০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিক্স: কূটনৈতিক বয়কট ভারতের

বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিক্স কূটনৈতিক বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। অলিম্পিক্সের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না কোনও ভারতীয় কূটনীতিক। অলিম্পিক্সের এক মশালবাহককে গালওয়ান হামলায় দেখা গিয়েছিলো। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদপত্র ছবিসহ এমনই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে সেই মশালবাহকের নাম কি ফ্যাবু।

২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কি ফ্যাবু। শীতকালীন অলিম্পিক্স শুরু হওয়ার আগে এই প্রতিবেদন যে চীনের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠবে এবং বিশ্বমঞ্চে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ।

এই প্রতিবেদনের খবর ভারতের কানে যেতেই দেশটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা চীনের শীতকালীন অলিম্পিক্স বয়কট করবে। মার্কিন সেনেটের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য জিম রিশ বলছেন, “বেইজিং যেভাবে অন্য দেশে আক্রমণকারী একজন সেনা জওয়ানকে অলিম্পিকের মশালবাহক হিসাবে বেছে নিয়েছে সেটা লজ্জাজনক। এই সেনাই উইঘুরদের গণহত্যাতে অভিযুক্ত। আমেরিকা সবসময় ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং উইঘুরদের মানবাধিকারের পক্ষে থাকবে।”

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেন, “আমরা প্রতিবেদনটি দেখেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে চীন খেলা নিয়েও রাজনীতি করছে। আর এজন্যই বেইজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাসের আমাদের ইনচার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স অলিম্পিক্সের উদ্বোধনী বা সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না।”

শুধু তাই নয় ‘প্রসার ভারতী’র সিইও শশী শেখর ভেম্পতি জানিয়েছেন, ডিডি স্পোর্টস চ্যানেল বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিক্সের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে না।

এর আগে বেজিং অলিম্পিক্স কূটনৈতিকভাবে সর্বপ্রথম বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় আমেরিকা। তারাই প্রথম জানিয়েছিল যে অলিম্পিক্সে মার্কিন অ্যাথলেটরা যোগ দিলেও প্রশাসনের কোনও কর্মকর্তা সেখানে অংশ নেবেন না। এরপর একে একে কানাডা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়াও একই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। সম্প্রতি ডেনমার্ক এবং নেদারল্যান্ডসও একই কথা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গালওয়ানে চীনের সেনার হানার ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ১৫ জুন। চীন সেনার অতর্কিত হামলায় নিহত হন ভারতের কর্নেল সন্তোষবাবু। অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছিল স্নো লিওপার্ড। সেই সংঘর্ষে ৩৮ জন চীন সৈন্যের মৃত্যু হয়েছিল গালওয়ান নদীর বরফ ঠান্ডা জলে ডুবে। সংঘর্ষে মোট ৪২ জন চীন সৈন্যের মৃত্যু হয় বলে দাবি করে অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা ক্ল্যাক্সন’। যদিও চীন জানিয়েছিল তাদের তরফ থেকে চার জন সেনার মৃত্যু হয়েছে গালওয়ানে। ওই চারজনকে মরণোত্তর সামরিক সম্মানও দেয় বেইজিং। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিক্স: কূটনৈতিক বয়কট ভারতের

প্রকাশ: ০২:৩১:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২

বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিক্স কূটনৈতিক বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। অলিম্পিক্সের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না কোনও ভারতীয় কূটনীতিক। অলিম্পিক্সের এক মশালবাহককে গালওয়ান হামলায় দেখা গিয়েছিলো। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদপত্র ছবিসহ এমনই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে সেই মশালবাহকের নাম কি ফ্যাবু।

২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কি ফ্যাবু। শীতকালীন অলিম্পিক্স শুরু হওয়ার আগে এই প্রতিবেদন যে চীনের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠবে এবং বিশ্বমঞ্চে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ।

এই প্রতিবেদনের খবর ভারতের কানে যেতেই দেশটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা চীনের শীতকালীন অলিম্পিক্স বয়কট করবে। মার্কিন সেনেটের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য জিম রিশ বলছেন, “বেইজিং যেভাবে অন্য দেশে আক্রমণকারী একজন সেনা জওয়ানকে অলিম্পিকের মশালবাহক হিসাবে বেছে নিয়েছে সেটা লজ্জাজনক। এই সেনাই উইঘুরদের গণহত্যাতে অভিযুক্ত। আমেরিকা সবসময় ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং উইঘুরদের মানবাধিকারের পক্ষে থাকবে।”

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেন, “আমরা প্রতিবেদনটি দেখেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে চীন খেলা নিয়েও রাজনীতি করছে। আর এজন্যই বেইজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাসের আমাদের ইনচার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স অলিম্পিক্সের উদ্বোধনী বা সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না।”

শুধু তাই নয় ‘প্রসার ভারতী’র সিইও শশী শেখর ভেম্পতি জানিয়েছেন, ডিডি স্পোর্টস চ্যানেল বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিক্সের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে না।

এর আগে বেজিং অলিম্পিক্স কূটনৈতিকভাবে সর্বপ্রথম বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় আমেরিকা। তারাই প্রথম জানিয়েছিল যে অলিম্পিক্সে মার্কিন অ্যাথলেটরা যোগ দিলেও প্রশাসনের কোনও কর্মকর্তা সেখানে অংশ নেবেন না। এরপর একে একে কানাডা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়াও একই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। সম্প্রতি ডেনমার্ক এবং নেদারল্যান্ডসও একই কথা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গালওয়ানে চীনের সেনার হানার ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ১৫ জুন। চীন সেনার অতর্কিত হামলায় নিহত হন ভারতের কর্নেল সন্তোষবাবু। অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছিল স্নো লিওপার্ড। সেই সংঘর্ষে ৩৮ জন চীন সৈন্যের মৃত্যু হয়েছিল গালওয়ান নদীর বরফ ঠান্ডা জলে ডুবে। সংঘর্ষে মোট ৪২ জন চীন সৈন্যের মৃত্যু হয় বলে দাবি করে অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা ক্ল্যাক্সন’। যদিও চীন জানিয়েছিল তাদের তরফ থেকে চার জন সেনার মৃত্যু হয়েছে গালওয়ানে। ওই চারজনকে মরণোত্তর সামরিক সম্মানও দেয় বেইজিং। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক