০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অন্যতম অংশীজন বিএসএফ: জয়শঙ্কর

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত ১৬ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার, জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার প্রায় চার হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে বিএসএফ। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকালেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলো ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আমাদের এই বাহিনী।”

জয়শঙ্কর আরও বলেন, “আমরা অকুতোভয় বিএসএফ অফিসার এবং সেনাদের স্যালুট জানাই, যাদের দৃঢ় সংকল্প এবং বীরত্ব ১৯৭১ সালে একটি ইতিহাস তৈরি করেছিল। আমাদের গভীর শ্রদ্ধা সেই সমস্ত বিএসএফ সৈন্যদের প্রতি, যারা যুদ্ধের সময় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন।”

চলতি বছরটি ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের জন্যই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, “যেমনটি আপনারা সবাই জানেন, আমাদের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বর্তমানে ঢাকায় বিজয় দিবস উদযাপনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন। এর আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্চ মাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। তাছাড়া, ভারত কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার ঘটনাকে স্মরণ করতে এ বছর ০৬ ডিসেম্বর থেকে আমরা মৈত্রী দিবস উদযাপন শুরু করেছি।”

মোদী মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী বলেন, “আমাদের দু দেশের মধ্যে বৈচিত্র্যময় সীমান্ত রয়েছে। দু দেশের জনগণের মধ্যে গভীর জাতিগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এখানে অপরিহার্য। বিএসএফ গত পাঁচ দশক ধরে এই জটিল এবং বহুমুখী কাজটি করছে।”

এসময়, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশেরও প্রশংসা করেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি বিজিবি ও বিএসএফ এর পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও আলোকপাত করেন তিনি।

বিএসএফ এর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে বলতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “১৯৫৬ সালে যখন বিএসএফ প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন এর মূল উদ্দেশ্য ছিলো পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত রক্ষা করা। ৭১ এর যুদ্ধকালীন সময়ে বাহিনীটি নিজেদের কৈশোর অবস্থা পাড় করছিলো। তথাপি যুদ্ধে ভীষণ সাহসিকতার পরিচয় দেয় বাহিনীটি। ব্যতিক্রমী বিভিন্ন পদক্ষেপে যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

যুদ্ধকালীণ সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা কেউই ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর দ্বারা শুরু করা গণহত্যা অভিযান ভুলতে পারি না। অপারেশন সার্চলাইট সত্যিই সাম্প্রতিক ইতিহাসে ব্যাপক নৃশংসতা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর উদাহরণগুলোর একটি।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু যখন বাংলাদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান, তখন ভারতের মানুষ এতে আকন্ঠ সমর্থন জোগায়। গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখার সংগ্রামে বাংলাদেশের জনগণের সমর্থনে আমাদের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক প্রচেষ্টা এখন স্বীকৃত।”

শরণার্থী ইস্যুতেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। বলেন, “প্রায় এক কোটি শরণার্থী সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পাড়ি জমান। বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভারতের জনগণ একাত্মভাবে তাদেরকে গ্রহণ করে এবং তাদেরকে সমর্থন ও সহায়তা দেয়। বিএসএফ এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলো।”

অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক আরও বলেন, “যুদ্ধ পরিচালনার উদ্দেশ্যে যেসব আওয়ামী লীগ নেতা ভারতে পাড়ি জমান, তাদেরকে সাদরে গ্রহণ করে বিএসএফ। তাছাড়া, যুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের অভ্যন্তর ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের যোগসূত্রও হয়ে উঠেছিলো বিএসএফ। মুক্তিবাহিনীকেও নানাভাবে সাহায্য করে বিএসএফ।”

এসময়, বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামে বিএসএফ-এর ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল প্রয়াত শ্রী গোলক মজুমদারের অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তাকে সম্মানসূচক ‘বাংলাদেশের বন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেছে বলে সবাইকে জানান তিনি।

তাছাড়া, বর্তমান সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন এবং প্রাক-বিদ্যমান রেলপথ, সড়ক ও জলপথ খোলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, “মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য মাল্টি-মডাল ক্রস বর্ডার সংযোগ আরও জোরদার করার জন্য বেশ কিছু প্রচেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে বিএসএফ এবং বিজিবির একতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”  খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অন্যতম অংশীজন বিএসএফ: জয়শঙ্কর

প্রকাশ: ০৭:৫৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২১

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত ১৬ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার, জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার প্রায় চার হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে বিএসএফ। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকালেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলো ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আমাদের এই বাহিনী।”

জয়শঙ্কর আরও বলেন, “আমরা অকুতোভয় বিএসএফ অফিসার এবং সেনাদের স্যালুট জানাই, যাদের দৃঢ় সংকল্প এবং বীরত্ব ১৯৭১ সালে একটি ইতিহাস তৈরি করেছিল। আমাদের গভীর শ্রদ্ধা সেই সমস্ত বিএসএফ সৈন্যদের প্রতি, যারা যুদ্ধের সময় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন।”

চলতি বছরটি ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের জন্যই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, “যেমনটি আপনারা সবাই জানেন, আমাদের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বর্তমানে ঢাকায় বিজয় দিবস উদযাপনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন। এর আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্চ মাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। তাছাড়া, ভারত কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার ঘটনাকে স্মরণ করতে এ বছর ০৬ ডিসেম্বর থেকে আমরা মৈত্রী দিবস উদযাপন শুরু করেছি।”

মোদী মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী বলেন, “আমাদের দু দেশের মধ্যে বৈচিত্র্যময় সীমান্ত রয়েছে। দু দেশের জনগণের মধ্যে গভীর জাতিগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এখানে অপরিহার্য। বিএসএফ গত পাঁচ দশক ধরে এই জটিল এবং বহুমুখী কাজটি করছে।”

এসময়, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশেরও প্রশংসা করেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি বিজিবি ও বিএসএফ এর পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও আলোকপাত করেন তিনি।

বিএসএফ এর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে বলতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “১৯৫৬ সালে যখন বিএসএফ প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন এর মূল উদ্দেশ্য ছিলো পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত রক্ষা করা। ৭১ এর যুদ্ধকালীন সময়ে বাহিনীটি নিজেদের কৈশোর অবস্থা পাড় করছিলো। তথাপি যুদ্ধে ভীষণ সাহসিকতার পরিচয় দেয় বাহিনীটি। ব্যতিক্রমী বিভিন্ন পদক্ষেপে যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

যুদ্ধকালীণ সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা কেউই ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর দ্বারা শুরু করা গণহত্যা অভিযান ভুলতে পারি না। অপারেশন সার্চলাইট সত্যিই সাম্প্রতিক ইতিহাসে ব্যাপক নৃশংসতা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর উদাহরণগুলোর একটি।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু যখন বাংলাদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান, তখন ভারতের মানুষ এতে আকন্ঠ সমর্থন জোগায়। গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখার সংগ্রামে বাংলাদেশের জনগণের সমর্থনে আমাদের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক প্রচেষ্টা এখন স্বীকৃত।”

শরণার্থী ইস্যুতেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। বলেন, “প্রায় এক কোটি শরণার্থী সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পাড়ি জমান। বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভারতের জনগণ একাত্মভাবে তাদেরকে গ্রহণ করে এবং তাদেরকে সমর্থন ও সহায়তা দেয়। বিএসএফ এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলো।”

অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক আরও বলেন, “যুদ্ধ পরিচালনার উদ্দেশ্যে যেসব আওয়ামী লীগ নেতা ভারতে পাড়ি জমান, তাদেরকে সাদরে গ্রহণ করে বিএসএফ। তাছাড়া, যুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের অভ্যন্তর ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের যোগসূত্রও হয়ে উঠেছিলো বিএসএফ। মুক্তিবাহিনীকেও নানাভাবে সাহায্য করে বিএসএফ।”

এসময়, বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামে বিএসএফ-এর ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল প্রয়াত শ্রী গোলক মজুমদারের অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তাকে সম্মানসূচক ‘বাংলাদেশের বন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেছে বলে সবাইকে জানান তিনি।

তাছাড়া, বর্তমান সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন এবং প্রাক-বিদ্যমান রেলপথ, সড়ক ও জলপথ খোলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, “মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য মাল্টি-মডাল ক্রস বর্ডার সংযোগ আরও জোরদার করার জন্য বেশ কিছু প্রচেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে বিএসএফ এবং বিজিবির একতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”  খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক