০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শুরু হলো ভারতীয় নেভির সবচেয়ে বড় বহুজাতিক মহড়া

গত শনিবার এক বিশাল সমারোহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ভারতের দ্বিবার্ষিক বহুজাতিক নৌ মহড়া মিলন-২০২২। এর মধ্য দিয়ে ১১তম বারের মতো শুরু হলো বহুপাক্ষিক এই মহড়াটি। ভারতের ইস্টার্ন নেভাল কমান্ড আয়োজিত মহড়াটির চলতি সংস্করণ এখনও অবধি দেশটির সবচেয়ে বড় বহুজাতিক মহড়া।

অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে শুরু হয়েছে মহড়াটি। প্রায় ১৩ টি জাহাজ, ৩৯ দেশের প্রতিনিধি দল এবং একটি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের সমন্বয়ে শুরু হয়েছে এবারের মহড়া।

ইতোপূর্বেই জানা গিয়েছিলো, গোটা আয়োজনে অংশ নিতে প্রায় চল্লিশটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মহড়ায় কোয়াডভুক্ত দেশগুলো ছাড়াও রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং পশ্চিম এশিয়ার রাষ্ট্রসমূহের নৌবাহিনী অংশ নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পেশাদার মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে সামুদ্রিক ডোমেনে কর্মক্ষম দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সবার সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই মহড়াটির লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

মহড়াটি ২০২২ মহড়াটি ২৫ ফেব্রুয়ারী শুরু হয়ে প্রথম পর্বে চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারী অবধি। এই সময়কালে মহড়াটির পোতাশ্রয় পর্ব পরিচালিত হবে। এরপর ০১ মার্চ থেকে ০৪ মার্চ পর্যন্ত সময়কালে নির্ধারিত বন্দর পর্বের মাধ্যমে মহড়াটির দ্বিতীয় ধাপ পরিচালিত হবে।

এবারের, মহড়াটির মূল থিম “সৌহার্দ্য-সমন্বয়-সহযোগিতা”, যা ভারতকে বিশ্বের কাছে একটি দায়িত্বশীল সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে।

মহড়াটির প্রথম ধাপেই একটি আন্তর্জাতিক সিটি প্যারেডও আয়োজিত হবে। এতে মূলত অংশ নিবেন মহড়ায় অংশ নেয়া বিদেশী কন্টিনজেন্টগণ। তাছাড়া, একটি আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সেমিনার, পেশাদার বিশেষজ্ঞদের মতবিনিময় এবং ডিপ সাবমারজেন্স রেসকিউ ভেসেল (ডিএসআরভি) অনুশীলন হবে মহড়া চলাকালে।

জানা গিয়েছে, হাই-প্রোফাইল বিদেশী প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের নৌ নেতৃত্ব, সংস্থার প্রধান, রাষ্ট্রদূত এবং সমতুল্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ভারত এই অঞ্চলের গুটিকয়েক রাষ্ট্রের মধ্যে একটি, যার নিজস্ব ডিএসআরভি ক্ষমতা রয়েছে। এটি মূলত ডুবে থাকা সাবমেরিন উদ্ধারের জন্য ব্যবহৃত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী অজয় ভাট। এছাড়াও, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আর হরি কুমারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, নৌবাহিনীর প্রধান, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদলের প্রধান এবং সমস্ত অংশগ্রহণকারী জাহাজের কমান্ডিং অফিসার এবং ক্রুরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মিলন নামের মহড়াটি সর্বপ্রথম শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। সেবার ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড ও ভারতের সমন্বয়ে মহড়াটি শুরু হয়। এরপর ২০১৪ সালে এতে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ টিতে। ইতোপূর্বে মহড়াটি আন্দামান ও নিকোবরের পোর্ট ব্লেয়ারে অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু এবার মহড়াটি বিশাখাপত্তনমে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

এছাড়া, ২০০৪ থেকে ২০০৬ অবধি সুনামির কারণে এবং ২০২০ থেকে করোনা মহামারির কারণে মহড়াটি আয়োজিত হয়নি।

খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

শুরু হলো ভারতীয় নেভির সবচেয়ে বড় বহুজাতিক মহড়া

প্রকাশ: ০৫:২৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২

গত শনিবার এক বিশাল সমারোহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ভারতের দ্বিবার্ষিক বহুজাতিক নৌ মহড়া মিলন-২০২২। এর মধ্য দিয়ে ১১তম বারের মতো শুরু হলো বহুপাক্ষিক এই মহড়াটি। ভারতের ইস্টার্ন নেভাল কমান্ড আয়োজিত মহড়াটির চলতি সংস্করণ এখনও অবধি দেশটির সবচেয়ে বড় বহুজাতিক মহড়া।

অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে শুরু হয়েছে মহড়াটি। প্রায় ১৩ টি জাহাজ, ৩৯ দেশের প্রতিনিধি দল এবং একটি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের সমন্বয়ে শুরু হয়েছে এবারের মহড়া।

ইতোপূর্বেই জানা গিয়েছিলো, গোটা আয়োজনে অংশ নিতে প্রায় চল্লিশটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মহড়ায় কোয়াডভুক্ত দেশগুলো ছাড়াও রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং পশ্চিম এশিয়ার রাষ্ট্রসমূহের নৌবাহিনী অংশ নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পেশাদার মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে সামুদ্রিক ডোমেনে কর্মক্ষম দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সবার সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই মহড়াটির লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

মহড়াটি ২০২২ মহড়াটি ২৫ ফেব্রুয়ারী শুরু হয়ে প্রথম পর্বে চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারী অবধি। এই সময়কালে মহড়াটির পোতাশ্রয় পর্ব পরিচালিত হবে। এরপর ০১ মার্চ থেকে ০৪ মার্চ পর্যন্ত সময়কালে নির্ধারিত বন্দর পর্বের মাধ্যমে মহড়াটির দ্বিতীয় ধাপ পরিচালিত হবে।

এবারের, মহড়াটির মূল থিম “সৌহার্দ্য-সমন্বয়-সহযোগিতা”, যা ভারতকে বিশ্বের কাছে একটি দায়িত্বশীল সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে।

মহড়াটির প্রথম ধাপেই একটি আন্তর্জাতিক সিটি প্যারেডও আয়োজিত হবে। এতে মূলত অংশ নিবেন মহড়ায় অংশ নেয়া বিদেশী কন্টিনজেন্টগণ। তাছাড়া, একটি আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সেমিনার, পেশাদার বিশেষজ্ঞদের মতবিনিময় এবং ডিপ সাবমারজেন্স রেসকিউ ভেসেল (ডিএসআরভি) অনুশীলন হবে মহড়া চলাকালে।

জানা গিয়েছে, হাই-প্রোফাইল বিদেশী প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের নৌ নেতৃত্ব, সংস্থার প্রধান, রাষ্ট্রদূত এবং সমতুল্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ভারত এই অঞ্চলের গুটিকয়েক রাষ্ট্রের মধ্যে একটি, যার নিজস্ব ডিএসআরভি ক্ষমতা রয়েছে। এটি মূলত ডুবে থাকা সাবমেরিন উদ্ধারের জন্য ব্যবহৃত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী অজয় ভাট। এছাড়াও, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আর হরি কুমারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, নৌবাহিনীর প্রধান, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদলের প্রধান এবং সমস্ত অংশগ্রহণকারী জাহাজের কমান্ডিং অফিসার এবং ক্রুরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মিলন নামের মহড়াটি সর্বপ্রথম শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। সেবার ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড ও ভারতের সমন্বয়ে মহড়াটি শুরু হয়। এরপর ২০১৪ সালে এতে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ টিতে। ইতোপূর্বে মহড়াটি আন্দামান ও নিকোবরের পোর্ট ব্লেয়ারে অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু এবার মহড়াটি বিশাখাপত্তনমে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

এছাড়া, ২০০৪ থেকে ২০০৬ অবধি সুনামির কারণে এবং ২০২০ থেকে করোনা মহামারির কারণে মহড়াটি আয়োজিত হয়নি।

খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক