১২:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাত বছরে ভারতের ইলেকট্রনিক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৮৮%

চলতি অর্থ বছরে ভারতের ইলেকট্রিক পণ্য রপ্তানির পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। সংখ্যার হিসেবে যা প্রায় ১২,৪০০ মিলিয়ন ডলার। বিগত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৮৮ শতাংশ বেড়েছে ভারতের ইলেকট্রিক পণ্য রপ্তানী। ২৮ ফেব্রুয়ারী, সোমবার, ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে তথ্যটি জানা গিয়েছে।

মাত্র দু দশক পূর্বেও বেশিরভাগ ইলেকট্রনিক পণ্যের নিট আমদানীকারক ছিলো ভারত। মোবাইল ফোন, আইটি হার্ডওয়্যার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স, অন্যান্য শিল্প ইলেকট্রনিক্স এবং অটো ইলেকট্রনিকস খাতে রপ্তানির বদলে আমদানির উপরই নির্ভরশীল ছিলো ভারত।

কিন্তু গোটা পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি কেন্দ্রে সরকার গঠনের পর থেকে। রপ্তানী খাতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে থাকে ভারত। এ নিয়ে এক বিশেষ টুইটে দেশটির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল লিখেছেন, “বিশ্ব ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ প্রোডাক্ট চায়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে আমাদের রপ্তানি আয়ের পরিমাণ প্রায় ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। আমাদের সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে ও আভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাঁড়াতে সাহায্য করছে।”

এর আগে ২০১৯ সালে ইলেক্ট্রনিক খাতের জন্য জাতীয় নীতির সূচনা করেছে ভারত সরকার। এর লক্ষ্য ভারতকে ইলেকট্রনিক্স সিস্টেম ডিজাইন অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং এর জন্য একটি বৈশ্বিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা। ইলেকট্রনিক উৎপাদনের কাঁচামাল খাত বিকাশের জন্য এবং শিল্পের জন্য একটি সক্ষম পরিবেশ তৈরি করতে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছে মোদীর সরকার। ইতোমধ্যে চারটি বড় প্রকল্প চালু করেছে ভারত সরকার। সেগুলো যথাক্রমে,

* বড় আকারের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের জন্য প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম (পিএলআই)

* ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্টস এবং সেমিকন্ডাক্টর (স্পেকস) এর উত্পাদন প্রচারের পরিকল্পনা

* পরিবর্তিত ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং ক্লাস্টার স্কিম (ইএমসি ২.০)

* আইটি হার্ডওয়্যারের জন্য প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম (পিএলআই)

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব বহুমুখী উদ্যোগের ফলে দিনকে দিন রপ্তানিতে বৃদ্ধি দেখছে ভারত। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ভারতের পণ্যদ্রব্য রপ্তানী প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে যে রপ্তানির পরিমাণ ছিলো ২৭.৫৪ বিলিয়ন ডলার, সেটি ২০২২ সালের জানুয়ারিতে হয়েছে ৩৪.০৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালে এটি ছিলো ২৫.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০২১-২২ সালে (এপ্রিল-জানুয়ারি) ভারতের পণ্যদ্রব্য রপ্তানি ২০২০-২১ (এপ্রিল-জানুয়ারি) ৪৬.৫৩% বেড়ে ৩৩৫.৪৪ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। পূর্বতন বছরে এটি ছিলো ২২৮.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখানে ভারত সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছে। বিশেষ করে মহামারী চলাকালীন রপ্তানি খাতের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ভারত সরকারের স্থাপন করা রপ্তানি মনিটরিং ডেস্ক বেশ কাজে লেগেছে।

তাছাড়া, ভারতকে বিশ্ব বাজারে এক নতুন ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত করতেও সফল হয়েছে নয়াদিল্লী। ফলত, বিশ্বব্যাপী বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সাধনে সক্ষম হয়েছে তারা। একই সঙ্গে, ভারত জুড়ে ‘এক জেলা এক পণ্য’ (ওডিওপি) এর মতো উদ্যোগ গ্রহণ করে দেশের প্রতি জেলাকে রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আরম্ভ করেছে মোদী সরকার। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

সাত বছরে ভারতের ইলেকট্রনিক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৮৮%

প্রকাশ: ০৪:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২

চলতি অর্থ বছরে ভারতের ইলেকট্রিক পণ্য রপ্তানির পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। সংখ্যার হিসেবে যা প্রায় ১২,৪০০ মিলিয়ন ডলার। বিগত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৮৮ শতাংশ বেড়েছে ভারতের ইলেকট্রিক পণ্য রপ্তানী। ২৮ ফেব্রুয়ারী, সোমবার, ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে তথ্যটি জানা গিয়েছে।

মাত্র দু দশক পূর্বেও বেশিরভাগ ইলেকট্রনিক পণ্যের নিট আমদানীকারক ছিলো ভারত। মোবাইল ফোন, আইটি হার্ডওয়্যার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স, অন্যান্য শিল্প ইলেকট্রনিক্স এবং অটো ইলেকট্রনিকস খাতে রপ্তানির বদলে আমদানির উপরই নির্ভরশীল ছিলো ভারত।

কিন্তু গোটা পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি কেন্দ্রে সরকার গঠনের পর থেকে। রপ্তানী খাতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে থাকে ভারত। এ নিয়ে এক বিশেষ টুইটে দেশটির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল লিখেছেন, “বিশ্ব ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ প্রোডাক্ট চায়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে আমাদের রপ্তানি আয়ের পরিমাণ প্রায় ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। আমাদের সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে ও আভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাঁড়াতে সাহায্য করছে।”

এর আগে ২০১৯ সালে ইলেক্ট্রনিক খাতের জন্য জাতীয় নীতির সূচনা করেছে ভারত সরকার। এর লক্ষ্য ভারতকে ইলেকট্রনিক্স সিস্টেম ডিজাইন অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং এর জন্য একটি বৈশ্বিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা। ইলেকট্রনিক উৎপাদনের কাঁচামাল খাত বিকাশের জন্য এবং শিল্পের জন্য একটি সক্ষম পরিবেশ তৈরি করতে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছে মোদীর সরকার। ইতোমধ্যে চারটি বড় প্রকল্প চালু করেছে ভারত সরকার। সেগুলো যথাক্রমে,

* বড় আকারের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের জন্য প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম (পিএলআই)

* ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্টস এবং সেমিকন্ডাক্টর (স্পেকস) এর উত্পাদন প্রচারের পরিকল্পনা

* পরিবর্তিত ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং ক্লাস্টার স্কিম (ইএমসি ২.০)

* আইটি হার্ডওয়্যারের জন্য প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম (পিএলআই)

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব বহুমুখী উদ্যোগের ফলে দিনকে দিন রপ্তানিতে বৃদ্ধি দেখছে ভারত। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ভারতের পণ্যদ্রব্য রপ্তানী প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে যে রপ্তানির পরিমাণ ছিলো ২৭.৫৪ বিলিয়ন ডলার, সেটি ২০২২ সালের জানুয়ারিতে হয়েছে ৩৪.০৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালে এটি ছিলো ২৫.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০২১-২২ সালে (এপ্রিল-জানুয়ারি) ভারতের পণ্যদ্রব্য রপ্তানি ২০২০-২১ (এপ্রিল-জানুয়ারি) ৪৬.৫৩% বেড়ে ৩৩৫.৪৪ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। পূর্বতন বছরে এটি ছিলো ২২৮.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখানে ভারত সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছে। বিশেষ করে মহামারী চলাকালীন রপ্তানি খাতের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ভারত সরকারের স্থাপন করা রপ্তানি মনিটরিং ডেস্ক বেশ কাজে লেগেছে।

তাছাড়া, ভারতকে বিশ্ব বাজারে এক নতুন ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত করতেও সফল হয়েছে নয়াদিল্লী। ফলত, বিশ্বব্যাপী বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সাধনে সক্ষম হয়েছে তারা। একই সঙ্গে, ভারত জুড়ে ‘এক জেলা এক পণ্য’ (ওডিওপি) এর মতো উদ্যোগ গ্রহণ করে দেশের প্রতি জেলাকে রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আরম্ভ করেছে মোদী সরকার। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক