০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু ইস্যুতে আরও ঘনিষ্ঠ ইইউ-ভারত

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত দিলো ভারত ও ইইউ। বিশ্বজুড়ে সবুজ রূপান্তরের লক্ষ্যে একত্রে কাজ করতে চলেছে ভারত এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর এই জোট। এমনটিই জানালেন, ইউরোপীয় কমিশনের নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফ্রান্স টিমারম্যানস। ভারত সর্বদাই জলবায়ু ইস্যুতে সোচ্চার থেকেছে জানিয়ে ইউরোপের দায়িত্বশীল এই নেতা বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে সবুজ রূপান্তরের ক্ষেত্রে বিস্তৃত ও ব্যাপকভাবে অংশীদারিত্বে প্রস্তুত।”

গত ১৭ ফেব্রুয়ারী, বৃহস্পতিবার, ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সামিটে বক্তৃতা করতে গিয়ে টিমারম্যানস এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, সবুজ রূপান্তর ইস্যুতে দীর্ঘদিন যাবত সোচ্চার রয়েছেন টিমারম্যানস। ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু-নিরপেক্ষতা লক্ষ্য বাস্তবায়নকে ইইউ আইনে অন্তর্ভূক্ত করতে তাঁর প্রচেষ্টা বিশ্বজোড়া প্রশংসা লাভ করে।

উল্লেখ্য, জলবায়ু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আলোচনার জন্য গত ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট শীর্ষ সম্মেলনটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এতে অংশগ্রহণকারী সকল দেশের সরকার প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা প্রতিনিধিগণ অর্থনীতির টেকসই আধুনিকীকরণ এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির মতো ইস্যুতে একত্রে কাজ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

বৈঠক চলাকালে জলবায়ু প্রশমন, অভিযোজন এবং স্থিতিস্থাপকতা ইস্যুতে একত্রে কাজ করতে সম্মত হয়েছে ভারত ও ইইউ এর প্রতিনিধিগণ। টিমারম্যানস বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত ইতোমধ্যেই সবুজ পরিবর্তনের জন্য একসাথে কাজ করছে এবং আমরা সেই কাজটি চালিয়ে যেতে এবং প্রসারিত করতে আগ্রহী। আন্তর্জাতিক সৌর জোট এবং দুর্যোগ প্রতিরোধী অবকাঠামোর জন্য জোট এখন পর্যন্ত আমাদের সহযোগিতার দুটি চমৎকার উদাহরণ।”

জানা গিয়েছে, আলোচনাকালে গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়া গ্লাসগো সম্মেলন বা কোপ-২৬ শীর্ষ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ সমূহকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালনের অঙ্গীকার ব্যাক্ত করেছেন বক্তাগণ।

টিমারম্যানস বলেন, “কোপ-২৬ এর মূলনীতির জরুরি বাস্তবায়ন প্রয়োজন। প্রথম ইইউ-ভারত হাইড্রোজেন ফোরাম সংগঠিত করা সহ সবুজ হাইড্রোজেনের উপর সহযোগিতা সম্প্রসারণ পূর্বক এই লক্ষ্যে আমরা ক্রমাগত কাজ করে চলেছি।”

ইউরোপীয় এই নেতা আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর ২০৭০ সালের মধ্যে নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রার ঘোষণাটি খুবই ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছি আমরা। এই লক্ষ্য ভারতের নিজস্ব সবুজ রূপান্তরকে চালিত করতে সাহায্য করবে এবং কোপ-২৬ এর প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণাটি তাপমাত্রা কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে সাহায্য করেছে। প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নে এটি নিঃসন্দেহে দারুণ পদক্ষেপ। ভারত সর্বদাই আলোচনা এগোনোর পাশাপাশি কাজে বিশ্বাস করেছে। তাই আমরা সবুজ পরিবর্তনের জন্য আরও পরিকল্পনার অপেক্ষায় রয়েছি।”

টিমারম্যানস বলেন, “উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলার দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে আমরা দাতাদের সাথে ক্রমাগত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী বছরের মধ্যে আমরা এই লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই এ বছরই লক্ষ্যটি অর্জিত হোক।”

এসময়, কোপ-২৬ এর প্রশংসা করে ইইউ কমিশনের এই নির্বাহী সহ-সভাপতি আরও বলেন, “তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোপ-২৬ আমাদের গ্লোবাল ওয়ার্মিংকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে রাখার সুযোগ করে দিয়েছে। সমস্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে এই সংখ্যা ১.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে চলে আসবে। গ্লাসগোতে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা রাখতে এখনও অনেক কাজ বাকি আছে: আমাদের উচ্চ লক্ষ্য রাখতে হবে। সুতরাং, আমাদের কাজ হল কংক্রিট গার্হস্থ্য নীতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য একসাথে কাজ করা এবং নিশ্চিত করা যে প্রতিটি দল একটি এনডিসি জমা দেয় যা ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

এর আগে সম্মেলনে ভাষণ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি বলেন, “জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর অধীনে আমরা যে প্রতিশ্রুতি করছি তা আমরা পূরণ করব। আমরা গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কোপ-২৬ এ আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছি তা উচ্চাকাঙ্ক্ষী। শুধুমাত্র জলবায়ুর প্রতি ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই পরিবেশকে রক্ষা করা সম্ভব। জলবায়ু সংরক্ষণের পদক্ষেপের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের প্রয়োজন। যার জন্য উন্নত দেশগুলিকে অর্থ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। স্থায়িত্বের জন্য বিশ্বব্যাপী সাধারণের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

জলবায়ু ইস্যুতে আরও ঘনিষ্ঠ ইইউ-ভারত

প্রকাশ: ০৪:০৬:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত দিলো ভারত ও ইইউ। বিশ্বজুড়ে সবুজ রূপান্তরের লক্ষ্যে একত্রে কাজ করতে চলেছে ভারত এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর এই জোট। এমনটিই জানালেন, ইউরোপীয় কমিশনের নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফ্রান্স টিমারম্যানস। ভারত সর্বদাই জলবায়ু ইস্যুতে সোচ্চার থেকেছে জানিয়ে ইউরোপের দায়িত্বশীল এই নেতা বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে সবুজ রূপান্তরের ক্ষেত্রে বিস্তৃত ও ব্যাপকভাবে অংশীদারিত্বে প্রস্তুত।”

গত ১৭ ফেব্রুয়ারী, বৃহস্পতিবার, ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সামিটে বক্তৃতা করতে গিয়ে টিমারম্যানস এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, সবুজ রূপান্তর ইস্যুতে দীর্ঘদিন যাবত সোচ্চার রয়েছেন টিমারম্যানস। ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু-নিরপেক্ষতা লক্ষ্য বাস্তবায়নকে ইইউ আইনে অন্তর্ভূক্ত করতে তাঁর প্রচেষ্টা বিশ্বজোড়া প্রশংসা লাভ করে।

উল্লেখ্য, জলবায়ু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আলোচনার জন্য গত ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট শীর্ষ সম্মেলনটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এতে অংশগ্রহণকারী সকল দেশের সরকার প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা প্রতিনিধিগণ অর্থনীতির টেকসই আধুনিকীকরণ এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির মতো ইস্যুতে একত্রে কাজ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

বৈঠক চলাকালে জলবায়ু প্রশমন, অভিযোজন এবং স্থিতিস্থাপকতা ইস্যুতে একত্রে কাজ করতে সম্মত হয়েছে ভারত ও ইইউ এর প্রতিনিধিগণ। টিমারম্যানস বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত ইতোমধ্যেই সবুজ পরিবর্তনের জন্য একসাথে কাজ করছে এবং আমরা সেই কাজটি চালিয়ে যেতে এবং প্রসারিত করতে আগ্রহী। আন্তর্জাতিক সৌর জোট এবং দুর্যোগ প্রতিরোধী অবকাঠামোর জন্য জোট এখন পর্যন্ত আমাদের সহযোগিতার দুটি চমৎকার উদাহরণ।”

জানা গিয়েছে, আলোচনাকালে গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়া গ্লাসগো সম্মেলন বা কোপ-২৬ শীর্ষ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ সমূহকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালনের অঙ্গীকার ব্যাক্ত করেছেন বক্তাগণ।

টিমারম্যানস বলেন, “কোপ-২৬ এর মূলনীতির জরুরি বাস্তবায়ন প্রয়োজন। প্রথম ইইউ-ভারত হাইড্রোজেন ফোরাম সংগঠিত করা সহ সবুজ হাইড্রোজেনের উপর সহযোগিতা সম্প্রসারণ পূর্বক এই লক্ষ্যে আমরা ক্রমাগত কাজ করে চলেছি।”

ইউরোপীয় এই নেতা আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর ২০৭০ সালের মধ্যে নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রার ঘোষণাটি খুবই ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছি আমরা। এই লক্ষ্য ভারতের নিজস্ব সবুজ রূপান্তরকে চালিত করতে সাহায্য করবে এবং কোপ-২৬ এর প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণাটি তাপমাত্রা কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে সাহায্য করেছে। প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নে এটি নিঃসন্দেহে দারুণ পদক্ষেপ। ভারত সর্বদাই আলোচনা এগোনোর পাশাপাশি কাজে বিশ্বাস করেছে। তাই আমরা সবুজ পরিবর্তনের জন্য আরও পরিকল্পনার অপেক্ষায় রয়েছি।”

টিমারম্যানস বলেন, “উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলার দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে আমরা দাতাদের সাথে ক্রমাগত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী বছরের মধ্যে আমরা এই লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই এ বছরই লক্ষ্যটি অর্জিত হোক।”

এসময়, কোপ-২৬ এর প্রশংসা করে ইইউ কমিশনের এই নির্বাহী সহ-সভাপতি আরও বলেন, “তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোপ-২৬ আমাদের গ্লোবাল ওয়ার্মিংকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে রাখার সুযোগ করে দিয়েছে। সমস্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে এই সংখ্যা ১.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে চলে আসবে। গ্লাসগোতে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা রাখতে এখনও অনেক কাজ বাকি আছে: আমাদের উচ্চ লক্ষ্য রাখতে হবে। সুতরাং, আমাদের কাজ হল কংক্রিট গার্হস্থ্য নীতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য একসাথে কাজ করা এবং নিশ্চিত করা যে প্রতিটি দল একটি এনডিসি জমা দেয় যা ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

এর আগে সম্মেলনে ভাষণ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি বলেন, “জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর অধীনে আমরা যে প্রতিশ্রুতি করছি তা আমরা পূরণ করব। আমরা গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কোপ-২৬ এ আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছি তা উচ্চাকাঙ্ক্ষী। শুধুমাত্র জলবায়ুর প্রতি ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই পরিবেশকে রক্ষা করা সম্ভব। জলবায়ু সংরক্ষণের পদক্ষেপের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের প্রয়োজন। যার জন্য উন্নত দেশগুলিকে অর্থ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। স্থায়িত্বের জন্য বিশ্বব্যাপী সাধারণের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক