০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতকে বিশ্বের প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র বানাতে চান রাজনাথ

ভারতের প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সামগ্রী ও সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় জিনিসের অধিকাংশ দেশেই উৎপাদন করা হবে। রাশিয়া, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এবার সরাসরি তা জানিয়ে দিনের দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছেন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয় সামরিক প্ল্যাটফর্ম ও সরঞ্জামসমূহ এখন থেকে দেশে তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

রাজনাথ সিং এদিন নাম না করে চীন ও পাকিস্তানকেও নিশানা করেন। আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উন্নয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ঈশ্বর ভারতকে এমন কিছু প্রতিবেশী দিয়েছেন যারা ভারতের বৃদ্ধি ও উন্নয়ন ভালোভাবে নিতে পারছে না। দেশভাগের ফলে জম্ম নেওয়া দেশই আজ ভারতের উন্নয়ন দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।”

ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বেশিরভার দেশ বর্তমানে ভারতের বন্ধু। কিন্তু তারপরও ভারতে নিজেদের বন্ধু দেশগুলোকে জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক হার্ডওয়্যার দেশেই তৈরি করতে হবে।”

রাজনাথ সিং বলেন, “ভারত প্রতিটি বন্ধুসম দেশকে বলেছে যে আমরা দেশের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই ভারতেই সামরিক প্ল্যাটফর্ম, অস্ত্র, গোলাবারুদ তৈরি করতে চাই।” এই বার্তাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স ও অন্যান্যদের কাছেও পৌঁছে দিয়েছে ভারত। তবে এই বার্তা নিয়ে ভারতের মিত্রদের কোনও দ্বিধা বা দ্বন্দ্ব নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী দেশগুলোকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া, মেক ফর ইন্ডিয়া ও মেক ফর দ্যা ওয়ার্ড।’ ভারতের এই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির যজ্ঞে বিশ্বের বাকি দেশগুলোকে এগিয়ে আসার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কথা প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ তুলে ধরে রাজনাথ সিং বলেছেন, শুক্রবার, ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফ্লোরেন্স পার্লির সঙ্গে তার আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, একটি বড় ফরাসি সংস্থা কৌশলগত অংশীদারিত্ব মডেলের অধীনে ভারতের একটি সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি ইঞ্জিন তৈরি করবে। তবে এর বেশি আর কিছুই বলেননি রাজনাথ সিং।

মোদী মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী বলেন, আমরা সব বন্ধু রাষ্ট্রকে বলেছি দেশের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সামরিক প্ল্যাটফর্ম, অস্ত্র ও গোলা-বারুদ ভারতে তৈরি করতে চাই। আমরা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স ও অপর মিত্রদের এই বার্তা দিয়েছি। এই বার্তা দিতে আমরা কোনও দ্বিধা করিনি। ভারতের এই পদক্ষেপে তার বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের ইতিবাচক সাড়া এসেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেছেন অভ্যন্তরীন প্রতিরক্ষা শিল্পকে উন্নীত করার জন্য একটি স্থির সময়সীমার অধীনে ২০৯ রকম সামরিক সরঞ্জাম আমদানি না করার কথা আগেও ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই তালিকা আগামী দিনে আরও দীর্ঘ হতে পারে।

এই তালিকায় সব মিলিয়ে ১০০০টি সামগ্রী থাকতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি সরকারি ও বেসরকারি খাতের সংস্থাসমূহের মধ্যে ন্যায্য প্রতিরক্ষার কথাও বলছেন।

সেই সূত্র ধরেই তিনি জানিয়েছেন ২০০ বছর পুরনো অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের কর্পোরেটাইজেশনকে স্বাধীনতার পরে প্রতিরক্ষাখাতে সবথেকে বড় সংস্কার হিসেবে বর্ণানা করা হয়েছে। বর্তমানে ভারতের প্রতিরক্ষা মহাকাশ উৎপাদন বাজার মূল্য প্রায় ৮৫০০০ কোটি টাকা। এটি ২০২২ সালের মধ্যে এক লক্ষ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে উন্নত করে সরকারও বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

ভারতকে বিশ্বের প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র বানাতে চান রাজনাথ

প্রকাশ: ০১:৫৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২১

ভারতের প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সামগ্রী ও সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় জিনিসের অধিকাংশ দেশেই উৎপাদন করা হবে। রাশিয়া, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এবার সরাসরি তা জানিয়ে দিনের দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছেন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয় সামরিক প্ল্যাটফর্ম ও সরঞ্জামসমূহ এখন থেকে দেশে তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

রাজনাথ সিং এদিন নাম না করে চীন ও পাকিস্তানকেও নিশানা করেন। আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উন্নয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ঈশ্বর ভারতকে এমন কিছু প্রতিবেশী দিয়েছেন যারা ভারতের বৃদ্ধি ও উন্নয়ন ভালোভাবে নিতে পারছে না। দেশভাগের ফলে জম্ম নেওয়া দেশই আজ ভারতের উন্নয়ন দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।”

ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বেশিরভার দেশ বর্তমানে ভারতের বন্ধু। কিন্তু তারপরও ভারতে নিজেদের বন্ধু দেশগুলোকে জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক হার্ডওয়্যার দেশেই তৈরি করতে হবে।”

রাজনাথ সিং বলেন, “ভারত প্রতিটি বন্ধুসম দেশকে বলেছে যে আমরা দেশের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই ভারতেই সামরিক প্ল্যাটফর্ম, অস্ত্র, গোলাবারুদ তৈরি করতে চাই।” এই বার্তাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স ও অন্যান্যদের কাছেও পৌঁছে দিয়েছে ভারত। তবে এই বার্তা নিয়ে ভারতের মিত্রদের কোনও দ্বিধা বা দ্বন্দ্ব নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী দেশগুলোকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া, মেক ফর ইন্ডিয়া ও মেক ফর দ্যা ওয়ার্ড।’ ভারতের এই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির যজ্ঞে বিশ্বের বাকি দেশগুলোকে এগিয়ে আসার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কথা প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ তুলে ধরে রাজনাথ সিং বলেছেন, শুক্রবার, ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফ্লোরেন্স পার্লির সঙ্গে তার আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, একটি বড় ফরাসি সংস্থা কৌশলগত অংশীদারিত্ব মডেলের অধীনে ভারতের একটি সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি ইঞ্জিন তৈরি করবে। তবে এর বেশি আর কিছুই বলেননি রাজনাথ সিং।

মোদী মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী বলেন, আমরা সব বন্ধু রাষ্ট্রকে বলেছি দেশের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সামরিক প্ল্যাটফর্ম, অস্ত্র ও গোলা-বারুদ ভারতে তৈরি করতে চাই। আমরা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স ও অপর মিত্রদের এই বার্তা দিয়েছি। এই বার্তা দিতে আমরা কোনও দ্বিধা করিনি। ভারতের এই পদক্ষেপে তার বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের ইতিবাচক সাড়া এসেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেছেন অভ্যন্তরীন প্রতিরক্ষা শিল্পকে উন্নীত করার জন্য একটি স্থির সময়সীমার অধীনে ২০৯ রকম সামরিক সরঞ্জাম আমদানি না করার কথা আগেও ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই তালিকা আগামী দিনে আরও দীর্ঘ হতে পারে।

এই তালিকায় সব মিলিয়ে ১০০০টি সামগ্রী থাকতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি সরকারি ও বেসরকারি খাতের সংস্থাসমূহের মধ্যে ন্যায্য প্রতিরক্ষার কথাও বলছেন।

সেই সূত্র ধরেই তিনি জানিয়েছেন ২০০ বছর পুরনো অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের কর্পোরেটাইজেশনকে স্বাধীনতার পরে প্রতিরক্ষাখাতে সবথেকে বড় সংস্কার হিসেবে বর্ণানা করা হয়েছে। বর্তমানে ভারতের প্রতিরক্ষা মহাকাশ উৎপাদন বাজার মূল্য প্রায় ৮৫০০০ কোটি টাকা। এটি ২০২২ সালের মধ্যে এক লক্ষ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে উন্নত করে সরকারও বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক