০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘ভারত-মার্কিন সম্পর্ক সাশ্রয়ী মূল্যের ভ্যাকসিন তৈরির চাবিকাঠি’

কোভিড-১৯ মহামারী প্রতিরোধের প্রাথমিক কৌশল হিসেবে সার্বজনীন টিকা দেয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুতক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তরণজিৎ সিং সান্ধু। পাশাপাশি সকলের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ভ্যাকসিন নিশ্চিতকল্পে ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে অভিমত দেন তিনি।

গত ২২ ফেব্রুয়ারী, মঙ্গলবার, ‘সার্বজনীন ভ্যাকসিন’ -শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজ বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন সান্ধু। অনুষ্ঠানে মূলত কীভাবে নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য ভ্যাকসিন সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেন বক্তাগণ।

ভার্চুয়াল এই আলোচনায় সান্ধু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার, ট্রাস্টি এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনী বিল গেটস, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি আয়োগের সদস্য ড. ভি কে পল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী ড. সৌম্য স্বামীনাথন, হিউস্টনের বেলর কলেজ অফ মেডিসিন থেকে প্রফেসর পিটার জে হোটেজ এবং মার্কিন কংগ্রেসম্যান ডোয়াইট ইভান্স সহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনাকালে সান্ধু বলেন, “বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ভ্যাকসিনেশন চিত্র এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের ভ্যাকসিনেশন চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। গোটা গ্রাফটি আমাদেরকে এক বৈষম্যের গল্প উপস্থাপন করে। তাই সবার জন্য ভ্যাকসিনেশন নিশ্চিতকল্পে ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ।”

নিজ বক্তব্যের সমর্থনে তিনটি কারণও দর্শান যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত। সেগুলো যথাক্রমে,

প্রথমত, ভ্যাকসিন তৈরী ছাড়াও স্বাস্থ্য খাতে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক ভ্যাকসিন অ্যাকশন প্রোগ্রাম এর আওতায় যে ভ্যাকসিন তৈরী হয়েছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কম খরচে প্রস্তুতকৃত।

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত মার্কিন সম্পর্কের বহুমুখীতা। কোয়াড সহ বিশ্বের সব গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে ভারতের সঙ্গে গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গভীর অংশীদারিত্বও রয়েছে দেশ দুটোর। গতবছর অনুষ্ঠিত ভারত-মার্কিন শীর্ষ বৈঠকেও ১ বিলিয়ন ভ্যাকসিন একত্রে তৈরীর কথা ঘোষণা করা হয়েছিলো।

এবং সর্বশেষ কারণ হিসেবে সান্ধু বলেন, একদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণা নেতৃত্ব, অন্যদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক হিসাবে ভারতের পরীক্ষিত সক্ষমতা, এই দুইয়ের মেলবন্ধনে প্রস্তুত হতে পারে গোটা বিশ্বের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যের ভ্যাকসিন। এজন্য ভারত-মার্কিন ফার্মা কোম্পানিদের মেলবন্ধনের উপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে বিল গেটস বিশ্বব্যাপী ভারতীয় ভ্যাকসিন নির্মাতাদের ভূমিকা তুলে ধরে ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি নিত্যনতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও পণ্য তৈরীর মাধ্যমে ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিভাকে এক নতুন স্থান দেয়ার মাধ্যমে বিশ্বের হাবে পরিণত করায় প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অভিনন্দন জানান তিনি।

এছাড়া, করোনা মহামারী গোটা বিশ্বের জন্যেই সম্ভাব্য সকল সংক্রামক রোগ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ পাঠ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী ড. সৌম্য স্বামীনাথন।

খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

‘ভারত-মার্কিন সম্পর্ক সাশ্রয়ী মূল্যের ভ্যাকসিন তৈরির চাবিকাঠি’

প্রকাশ: ০৫:৩৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২

কোভিড-১৯ মহামারী প্রতিরোধের প্রাথমিক কৌশল হিসেবে সার্বজনীন টিকা দেয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুতক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তরণজিৎ সিং সান্ধু। পাশাপাশি সকলের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ভ্যাকসিন নিশ্চিতকল্পে ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে অভিমত দেন তিনি।

গত ২২ ফেব্রুয়ারী, মঙ্গলবার, ‘সার্বজনীন ভ্যাকসিন’ -শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজ বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন সান্ধু। অনুষ্ঠানে মূলত কীভাবে নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য ভ্যাকসিন সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেন বক্তাগণ।

ভার্চুয়াল এই আলোচনায় সান্ধু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার, ট্রাস্টি এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনী বিল গেটস, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি আয়োগের সদস্য ড. ভি কে পল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী ড. সৌম্য স্বামীনাথন, হিউস্টনের বেলর কলেজ অফ মেডিসিন থেকে প্রফেসর পিটার জে হোটেজ এবং মার্কিন কংগ্রেসম্যান ডোয়াইট ইভান্স সহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনাকালে সান্ধু বলেন, “বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ভ্যাকসিনেশন চিত্র এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের ভ্যাকসিনেশন চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। গোটা গ্রাফটি আমাদেরকে এক বৈষম্যের গল্প উপস্থাপন করে। তাই সবার জন্য ভ্যাকসিনেশন নিশ্চিতকল্পে ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ।”

নিজ বক্তব্যের সমর্থনে তিনটি কারণও দর্শান যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত। সেগুলো যথাক্রমে,

প্রথমত, ভ্যাকসিন তৈরী ছাড়াও স্বাস্থ্য খাতে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক ভ্যাকসিন অ্যাকশন প্রোগ্রাম এর আওতায় যে ভ্যাকসিন তৈরী হয়েছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কম খরচে প্রস্তুতকৃত।

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত মার্কিন সম্পর্কের বহুমুখীতা। কোয়াড সহ বিশ্বের সব গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে ভারতের সঙ্গে গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গভীর অংশীদারিত্বও রয়েছে দেশ দুটোর। গতবছর অনুষ্ঠিত ভারত-মার্কিন শীর্ষ বৈঠকেও ১ বিলিয়ন ভ্যাকসিন একত্রে তৈরীর কথা ঘোষণা করা হয়েছিলো।

এবং সর্বশেষ কারণ হিসেবে সান্ধু বলেন, একদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণা নেতৃত্ব, অন্যদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক হিসাবে ভারতের পরীক্ষিত সক্ষমতা, এই দুইয়ের মেলবন্ধনে প্রস্তুত হতে পারে গোটা বিশ্বের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যের ভ্যাকসিন। এজন্য ভারত-মার্কিন ফার্মা কোম্পানিদের মেলবন্ধনের উপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে বিল গেটস বিশ্বব্যাপী ভারতীয় ভ্যাকসিন নির্মাতাদের ভূমিকা তুলে ধরে ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি নিত্যনতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও পণ্য তৈরীর মাধ্যমে ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিভাকে এক নতুন স্থান দেয়ার মাধ্যমে বিশ্বের হাবে পরিণত করায় প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অভিনন্দন জানান তিনি।

এছাড়া, করোনা মহামারী গোটা বিশ্বের জন্যেই সম্ভাব্য সকল সংক্রামক রোগ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ পাঠ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী ড. সৌম্য স্বামীনাথন।

খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক