০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রানা আইয়ুবকে ‘হেনস্থার’ অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’: ভারত

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে সাংবাদিক রানা আইয়ুবের ১.৭৭ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তারপর থেকেই এই ইস্যুতে বাড়তে থাকে চাপানউতর। এদিকে ঘটনার পর থেকেই নাকি অনলাইনে লাগাতার ‘নারীবিদ্বেষী ও সাম্প্রদায়িক’ আক্রমণের মুখে পড়ছেন ভারতের প্রখ্যাত এই নারী সাংবাদিক।

বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে শোরগোল পড়েছে দেশজুড়ে। এবার এই ইস্যু উঠলো জাতিসংঘের মঞ্চেও। গত ২১ ফেব্রুয়ারী, সোমবার, জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের দুই বিশেষ প্রতিনিধি ইরিনি খান এবং মেরি ললোর- বিবৃতি জারি ভারতকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দেন। পাল্টা বক্তব্য রাখে ভারতও। তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন তরজা।

সহজ কথা্য় আইয়ুবের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগে ভারত কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের উপরোক্ত বিবৃতি সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন এবং অযাচিত’ বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লী। একই সঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, এই রকম ‘বিভ্রান্তিকর কাহিনিতে’ জাতিসংঘের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

ভারত বলছে, দেশে আইনের শাসন অনুসরণ করা হয় এবং কেউ এর ঊর্ধ্বে নয়। জেনেভায় ভারতের স্থায়ী মিশন একটি টুইটে বলা হয়েছে, একটি বিভ্রান্তিকর গল্পের রংচটা প্রচার জাতিসংঘ মিশনের সুনামকে কলঙ্কিত করে।

টুইটে স্পষ্ট ভাষায় লেখা হয়, “বিচার বিভাগীয় হয়রানির অভিযোগ স্পটতই ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক। ভারত আইনের শাসন বজায় রাখে, কিন্তু সমানভাবে এটা স্পষ্ট যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আমরা আশা করি বরিষ্ঠ প্রতিনিধিরা বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক তথ্য দেবেন।”

অন্যদিকে, নয়াদিল্লির সরকারী সূত্র জানিয়েছে, জেনেভায় ভারতীয় মিশন এই বিষয়ে একটি নোট মৌখিক ভাবে জারি করবে। এটি জাতিসংঘের কার্যালয়েও তোলা হবে। এর আগে জেনেভায়, জাতিসংঘের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে ইরিনি খান এবং মেরি ললো বিবৃতি জারি করে বলেন, “সাংবাদিক রানা আয়ুবের বিরুদ্ধে অনলাইনে লাগাতার যে নারীবিদ্বেষী ও সাম্প্রদায়িক আক্রমণ চলছে, তা নিয়ে অবিলম্বে এবং বিস্তারিতভাবে তদন্ত করতে হবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে। তাঁর উপর যে বিচারবিভাগীয় হেনস্থা চলছে, তাও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।”

এ নিয়েই শুরু হয় তোলপাড়। এদিকে এনফোর্সমেন্ট সংস্থা (ইডি)-র অভিযোগ জনসেবার নাম করে টাকা তুলেছিলেন সাংবাদিক রানা আইয়ুব। এরপর সেই টাকা ব্যক্তিগত কারণে ব্যবহার করেছেন। আর সেই কারণেই নেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা। এদিকে জাতিসংঘ-ভারত তরজার মধ্যে এই ঘটনার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এখন সেটাই দেখার।

খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

রানা আইয়ুবকে ‘হেনস্থার’ অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’: ভারত

প্রকাশ: ০৫:১৮:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২২

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে সাংবাদিক রানা আইয়ুবের ১.৭৭ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তারপর থেকেই এই ইস্যুতে বাড়তে থাকে চাপানউতর। এদিকে ঘটনার পর থেকেই নাকি অনলাইনে লাগাতার ‘নারীবিদ্বেষী ও সাম্প্রদায়িক’ আক্রমণের মুখে পড়ছেন ভারতের প্রখ্যাত এই নারী সাংবাদিক।

বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে শোরগোল পড়েছে দেশজুড়ে। এবার এই ইস্যু উঠলো জাতিসংঘের মঞ্চেও। গত ২১ ফেব্রুয়ারী, সোমবার, জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের দুই বিশেষ প্রতিনিধি ইরিনি খান এবং মেরি ললোর- বিবৃতি জারি ভারতকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দেন। পাল্টা বক্তব্য রাখে ভারতও। তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন তরজা।

সহজ কথা্য় আইয়ুবের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগে ভারত কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের উপরোক্ত বিবৃতি সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন এবং অযাচিত’ বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লী। একই সঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, এই রকম ‘বিভ্রান্তিকর কাহিনিতে’ জাতিসংঘের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

ভারত বলছে, দেশে আইনের শাসন অনুসরণ করা হয় এবং কেউ এর ঊর্ধ্বে নয়। জেনেভায় ভারতের স্থায়ী মিশন একটি টুইটে বলা হয়েছে, একটি বিভ্রান্তিকর গল্পের রংচটা প্রচার জাতিসংঘ মিশনের সুনামকে কলঙ্কিত করে।

টুইটে স্পষ্ট ভাষায় লেখা হয়, “বিচার বিভাগীয় হয়রানির অভিযোগ স্পটতই ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক। ভারত আইনের শাসন বজায় রাখে, কিন্তু সমানভাবে এটা স্পষ্ট যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আমরা আশা করি বরিষ্ঠ প্রতিনিধিরা বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক তথ্য দেবেন।”

অন্যদিকে, নয়াদিল্লির সরকারী সূত্র জানিয়েছে, জেনেভায় ভারতীয় মিশন এই বিষয়ে একটি নোট মৌখিক ভাবে জারি করবে। এটি জাতিসংঘের কার্যালয়েও তোলা হবে। এর আগে জেনেভায়, জাতিসংঘের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে ইরিনি খান এবং মেরি ললো বিবৃতি জারি করে বলেন, “সাংবাদিক রানা আয়ুবের বিরুদ্ধে অনলাইনে লাগাতার যে নারীবিদ্বেষী ও সাম্প্রদায়িক আক্রমণ চলছে, তা নিয়ে অবিলম্বে এবং বিস্তারিতভাবে তদন্ত করতে হবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে। তাঁর উপর যে বিচারবিভাগীয় হেনস্থা চলছে, তাও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।”

এ নিয়েই শুরু হয় তোলপাড়। এদিকে এনফোর্সমেন্ট সংস্থা (ইডি)-র অভিযোগ জনসেবার নাম করে টাকা তুলেছিলেন সাংবাদিক রানা আইয়ুব। এরপর সেই টাকা ব্যক্তিগত কারণে ব্যবহার করেছেন। আর সেই কারণেই নেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা। এদিকে জাতিসংঘ-ভারত তরজার মধ্যে এই ঘটনার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এখন সেটাই দেখার।

খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক