০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

লাদেনকে শহীদের মর্যাদা দেয়া নেতাও বিশ্বে রয়েছে: ভারত

সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে ফের একবার জাতিসংঘে পাকিস্তানের উপর চড়াও হলো ভারত। আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়া এবং সন্ত্রাসীদের মহামান্বিত করায় পাকিস্তানের কঠোর নিন্দা করে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি।

গত ০৯ ফেব্রুয়ারী, বুধবার, নিরাপত্তা পরিষদের ‘সন্ত্রাসী কর্মকান্ড: বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ -শীর্ষক এক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তৃতা করতে গিয়ে এভাবেই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের উপর তোপ দাগেন ভারতীয় প্রতিনিধি। তিনি বলেন, “২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা সহ দীর্ঘদিন যাবত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে ভারত। ২০১৬ সালেও পাঠানকোটে একই ধরণের হামলার শিকার হই আমরা। এসব ঘটনায় হতাহত কিংবা ভোক্তভূগী ব্যক্তিরা আজও ন্যায়বিচার পায়নি। আমরা অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, “আমরা বারংবার বলছি বিশ্বের যেকোনো অংশে সন্ত্রাসবাদ সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই সকল সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করতে গিয়ে আমাদের প্রতিক্রিয়া একীভূত এবং দ্ব্যর্থহীন হওয়া উচিত।”

প্রতিবেশী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য বানিয়ে তিরুমূর্তি বলেন, “আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, ০৯/১১ হামলার ২০ বছর পরও বিশ্বে এমন নেতা রয়েছেন, যারা কোনো অনুশোচনা ছাড়াই ওসামা বিন লাদেনকে একজন শহীদ হিসাবে মহামান্বিত করছেন।” গোটা বিষয়টিকে বিশ্বের জন্য গুরুতর উদ্বেগের আখ্যা দিয়ে এঁকে সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থানের প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক বলেন, “আমরা সর্বদাই আমাদের আশেপাশের সন্ত্রাসবাদের হুমকি ধারাবাহিকভাবে এই প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরেছি। আফগানিস্তানের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই নিরাপত্তা আশঙ্কা আরও বেড়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল উদ্বেগ সহকারে জানিয়েছে, আফগানিস্তানে আল-কায়েদা এবং বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিরাপদ আশ্রয় লাভ করছে। রিপোর্ট মতে, তালেবানের জেল থেকে কয়েক হাজার ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার পরে আইএসআইএল-খোরাসানের শক্তি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এসজি -এর একই রিপোর্ট মতে, আইএসআইএল-খোরাসানের নেতা শাহাব আল-মুহাজির নিষিদ্ধ হাক্কানি নেটওয়ার্কের সাথেও পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এসব বিষয়ে আমাদেরকে এখনই উদ্বীগ্ন হতে হবে।”

তিরুমূর্তি বলেন, “তালেবান নিষেধাজ্ঞা কমিটির প্রতিবেদনেও তালেবানের সঙ্গে হাক্কানি নেটওয়ার্ক, আল কায়েদা এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংযোগের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এখানে আমাদের প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্র এসব সন্ত্রাসীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দান করছে। এর আগে ১২৬৭ নং রেজুলেশনেও নিষেধাজ্ঞা আইনের অধীনে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সত্ত্বা যেমন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জইশ-ই-মোহাম্মদ সহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছিলো।”

এসময়, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং আফ্রিকান দেশগুলোতে ক্রমশ সন্ত্রাসবাদের বিস্তার রোধে বক্তব্য দেন তিরুমূর্তি। পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও নারী-শিশু মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে সরব হোন তিনি।

দুদিন পূর্বেও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে তোপ দেগেছিলেন তিরুমূর্তি। সম্প্রতি পাকিস্তান ভিত্তিক তালিকাভূক্ত কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিরাপত্তা পরিষদ সহ অন্যান্য সংস্থার নিষেধাজ্ঞা এড়াতে নিজেদেরকে মানবিক গোষ্ঠী হিসাবে পুনঃব্র্যান্ডিং করেছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

তিনি বলেছিলেন, “এই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো মানবিক সংস্থার ছাতা ব্যবহার করে তহবিল সংগ্রহ করে, জঙ্গি নিয়োগ করে। মানবিক সংস্থার পর্দার আড়ালে পাওয়া ছাড়ের অপব্যবহার করে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এই অঞ্চলে এবং তার বাইরেও তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রসারিত করে চলেছে। এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত।”

এর আগেও জাতিসংঘে সন্ত্রাসী দমন ইস্যুতে সরব হয়েছে ভারত। গত সপ্তাহেও শিখ, বৌদ্ধ এবং হিন্দু সহ বিশ্বের সকল ধর্মের প্রতি ঘৃণা ও সহিংস মনোভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহবান জানিয়েছে দেশটি।

তারও আগে ইউক্রেন ইস্যুতে দেশটি জানায়, “ভারতের স্বার্থ হল এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা যাতে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। সমস্ত দেশের বৈধ নিরাপত্তা স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এবং এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ করা উচিত।”

আফগান ইস্যুতেও নিরাপত্তা পরিষদে একাধিকবার সরব হয়েছিলো ভারত। জাতিসংঘে ভারতের দূত টিএস তিরুমূর্তি এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন বৈঠকে। সেখানে তালিবানি দখলের পর আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।

তিরুমূর্তি বলেন, “আফগানিস্তান এবং তালিবান সম্পর্কে বিশ্বের প্রত্যাশাগুলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ২৫৯৩-তে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত রয়েছে। সেখানে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা রয়েছে।”

ইয়েমেনে চলা সহিংসতার প্রতিবাদেও অবস্থান নেন তিরুমূর্তি। তিনি বলেন, “আমি সংঘাতের সকল পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য, পরিস্থিতির উত্তেজনা কমানোর জন্য এবং বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ইয়েমেনে সংঘাতের ব্যাপক সমাপ্তির আলোচনা শুরু করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এই সংঘাত ইয়েমেনের জনগণের উপর, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে চলেছে এবং মানুষের জীবনের উপর মর্মান্তিক ক্ষতি করছে।”

এসবের পাশাপাশি তাই সংঘাতে জড়িত সকল পক্ষের প্রতি মানবিক সহায়তা এবং মানবিক কর্মীদের চলাচলে কোনও প্রতিবন্ধকতা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার জন্য আহ্বান জানান তিরুমূর্তি। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের দেয়া ০৮ দফা সমাধান সূত্রের কথাও স্মরণ করেন তিনি। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

লাদেনকে শহীদের মর্যাদা দেয়া নেতাও বিশ্বে রয়েছে: ভারত

প্রকাশ: ০৪:৫৮:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২২

সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে ফের একবার জাতিসংঘে পাকিস্তানের উপর চড়াও হলো ভারত। আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়া এবং সন্ত্রাসীদের মহামান্বিত করায় পাকিস্তানের কঠোর নিন্দা করে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি।

গত ০৯ ফেব্রুয়ারী, বুধবার, নিরাপত্তা পরিষদের ‘সন্ত্রাসী কর্মকান্ড: বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ -শীর্ষক এক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তৃতা করতে গিয়ে এভাবেই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের উপর তোপ দাগেন ভারতীয় প্রতিনিধি। তিনি বলেন, “২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা সহ দীর্ঘদিন যাবত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে ভারত। ২০১৬ সালেও পাঠানকোটে একই ধরণের হামলার শিকার হই আমরা। এসব ঘটনায় হতাহত কিংবা ভোক্তভূগী ব্যক্তিরা আজও ন্যায়বিচার পায়নি। আমরা অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, “আমরা বারংবার বলছি বিশ্বের যেকোনো অংশে সন্ত্রাসবাদ সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই সকল সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করতে গিয়ে আমাদের প্রতিক্রিয়া একীভূত এবং দ্ব্যর্থহীন হওয়া উচিত।”

প্রতিবেশী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য বানিয়ে তিরুমূর্তি বলেন, “আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, ০৯/১১ হামলার ২০ বছর পরও বিশ্বে এমন নেতা রয়েছেন, যারা কোনো অনুশোচনা ছাড়াই ওসামা বিন লাদেনকে একজন শহীদ হিসাবে মহামান্বিত করছেন।” গোটা বিষয়টিকে বিশ্বের জন্য গুরুতর উদ্বেগের আখ্যা দিয়ে এঁকে সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থানের প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক বলেন, “আমরা সর্বদাই আমাদের আশেপাশের সন্ত্রাসবাদের হুমকি ধারাবাহিকভাবে এই প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরেছি। আফগানিস্তানের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই নিরাপত্তা আশঙ্কা আরও বেড়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল উদ্বেগ সহকারে জানিয়েছে, আফগানিস্তানে আল-কায়েদা এবং বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিরাপদ আশ্রয় লাভ করছে। রিপোর্ট মতে, তালেবানের জেল থেকে কয়েক হাজার ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার পরে আইএসআইএল-খোরাসানের শক্তি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এসজি -এর একই রিপোর্ট মতে, আইএসআইএল-খোরাসানের নেতা শাহাব আল-মুহাজির নিষিদ্ধ হাক্কানি নেটওয়ার্কের সাথেও পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এসব বিষয়ে আমাদেরকে এখনই উদ্বীগ্ন হতে হবে।”

তিরুমূর্তি বলেন, “তালেবান নিষেধাজ্ঞা কমিটির প্রতিবেদনেও তালেবানের সঙ্গে হাক্কানি নেটওয়ার্ক, আল কায়েদা এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংযোগের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এখানে আমাদের প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্র এসব সন্ত্রাসীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দান করছে। এর আগে ১২৬৭ নং রেজুলেশনেও নিষেধাজ্ঞা আইনের অধীনে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সত্ত্বা যেমন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জইশ-ই-মোহাম্মদ সহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছিলো।”

এসময়, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং আফ্রিকান দেশগুলোতে ক্রমশ সন্ত্রাসবাদের বিস্তার রোধে বক্তব্য দেন তিরুমূর্তি। পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও নারী-শিশু মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে সরব হোন তিনি।

দুদিন পূর্বেও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে তোপ দেগেছিলেন তিরুমূর্তি। সম্প্রতি পাকিস্তান ভিত্তিক তালিকাভূক্ত কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিরাপত্তা পরিষদ সহ অন্যান্য সংস্থার নিষেধাজ্ঞা এড়াতে নিজেদেরকে মানবিক গোষ্ঠী হিসাবে পুনঃব্র্যান্ডিং করেছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

তিনি বলেছিলেন, “এই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো মানবিক সংস্থার ছাতা ব্যবহার করে তহবিল সংগ্রহ করে, জঙ্গি নিয়োগ করে। মানবিক সংস্থার পর্দার আড়ালে পাওয়া ছাড়ের অপব্যবহার করে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এই অঞ্চলে এবং তার বাইরেও তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রসারিত করে চলেছে। এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত।”

এর আগেও জাতিসংঘে সন্ত্রাসী দমন ইস্যুতে সরব হয়েছে ভারত। গত সপ্তাহেও শিখ, বৌদ্ধ এবং হিন্দু সহ বিশ্বের সকল ধর্মের প্রতি ঘৃণা ও সহিংস মনোভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহবান জানিয়েছে দেশটি।

তারও আগে ইউক্রেন ইস্যুতে দেশটি জানায়, “ভারতের স্বার্থ হল এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা যাতে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। সমস্ত দেশের বৈধ নিরাপত্তা স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এবং এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ করা উচিত।”

আফগান ইস্যুতেও নিরাপত্তা পরিষদে একাধিকবার সরব হয়েছিলো ভারত। জাতিসংঘে ভারতের দূত টিএস তিরুমূর্তি এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন বৈঠকে। সেখানে তালিবানি দখলের পর আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।

তিরুমূর্তি বলেন, “আফগানিস্তান এবং তালিবান সম্পর্কে বিশ্বের প্রত্যাশাগুলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ২৫৯৩-তে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত রয়েছে। সেখানে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা রয়েছে।”

ইয়েমেনে চলা সহিংসতার প্রতিবাদেও অবস্থান নেন তিরুমূর্তি। তিনি বলেন, “আমি সংঘাতের সকল পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য, পরিস্থিতির উত্তেজনা কমানোর জন্য এবং বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ইয়েমেনে সংঘাতের ব্যাপক সমাপ্তির আলোচনা শুরু করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এই সংঘাত ইয়েমেনের জনগণের উপর, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে চলেছে এবং মানুষের জীবনের উপর মর্মান্তিক ক্ষতি করছে।”

এসবের পাশাপাশি তাই সংঘাতে জড়িত সকল পক্ষের প্রতি মানবিক সহায়তা এবং মানবিক কর্মীদের চলাচলে কোনও প্রতিবন্ধকতা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার জন্য আহ্বান জানান তিরুমূর্তি। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের দেয়া ০৮ দফা সমাধান সূত্রের কথাও স্মরণ করেন তিনি। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক