০৫:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কূটনৈতিক আলোচনার বিকল্প নেই: ইউক্রেন ইস্যুতে ভারত

ইউক্রেনে রুশ হামলা ইস্যুতে রাশিয়াকে একঘরে করতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ জোরদার করছে পশ্চিমা মিত্ররা। এর অংশ হিসেবে জাতিসংঘের ১৯৩-সদস্যের সাধারণ পরিষদের বিরল জরুরি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। আজ সোমবার বিশেষ অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হবে।

তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আরও একটি ভোটাভুটি থেকে বিরত থাকল ভারত ও চীন। ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে জাতিসংঘের বিশেষ সাধারণ সভা ডাকার লক্ষ্যে গতকাল রোববার নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব আনা হয়।

সে প্রস্তাবে ভোটদান থেকে বিরত থাকে ভারত, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ধরনের বিশেষ সাধারণ সভা জাতিসংঘের ইতিহাসে বিরল। এর আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন আফগানিস্তান দখল করেছিল, তখন এ ধরনের বিশেষ সাধারণ সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল।

স্থায়ী-অস্থায়ী মোট ১৫ সদস্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিষদের ১১ সদস্য বিশেষ সাধারণ সভা ডাকার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। ভারত, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এ ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করেনি। আর, রাশিয়া স্বভাবতই এ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে, এ ধরনের ভোটাভুটিতে নিরাপত্তা পরিষদের কোনো স্থায়ী সদস্য ‘ভেটো’ দিতে পারে না। এ কারণে ১১-১ ব্যবধানে প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত হয়।

এর আগে রাশিয়ার ‘আগ্রাসনের’ নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনা প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থাকে ভারত, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করে জাতিসংঘে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরপরও ভারত ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে গেল না।

রবিবার জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদের শেষ বৈঠকের পর ইউক্রেনের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক আলোচনা ছাড়া আর কোনও পথ নেই।”

অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি রাশিয়া এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তাঁদেরকেও আলোচনা ও কূটনৈতিক পথ বেছে নিতে বলেছেন। আজ রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দেশই যে বেলারুশ সীমান্তে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।”

সরাসরি রাশিয়ার নাম না নিয়েও ভারতীয় দূত বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের চার্টার এবং অন্য দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানের নিরখে বর্তমান বিশ্ব চলে। আমরা সবাই এই নীতিগুলোকে গ্রহণ করেছি।’

তিনি আরও জানান, “ইউক্রেনে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। সীমান্তে অনিশ্চয়তার জেরে আমাদের উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। সব বিষয় বিবেচনা করে ভারত এই ভোটাভুটি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

কূটনৈতিক আলোচনার বিকল্প নেই: ইউক্রেন ইস্যুতে ভারত

প্রকাশ: ০১:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২

ইউক্রেনে রুশ হামলা ইস্যুতে রাশিয়াকে একঘরে করতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ জোরদার করছে পশ্চিমা মিত্ররা। এর অংশ হিসেবে জাতিসংঘের ১৯৩-সদস্যের সাধারণ পরিষদের বিরল জরুরি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। আজ সোমবার বিশেষ অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হবে।

তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আরও একটি ভোটাভুটি থেকে বিরত থাকল ভারত ও চীন। ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে জাতিসংঘের বিশেষ সাধারণ সভা ডাকার লক্ষ্যে গতকাল রোববার নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব আনা হয়।

সে প্রস্তাবে ভোটদান থেকে বিরত থাকে ভারত, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ধরনের বিশেষ সাধারণ সভা জাতিসংঘের ইতিহাসে বিরল। এর আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন আফগানিস্তান দখল করেছিল, তখন এ ধরনের বিশেষ সাধারণ সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল।

স্থায়ী-অস্থায়ী মোট ১৫ সদস্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিষদের ১১ সদস্য বিশেষ সাধারণ সভা ডাকার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। ভারত, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এ ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করেনি। আর, রাশিয়া স্বভাবতই এ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে, এ ধরনের ভোটাভুটিতে নিরাপত্তা পরিষদের কোনো স্থায়ী সদস্য ‘ভেটো’ দিতে পারে না। এ কারণে ১১-১ ব্যবধানে প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত হয়।

এর আগে রাশিয়ার ‘আগ্রাসনের’ নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনা প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থাকে ভারত, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করে জাতিসংঘে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরপরও ভারত ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে গেল না।

রবিবার জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদের শেষ বৈঠকের পর ইউক্রেনের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক আলোচনা ছাড়া আর কোনও পথ নেই।”

অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি রাশিয়া এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তাঁদেরকেও আলোচনা ও কূটনৈতিক পথ বেছে নিতে বলেছেন। আজ রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দেশই যে বেলারুশ সীমান্তে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।”

সরাসরি রাশিয়ার নাম না নিয়েও ভারতীয় দূত বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের চার্টার এবং অন্য দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানের নিরখে বর্তমান বিশ্ব চলে। আমরা সবাই এই নীতিগুলোকে গ্রহণ করেছি।’

তিনি আরও জানান, “ইউক্রেনে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। সীমান্তে অনিশ্চয়তার জেরে আমাদের উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। সব বিষয় বিবেচনা করে ভারত এই ভোটাভুটি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক