০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মানবিক সংগঠনের ছদ্মবেশ নিচ্ছে সন্ত্রাসীরা

সম্প্রতি তালিকাভূক্ত কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিরাপত্তা পরিষদ সহ অন্যান্য সংস্থার নিষেধাজ্ঞা এড়াতে নিজেদেরকে মানবিক গোষ্ঠী হিসাবে পুনঃব্র্যান্ডিং করেছে বলে অভিযোগ করেছে ভারত। গত ০৭ ফেব্রুয়ারী, সোমবার, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ‘নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সাধারণ সমস্যা: মানবিক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি রোধ করা’ -শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্ক আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সেখানে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি।

অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক নিজ বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, “আমরা সকলেই জানি যেকোনো নিষেধাজ্ঞা বৈধ মানবিক প্রয়োজনীয়তাকে বাধাগ্রস্ত করবে না। কিন্তু কাউকে মানবিক আখ্যা দানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট তদন্ত করে নেয়া উচিত। বিশেষ করে সম্প্রতি যখন সন্ত্রাসবাদ মানবতার আড়ালে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে চাইছে, তখন এটি অপরিহার্য।”

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসমূহ মানবিক সংস্থা হিসেবে নতুন আঙ্গিকে নিজেদের সাজিয়ে তুলছে এবং জাতিসংঘের ১২৬৭ নং রেজুলেশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, “এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসমূহ মানবিক কাজের দোহাই দিয়ে বিপুল অঙ্কের তহবিল সংগ্রহপূর্বক নিজেদের যোদ্ধা নিয়োগ করছে, অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করছে।”

এভাবে সন্ত্রাসবাদ প্রতিনিয়ত বিশ্বব্যাপী নিজেকে আরও বিস্তৃত এবং প্রসারিত করছে বলে নিরাপত্তা পরিষদকে হুঁশিয়ারি দেন তিরুমূর্তি। এসময়, নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার যথোপযুক্ত প্রয়োগের বিষয়েও উপদেশ দেন তিনি। পাশাপাশি জনদূর্ভোগ কমাতে সেসব নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার যথাযথ নিশ্চিতের উপরও জোর দেন তিনি।

এর আগেও জাতিসংঘে সন্ত্রাসী দমন ইস্যুতে সরব হয়েছে ভারত। গত সপ্তাহেও শিখ, বৌদ্ধ এবং হিন্দু সহ বিশ্বের সকল ধর্মের প্রতি ঘৃণা ও সহিংস মনোভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহবান জানিয়েছে দেশটি।

তারও আগে ইউক্রেন ইস্যুতে দেশটি জানায়, “ভারতের স্বার্থ হল এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা যাতে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। সমস্ত দেশের বৈধ নিরাপত্তা স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এবং এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ করা উচিত।”

আফগান ইস্যুতেও নিরাপত্তা পরিষদে একাধিকবার সরব হয়েছিলো ভারত। জাতিসংঘে ভারতের দূত টিএস তিরুমূর্তি এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন বৈঠকে। সেখানে তালিবানি দখলের পর আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।

তিরুমূর্তি বলেন, “আফগানিস্তান এবং তালিবান সম্পর্কে বিশ্বের প্রত্যাশাগুলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ২৫৯৩-তে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত রয়েছে। সেখানে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা রয়েছে।”

ইয়েমেনে চলা সহিংসতার প্রতিবাদেও অবস্থান নেন তিরুমূর্তি। তিনি বলেন, “আমি সংঘাতের সকল পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য, পরিস্থিতির উত্তেজনা কমানোর জন্য এবং বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ইয়েমেনে সংঘাতের ব্যাপক সমাপ্তির আলোচনা শুরু করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এই সংঘাত ইয়েমেনের জনগণের উপর, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে চলেছে এবং মানুষের জীবনের উপর মর্মান্তিক ক্ষতি করছে।”

গতকালও আলোচনাকালে তিরুমূর্তি জানান, “যেকোনো সংস্থা কিংবা ব্যক্তিকে মানবিক ছাড়ের অনুমতি দানের সময় যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা প্রয়োজন।” সন্ত্রাসবাদের পাশাপাশি করোনা মহামারীর মতো অভূতপূর্ব দুর্যোগ বিভিন্ন দেশের জনগণের দূর্দশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাই জনগণের পাশে থাকতে এসব সমস্যাকে একদম শেকড় থেকে টেনে তুলতে হবে বলে পরামর্শ দেন তিনি।

এসব নিষেধাজ্ঞা যথোপযুক্ত ভাবে প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক আইনের নীতি মেনে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে জাতিসংঘকে কয়েকটি উপদেশ দেন তিরুমূর্তি। সেগুলো যথাক্রমে, যেকোনো অপরাধের শেষ বিকল্প হিসেবে নিষেধাজ্ঞার প্রয়োগ করা উচিত যেখানে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবেনা। পাশাপাশি প্রত্যেক দেশের উচিত সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করা যেনো প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পায়।

দ্বিতীয়ত, প্রতিটি নিষেধাজ্ঞা বিধানের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেনো তা প্রত্যাহারের মানদন্ডও আদর্শভাবে তৈরী করা যায়। তৃতীয়, নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া সাধারণ জনসংখ্যার উপর এই ধরণের পদক্ষেপের নেতিবাচক প্রভাব কমানোর সমস্ত প্রচেষ্টা করা। চতুর্থ, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ ফ্রিজ করার ক্ষেত্রে সুক্ষ্মভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেনো তা অবশ্যই বাস্তবসম্মত হয়।

এসবের পাশাপাশি তাই সংঘাতে জড়িত সকল পক্ষের প্রতি মানবিক সহায়তা এবং মানবিক কর্মীদের চলাচলে কোনও প্রতিবন্ধকতা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার জন্য আহ্বান জানান তিরুমূর্তি।

খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

 

ট্যাগ:

নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মানবিক সংগঠনের ছদ্মবেশ নিচ্ছে সন্ত্রাসীরা

প্রকাশ: ০৩:৪৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২

সম্প্রতি তালিকাভূক্ত কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিরাপত্তা পরিষদ সহ অন্যান্য সংস্থার নিষেধাজ্ঞা এড়াতে নিজেদেরকে মানবিক গোষ্ঠী হিসাবে পুনঃব্র্যান্ডিং করেছে বলে অভিযোগ করেছে ভারত। গত ০৭ ফেব্রুয়ারী, সোমবার, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ‘নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সাধারণ সমস্যা: মানবিক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি রোধ করা’ -শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্ক আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সেখানে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি।

অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক নিজ বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, “আমরা সকলেই জানি যেকোনো নিষেধাজ্ঞা বৈধ মানবিক প্রয়োজনীয়তাকে বাধাগ্রস্ত করবে না। কিন্তু কাউকে মানবিক আখ্যা দানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট তদন্ত করে নেয়া উচিত। বিশেষ করে সম্প্রতি যখন সন্ত্রাসবাদ মানবতার আড়ালে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে চাইছে, তখন এটি অপরিহার্য।”

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসমূহ মানবিক সংস্থা হিসেবে নতুন আঙ্গিকে নিজেদের সাজিয়ে তুলছে এবং জাতিসংঘের ১২৬৭ নং রেজুলেশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, “এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসমূহ মানবিক কাজের দোহাই দিয়ে বিপুল অঙ্কের তহবিল সংগ্রহপূর্বক নিজেদের যোদ্ধা নিয়োগ করছে, অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করছে।”

এভাবে সন্ত্রাসবাদ প্রতিনিয়ত বিশ্বব্যাপী নিজেকে আরও বিস্তৃত এবং প্রসারিত করছে বলে নিরাপত্তা পরিষদকে হুঁশিয়ারি দেন তিরুমূর্তি। এসময়, নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার যথোপযুক্ত প্রয়োগের বিষয়েও উপদেশ দেন তিনি। পাশাপাশি জনদূর্ভোগ কমাতে সেসব নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার যথাযথ নিশ্চিতের উপরও জোর দেন তিনি।

এর আগেও জাতিসংঘে সন্ত্রাসী দমন ইস্যুতে সরব হয়েছে ভারত। গত সপ্তাহেও শিখ, বৌদ্ধ এবং হিন্দু সহ বিশ্বের সকল ধর্মের প্রতি ঘৃণা ও সহিংস মনোভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহবান জানিয়েছে দেশটি।

তারও আগে ইউক্রেন ইস্যুতে দেশটি জানায়, “ভারতের স্বার্থ হল এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা যাতে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। সমস্ত দেশের বৈধ নিরাপত্তা স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এবং এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ করা উচিত।”

আফগান ইস্যুতেও নিরাপত্তা পরিষদে একাধিকবার সরব হয়েছিলো ভারত। জাতিসংঘে ভারতের দূত টিএস তিরুমূর্তি এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন বৈঠকে। সেখানে তালিবানি দখলের পর আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।

তিরুমূর্তি বলেন, “আফগানিস্তান এবং তালিবান সম্পর্কে বিশ্বের প্রত্যাশাগুলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ২৫৯৩-তে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত রয়েছে। সেখানে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা রয়েছে।”

ইয়েমেনে চলা সহিংসতার প্রতিবাদেও অবস্থান নেন তিরুমূর্তি। তিনি বলেন, “আমি সংঘাতের সকল পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য, পরিস্থিতির উত্তেজনা কমানোর জন্য এবং বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ইয়েমেনে সংঘাতের ব্যাপক সমাপ্তির আলোচনা শুরু করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এই সংঘাত ইয়েমেনের জনগণের উপর, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে চলেছে এবং মানুষের জীবনের উপর মর্মান্তিক ক্ষতি করছে।”

গতকালও আলোচনাকালে তিরুমূর্তি জানান, “যেকোনো সংস্থা কিংবা ব্যক্তিকে মানবিক ছাড়ের অনুমতি দানের সময় যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা প্রয়োজন।” সন্ত্রাসবাদের পাশাপাশি করোনা মহামারীর মতো অভূতপূর্ব দুর্যোগ বিভিন্ন দেশের জনগণের দূর্দশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাই জনগণের পাশে থাকতে এসব সমস্যাকে একদম শেকড় থেকে টেনে তুলতে হবে বলে পরামর্শ দেন তিনি।

এসব নিষেধাজ্ঞা যথোপযুক্ত ভাবে প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক আইনের নীতি মেনে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে জাতিসংঘকে কয়েকটি উপদেশ দেন তিরুমূর্তি। সেগুলো যথাক্রমে, যেকোনো অপরাধের শেষ বিকল্প হিসেবে নিষেধাজ্ঞার প্রয়োগ করা উচিত যেখানে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবেনা। পাশাপাশি প্রত্যেক দেশের উচিত সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করা যেনো প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পায়।

দ্বিতীয়ত, প্রতিটি নিষেধাজ্ঞা বিধানের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেনো তা প্রত্যাহারের মানদন্ডও আদর্শভাবে তৈরী করা যায়। তৃতীয়, নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া সাধারণ জনসংখ্যার উপর এই ধরণের পদক্ষেপের নেতিবাচক প্রভাব কমানোর সমস্ত প্রচেষ্টা করা। চতুর্থ, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ ফ্রিজ করার ক্ষেত্রে সুক্ষ্মভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেনো তা অবশ্যই বাস্তবসম্মত হয়।

এসবের পাশাপাশি তাই সংঘাতে জড়িত সকল পক্ষের প্রতি মানবিক সহায়তা এবং মানবিক কর্মীদের চলাচলে কোনও প্রতিবন্ধকতা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার জন্য আহ্বান জানান তিরুমূর্তি।

খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক