১০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে বারাণসী পর্যন্ত জলপথ ব্যবহারের প্রস্তাব ভারতের

বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিমুখী বাণিজ্য এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে ঢাকাকে বারাণসী পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ জলপথ ব্যবস্থা ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে নয়াদিল্লী। সম্প্রতি বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

নিজ বক্তব্যে দোরাইস্বামী বলেন, “উপ-আঞ্চলিক সংযোগ প্রত্যেকের জন্যেই সুফল বয়ে আনে। কূটনীতিতে এটি নিঃসন্দেহে গেম চেঞ্জার একটি মাধ্যম। বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগের ক্ষেত্রে আমরা ধারাবাহিক উন্নতিতে বিশ্বাস করি। আমাদের দ্বিমুখী বাণিজ্যের উন্নতির জন্যেই এটি প্রয়োজন।”

আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে দোরাইস্বামী আরও বলেন, “এখানকার যেমন উপলব্ধি করতে পারেন যে ভারত বাংলাদেশের মাধ্যমে নিজের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে প্রবেশ করতে চায়, তেমনই বাংলাদেশও ভারতের ভূখন্ড ব্যবহার করে নেপাল, ভুটানে এবং মায়ানমারে প্রবেশ করতে চায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বিশেষভাবে বলেছেন, আমাদের যেমন আপনাদেরকে প্রয়োজন, আপনাদেরও আমাদেরকে প্রয়োজন। তাই আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করা উচিত।”

এসময়, সংযোগ জোরদারে নেপাল ও ভূটানের সঙ্গে হওয়া ভারতের একটি সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা করেন দোরাইস্বামী। তিনি বলেন, “যখন রাস্তা ব্যবহারের কথা আসে, আমরা ইতিমধ্যে নেপালের সাথে একটি পারস্পরিক চুক্তি করেছি। আমাদের ট্রাকসমূহ নেপালের রাস্তায় চলতে পারে, নেপালি ট্রাকগুলোও কলকাতায় আসতে পারে বা যেখানে তাদের যেতে হবে, যেতে পারে। ভূটানের ট্রাকগুলোও ভারতের রাস্তায় চলাচল করতে পারে এবং বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত আসতে পারে। কিন্তু ভারতীয় ট্রাকগুলো এখনও ভূটানে সেভাবে প্রবেশাধিকার পাচ্ছেনা। আমরা এর উপরও কাজ করছি।”

এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং ভূটান যদি একত্রে সমঝোতায় পৌছাতে পারে, তাহলে সেটা আদতে সবার জন্যেই লাভজনক প্রজেক্টে পরিণত হবে বলে মনে করেন দোরাইস্বামী। এক্ষেত্রে মায়ানমার এবং থাইল্যান্ডকেও যুক্ত করার আভাস দিয়েছেন তিনি।

যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে রেলপথের কথাও তুলে ধরেন দোরাইস্বামী। বাংলাদেশ ইচ্ছে করলেই ভারতের অভ্যন্তর দিয়ে নেপাল অবধি রেলপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহণ করতে পারে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বিমান পরিষেবা উন্নতকরণের দিকেও মনযোগ দেয়ার আহবান জানান অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, “শুধু বাংলাদেশই নয়, ভারতও তিস্তা চুক্তি সই করতে চায়। এ বিষয়টি সুরাহার বিষয়ে ভারতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছিল। তবে বন্ধু হিসেবে বলতে চাই, বাংলাদেশের বন্ধুরা যেমন আমাদের বলে বাংলাদেশকে বুঝতে হবে; আমিও বলতে চাই, ভারতকে বোঝাটাও জরুরি। আমাদের কিছু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা একতরফাভাবে বদলে দেওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি করে দেওয়া আছে। পানির বিষয়ে ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে অনেক জটিলতা রয়েছে। আমরা সমস্যাটির সমাধান চাই না, তা কিন্তু নয়। আমরা সব পক্ষকে নিয়েই এটির সুরাহা করতে চাই। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক। এটির সুরাহা হওয়া উচিত। বাংলাদেশের বন্ধুদের বোঝা উচিত, আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নেই। কিন্তু কোনো বিষয় সুরাহার ক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব রাজনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে এটি আমাদের অন্য অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টনের বিষয় থেকে সরিয়ে রাখবে না। কারণ, আমাদের অভিন্ন নদীর সংখ্যা ৫২। তাই অন্য নদীগুলোর ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে কীভাবে করতে পারি, সেটি দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে।”

সবশেষে দোরাইস্বামী বলেন, “ভারতের কাছে প্রতিবেশীদের অন্যতম বাংলাদেশ। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দুই দেশ নিজেদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও তথ্য বিনিময় করে। নিজেদের স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করে; যা সব সময় জনসমক্ষে আসে না। দুই দেশের গণতন্ত্রের কারণে নাগরিকেরাও নানা বিষয়ে মত দেন। তবে নাগরিকদের মতামতই শেষ পর্যন্ত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নয়।” খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

বাংলাদেশকে বারাণসী পর্যন্ত জলপথ ব্যবহারের প্রস্তাব ভারতের

প্রকাশ: ০৫:৫১:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ জানুয়ারী ২০২২

বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিমুখী বাণিজ্য এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে ঢাকাকে বারাণসী পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ জলপথ ব্যবস্থা ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে নয়াদিল্লী। সম্প্রতি বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

নিজ বক্তব্যে দোরাইস্বামী বলেন, “উপ-আঞ্চলিক সংযোগ প্রত্যেকের জন্যেই সুফল বয়ে আনে। কূটনীতিতে এটি নিঃসন্দেহে গেম চেঞ্জার একটি মাধ্যম। বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগের ক্ষেত্রে আমরা ধারাবাহিক উন্নতিতে বিশ্বাস করি। আমাদের দ্বিমুখী বাণিজ্যের উন্নতির জন্যেই এটি প্রয়োজন।”

আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে দোরাইস্বামী আরও বলেন, “এখানকার যেমন উপলব্ধি করতে পারেন যে ভারত বাংলাদেশের মাধ্যমে নিজের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে প্রবেশ করতে চায়, তেমনই বাংলাদেশও ভারতের ভূখন্ড ব্যবহার করে নেপাল, ভুটানে এবং মায়ানমারে প্রবেশ করতে চায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বিশেষভাবে বলেছেন, আমাদের যেমন আপনাদেরকে প্রয়োজন, আপনাদেরও আমাদেরকে প্রয়োজন। তাই আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করা উচিত।”

এসময়, সংযোগ জোরদারে নেপাল ও ভূটানের সঙ্গে হওয়া ভারতের একটি সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা করেন দোরাইস্বামী। তিনি বলেন, “যখন রাস্তা ব্যবহারের কথা আসে, আমরা ইতিমধ্যে নেপালের সাথে একটি পারস্পরিক চুক্তি করেছি। আমাদের ট্রাকসমূহ নেপালের রাস্তায় চলতে পারে, নেপালি ট্রাকগুলোও কলকাতায় আসতে পারে বা যেখানে তাদের যেতে হবে, যেতে পারে। ভূটানের ট্রাকগুলোও ভারতের রাস্তায় চলাচল করতে পারে এবং বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত আসতে পারে। কিন্তু ভারতীয় ট্রাকগুলো এখনও ভূটানে সেভাবে প্রবেশাধিকার পাচ্ছেনা। আমরা এর উপরও কাজ করছি।”

এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং ভূটান যদি একত্রে সমঝোতায় পৌছাতে পারে, তাহলে সেটা আদতে সবার জন্যেই লাভজনক প্রজেক্টে পরিণত হবে বলে মনে করেন দোরাইস্বামী। এক্ষেত্রে মায়ানমার এবং থাইল্যান্ডকেও যুক্ত করার আভাস দিয়েছেন তিনি।

যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে রেলপথের কথাও তুলে ধরেন দোরাইস্বামী। বাংলাদেশ ইচ্ছে করলেই ভারতের অভ্যন্তর দিয়ে নেপাল অবধি রেলপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহণ করতে পারে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বিমান পরিষেবা উন্নতকরণের দিকেও মনযোগ দেয়ার আহবান জানান অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, “শুধু বাংলাদেশই নয়, ভারতও তিস্তা চুক্তি সই করতে চায়। এ বিষয়টি সুরাহার বিষয়ে ভারতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছিল। তবে বন্ধু হিসেবে বলতে চাই, বাংলাদেশের বন্ধুরা যেমন আমাদের বলে বাংলাদেশকে বুঝতে হবে; আমিও বলতে চাই, ভারতকে বোঝাটাও জরুরি। আমাদের কিছু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা একতরফাভাবে বদলে দেওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি করে দেওয়া আছে। পানির বিষয়ে ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে অনেক জটিলতা রয়েছে। আমরা সমস্যাটির সমাধান চাই না, তা কিন্তু নয়। আমরা সব পক্ষকে নিয়েই এটির সুরাহা করতে চাই। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক। এটির সুরাহা হওয়া উচিত। বাংলাদেশের বন্ধুদের বোঝা উচিত, আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নেই। কিন্তু কোনো বিষয় সুরাহার ক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব রাজনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে এটি আমাদের অন্য অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টনের বিষয় থেকে সরিয়ে রাখবে না। কারণ, আমাদের অভিন্ন নদীর সংখ্যা ৫২। তাই অন্য নদীগুলোর ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে কীভাবে করতে পারি, সেটি দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে।”

সবশেষে দোরাইস্বামী বলেন, “ভারতের কাছে প্রতিবেশীদের অন্যতম বাংলাদেশ। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দুই দেশ নিজেদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও তথ্য বিনিময় করে। নিজেদের স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করে; যা সব সময় জনসমক্ষে আসে না। দুই দেশের গণতন্ত্রের কারণে নাগরিকেরাও নানা বিষয়ে মত দেন। তবে নাগরিকদের মতামতই শেষ পর্যন্ত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নয়।” খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক