০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাণিজ্য বাঁধা কমাতে ভারত-জার্মানীর কর্মপরিকল্পনা

চলতি বছরে গুণমানসম্পন্ন পরিকাঠামো উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাঁধা দূরীকরণ, পণ্যের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং ভোক্তা অধিকার সুরক্ষিত করতে একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা স্বাক্ষর করেছে ভারত ও জার্মানী। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি, বুধবার, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে ০৮ম বারের মতো বৈঠকে বসে ইন্দো-জার্মান ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যগণ। সেখানেই অনুমোদিত হয় কর্মপরিকল্পনাটি।

পরবর্তীতে ভারতের ভোক্তা অধিকার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে এক বিবৃতিতে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ গতিশীলতা, শক্তি, বৃত্তাকার অর্থনীতি, স্মার্ট ফার্মিং, মেডিকেল ডিভাইস, ডিজিটালাইজেশন, যন্ত্রপাতি সুরক্ষা এবং চিকিৎসা ডিভাইস এর মতো সরঞ্জামাদিতে সহযোগিতার উপর ফোকাস করেছে। পাশাপাশি বাজার নজরদারির বিষয়েও একমত হয়েছে দু পক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে টানা বৈঠক করে আসছে ভারত-জার্মান যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। মূলত, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিভিন্ন খাত নিয়ে মতবিনিময় করে থাকে দু পক্ষ।

গতকালের বৈঠক শেষে ভারতের ভোক্তা বিষয়ক বিভাগের সেক্রেটারি রোহিত কুমার সিং বলেন, “জার্মানী ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বস্ত অংশীদার। আমরা একটি সু-প্রতিষ্ঠিত এবং শক্তিশালী পরিকাঠামো তৈরীর উপর গুরুত্বারোপ করছি, যেখানে সরকারের সাফল্য শতভাগ অর্জিত হবে। আমরা ভারতকে বিশ্বের উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার চেষ্টায় রয়েছি।”

স্বাক্ষরিত কর্মপরিকল্পনা চলতি বছরে জার্মান-ভারত সম্পর্কে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি, বিভিন্ন দিক ও খাত সম্পর্কে একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শেখার জন্য উভয় রাষ্ট্রের প্রমিতকরণ সংস্থা এবং শিল্পের মতো সমস্ত প্রাসঙ্গিক স্টেকহোল্ডারদের জড়িত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভোক্তা বিষয়ক বিভাগের সেক্রেটারি।

বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দেন তিনি। অন্যদিকে, জার্মান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ফেডারেল অর্থনৈতিক বিষয় ও জলবায়ু অ্যাকশন মন্ত্রকের ডিজিটাল এবং উদ্ভাবন নীতির মহাপরিচালক ডেনিলা ব্রনস্ট্রুপ। ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাক্ষরিত কর্মপরিকল্পনা ভারত ও জার্মানির মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক আরও বৃদ্ধিকল্পে কাজ করবে বলে ধারণা করছে বোদ্ধামহল। এছাড়া, বৈঠকে জার্মান পক্ষ ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নে নিজেদের নেয়া উদ্যোগ ভারতের সাথে শেয়ার করেছে বলেও জানা গিয়েছে।

সেখানে স্ট্যান্ডার্ড পরিচালক পদের জন্য জার্মান প্রার্থীর পক্ষে ভারতের সমর্থনও কামনা করেছে তারা। পাশাপাশি জার্মান পক্ষ দ্বারা পরিচালিত গ্লোবাল কোয়ালিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনডেক্স অধ্যয়নের ফলাফলও শেয়ার করা হয়েছে বৈঠকে।

গ্লোবাল কোয়ালিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনডেক্স অনুসারে, ভারত মানীকরণের দিক থেকে বিশ্বে ৭ম স্থানে, স্বীকৃত ক্রিয়াকলাপের জন্য ৯ম এবং মেট্রোলজি সম্পর্কিত ক্রিয়াকলাপের জন্য ১৯ তম স্থানে রয়েছে। এতে ভারতের স্কোর ১০০ তে ৯৫.৬।

খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

বাণিজ্য বাঁধা কমাতে ভারত-জার্মানীর কর্মপরিকল্পনা

প্রকাশ: ০৪:১৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২

চলতি বছরে গুণমানসম্পন্ন পরিকাঠামো উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাঁধা দূরীকরণ, পণ্যের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং ভোক্তা অধিকার সুরক্ষিত করতে একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা স্বাক্ষর করেছে ভারত ও জার্মানী। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি, বুধবার, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে ০৮ম বারের মতো বৈঠকে বসে ইন্দো-জার্মান ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যগণ। সেখানেই অনুমোদিত হয় কর্মপরিকল্পনাটি।

পরবর্তীতে ভারতের ভোক্তা অধিকার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে এক বিবৃতিতে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ গতিশীলতা, শক্তি, বৃত্তাকার অর্থনীতি, স্মার্ট ফার্মিং, মেডিকেল ডিভাইস, ডিজিটালাইজেশন, যন্ত্রপাতি সুরক্ষা এবং চিকিৎসা ডিভাইস এর মতো সরঞ্জামাদিতে সহযোগিতার উপর ফোকাস করেছে। পাশাপাশি বাজার নজরদারির বিষয়েও একমত হয়েছে দু পক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে টানা বৈঠক করে আসছে ভারত-জার্মান যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। মূলত, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিভিন্ন খাত নিয়ে মতবিনিময় করে থাকে দু পক্ষ।

গতকালের বৈঠক শেষে ভারতের ভোক্তা বিষয়ক বিভাগের সেক্রেটারি রোহিত কুমার সিং বলেন, “জার্মানী ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বস্ত অংশীদার। আমরা একটি সু-প্রতিষ্ঠিত এবং শক্তিশালী পরিকাঠামো তৈরীর উপর গুরুত্বারোপ করছি, যেখানে সরকারের সাফল্য শতভাগ অর্জিত হবে। আমরা ভারতকে বিশ্বের উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার চেষ্টায় রয়েছি।”

স্বাক্ষরিত কর্মপরিকল্পনা চলতি বছরে জার্মান-ভারত সম্পর্কে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি, বিভিন্ন দিক ও খাত সম্পর্কে একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শেখার জন্য উভয় রাষ্ট্রের প্রমিতকরণ সংস্থা এবং শিল্পের মতো সমস্ত প্রাসঙ্গিক স্টেকহোল্ডারদের জড়িত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভোক্তা বিষয়ক বিভাগের সেক্রেটারি।

বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দেন তিনি। অন্যদিকে, জার্মান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ফেডারেল অর্থনৈতিক বিষয় ও জলবায়ু অ্যাকশন মন্ত্রকের ডিজিটাল এবং উদ্ভাবন নীতির মহাপরিচালক ডেনিলা ব্রনস্ট্রুপ। ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাক্ষরিত কর্মপরিকল্পনা ভারত ও জার্মানির মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক আরও বৃদ্ধিকল্পে কাজ করবে বলে ধারণা করছে বোদ্ধামহল। এছাড়া, বৈঠকে জার্মান পক্ষ ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নে নিজেদের নেয়া উদ্যোগ ভারতের সাথে শেয়ার করেছে বলেও জানা গিয়েছে।

সেখানে স্ট্যান্ডার্ড পরিচালক পদের জন্য জার্মান প্রার্থীর পক্ষে ভারতের সমর্থনও কামনা করেছে তারা। পাশাপাশি জার্মান পক্ষ দ্বারা পরিচালিত গ্লোবাল কোয়ালিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনডেক্স অধ্যয়নের ফলাফলও শেয়ার করা হয়েছে বৈঠকে।

গ্লোবাল কোয়ালিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনডেক্স অনুসারে, ভারত মানীকরণের দিক থেকে বিশ্বে ৭ম স্থানে, স্বীকৃত ক্রিয়াকলাপের জন্য ৯ম এবং মেট্রোলজি সম্পর্কিত ক্রিয়াকলাপের জন্য ১৯ তম স্থানে রয়েছে। এতে ভারতের স্কোর ১০০ তে ৯৫.৬।

খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক