্রয়োজনীয় বিকাশের জন্য রাসায়নিক পদার্থে কয়লা রূপান্তরের প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক কার্যকারিতা স্থাপন করা হবে। প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব সোলার ট্রি তৈরি করা উচিত যা সেই বাড়ির বিদ্যুতের ১৫% পর্যন্ত সাশ্রয় করতে অবদান রাখতে পারে। এটি শুধু অনন্য নয়, পরিবেশবান্ধব হবে।”

উল্লেখ্য, গত বছর গ্লাসগোতে কোপ-২৬ সম্মেলনে ২০৭০ সালের মধ্যে ভারত নেট-জিরো কার্বন নির্গমন অর্জন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন মোদী। সেবার তিনি বলেছিলেন, “আমরা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭%। কিন্তু বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের মাত্র ৫% এর জন্য দায়ী ভারত।”

নেট-জিরো টার্গেটের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫০-গিগাওয়াট নন-ফসিল এনার্জি ক্যাপাসিটি ৫০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি আরও জোর দেন যে, “ভারতই একমাত্র দেশ যেটি প্যারিস চুক্তির অধীনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে। বিশ্ব আজ স্বীকার করে যে জলবায়ু পরিবর্তনে জীবনধারার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। আমি আপনাদের সবার সামনে এক শব্দের আন্দোলনের প্রস্তাব করছি। এই শব্দটি হল লাইফ, যার অর্থ পরিবেশের জন্য জীবনধারা। আজ প্রয়োজন আমাদের সকলের একত্রিত হওয়া এবং জীবনকে একটি আন্দোলন হিসাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”

মোদী বলেন, “টেকসইতার জন্য জ্বালানি সাশ্রয় করা এবং উৎপাদন সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে ভারতে আরও শক্তি-দক্ষ এসি, হিটার, গিজার এবং অনুরূপ যন্ত্রপাতি তৈরি করতে আরও অনেক কিছু করতে হবে।”

আজকের অনুষ্ঠানের সম্পর্কে তিনি বলেন, “ওয়েবিনারের উদ্দেশ্য হল নতুন বাজেট স্কিম বাস্তবায়নের দিকে মনোনিবেশ করা এবং এমন উপায় বের করা যার মাধ্যমে আমরা কার্যকরী এবং সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের লক্ষ্যের বাস্তবায়ন শুরু করতে পারি।”

ওয়েবিনারে পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস; নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, কয়লা, খনি, বহিরাগত বিষয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

 

ট্যাগ:

একটি হাইড্রোজেন ইকোসিস্টেম তৈরিতে ফোকাস করতে হবে: মোদী

প্রকাশ: ০১:২৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ মার্চ ২০২২

ভারতের টেকসই শক্তি লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট হাইড্রোজেন ইকোসিস্টেমের উপর ফোকাস করতে হবে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ০৪ মার্চ, শুক্রবার, ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সেক্টরাল গ্রুপ অন রিসোর্সেস কর্তৃক আয়োজিত ‘টেকসই বৃদ্ধির জন্য শক্তি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের টেকসই উন্নতির দিকে এগোনোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট হাইড্রোজেন ইকোসিস্টেমের উপর ফোকাস করতে হবে। সেজন্য আমরা অ-জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে ৫০% শক্তি আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।”

মোদী বলেন, “আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট যে টেকসই শক্তির উৎস থেকেই টেকসই বৃদ্ধি সম্ভব। ফোকাস করা হাইড্রোজেন ইকোসিস্টেমটি সার, শোধনাগার এবং পরিবহন খাতের সাথে আন্তঃসংযুক্ত হবে এবং ভারতের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে বেসরকারি খাতকে অবশ্যই এতে যুক্ত করতে হবে।”

এদিন ভারত সরকারের সুপ্রিমো বলেন, “কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২২-২৩ এ ব্যাটারি অদলবদল নীতির উপর বিশেষ ফোকাস করা হয়েছে, যা শক্তি দক্ষতার ক্ষমতাকে স্কেল করতে পারে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইলেকট্রিক যানবাহন ইভি ইকোসিস্টেমে দক্ষতা বাড়াতে আমাদের অবশ্যই টেকসই এবং উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে হবে। সরকার এলইডি বাল্বের উৎপাদন বাড়িয়েছে, যার ফলে একটি এলইডি বাল্বের দাম কমেছে এবং উজালা প্রকল্পের আওতায় সাধারণ মানুষ, গরিব ও মধ্যবিত্তরা বিদ্যুতের বিল ২০,০০০ কোটি টাকার বেশি বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে।”

মোদী জানান, “কয়লা গ্যাসীকরণের জন্য চারটি পাইলট প্রকল্প এবং শিল্পের প্রয়োজনীয় বিকাশের জন্য রাসায়নিক পদার্থে কয়লা রূপান্তরের প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক কার্যকারিতা স্থাপন করা হবে। প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব সোলার ট্রি তৈরি করা উচিত যা সেই বাড়ির বিদ্যুতের ১৫% পর্যন্ত সাশ্রয় করতে অবদান রাখতে পারে। এটি শুধু অনন্য নয়, পরিবেশবান্ধব হবে।”

উল্লেখ্য, গত বছর গ্লাসগোতে কোপ-২৬ সম্মেলনে ২০৭০ সালের মধ্যে ভারত নেট-জিরো কার্বন নির্গমন অর্জন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন মোদী। সেবার তিনি বলেছিলেন, “আমরা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭%। কিন্তু বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের মাত্র ৫% এর জন্য দায়ী ভারত।”

নেট-জিরো টার্গেটের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫০-গিগাওয়াট নন-ফসিল এনার্জি ক্যাপাসিটি ৫০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি আরও জোর দেন যে, “ভারতই একমাত্র দেশ যেটি প্যারিস চুক্তির অধীনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে। বিশ্ব আজ স্বীকার করে যে জলবায়ু পরিবর্তনে জীবনধারার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। আমি আপনাদের সবার সামনে এক শব্দের আন্দোলনের প্রস্তাব করছি। এই শব্দটি হল লাইফ, যার অর্থ পরিবেশের জন্য জীবনধারা। আজ প্রয়োজন আমাদের সকলের একত্রিত হওয়া এবং জীবনকে একটি আন্দোলন হিসাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”

মোদী বলেন, “টেকসইতার জন্য জ্বালানি সাশ্রয় করা এবং উৎপাদন সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে ভারতে আরও শক্তি-দক্ষ এসি, হিটার, গিজার এবং অনুরূপ যন্ত্রপাতি তৈরি করতে আরও অনেক কিছু করতে হবে।”

আজকের অনুষ্ঠানের সম্পর্কে তিনি বলেন, “ওয়েবিনারের উদ্দেশ্য হল নতুন বাজেট স্কিম বাস্তবায়নের দিকে মনোনিবেশ করা এবং এমন উপায় বের করা যার মাধ্যমে আমরা কার্যকরী এবং সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের লক্ষ্যের বাস্তবায়ন শুরু করতে পারি।”

ওয়েবিনারে পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস; নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, কয়লা, খনি, বহিরাগত বিষয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক