০৫:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গণতন্ত্রের সার্থকতা ছিল, আছে, থাকবে: মোদী

বাইডেনের সামিট ফর ডেমোক্রেসিতে যোগ দিয়ে বিশ্বের কাছে গণতন্ত্রের জয়গান করলেন মোদী। দৃপ্ত কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন, “গণতন্ত্রের সার্থকতা আগেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।” গত ০৯ ডিসেম্বর বিশ্বের গণতান্ত্রিক ১১০ টি রাষ্ট্রের সমন্বয়ে আয়োজিত দুদিন ব্যাপী গণতন্ত্র সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এভাবেই নিজের মনোভব ব্যক্ত করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় ভারতীয়দের বিশ্বাস ও অবস্থানের কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, “এই সম্মেলনে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। গণতান্ত্রিক চেতনা আমাদের সভ্যতার নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “বিশ্বের কাছে ভারতের একটাই বার্তা- গণতন্ত্রের সার্থকতা আগেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মানুষের মধ্যে এবং মানুষের সঙ্গে গণতন্ত্র রয়েছে। ভারতীয়দের মজ্জায় গণতন্ত্র রয়েছে। গণতান্ত্রিক চেতনা এবং নীতি প্রাচীন ভারতকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ করে তুলেছিলো। কয়েক শতাব্দীর ঔপনিবেশিক শাসন ভারতীয় জনগণের গণতান্ত্রিক চেতনাকে দমন করতে পারেনি”

মোদীর কথায়, “ভারতীয় গণতান্ত্রিক শাসনের চারটি স্তম্ভ হল – সংবেদনশীলতা, জবাবদিহি, অংশগ্রহণ এবং সংস্কার। ৭৫ বছর আগে ৯ ডিসেম্বরের দিনই স্বাধীন ভারতের গণপরিষদে প্রথম অধিবেশন আয়োজিত হয়েছিল।”

গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সংবিধানে উল্লেখিত মূল্যবোধ বাস্তবায়িত করার উপর জোর দেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রের ধারণার অন্যতম উৎস ভারতীয় সভ্যতার আচার-বিচার। ভারতীয়দের মধ্যে অনেক আগে থেকেই রয়েছে গণতান্ত্রিক চেতনা। রয়েছে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বহুত্ববাদী আচার। প্রবাসী ভারতীয়রাও এই চেতনাকে অনুসরণ করেন। সেই কারণে ভিন দেশের সমাজ কল্যাণ ও সম্প্রীতিতেও এর প্রভাব দেখা যায়।”

মোদী বলেন, “গণতন্ত্র জনগণের দ্বারা, জনগণের সাথে এবং জনগণের জন্য তো বটেই, জনগণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে।” এসময়, বহুদলীয় নির্বাচন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং মুক্ত গণমাধ্যমের মতো কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ বলে মন্তব্য করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

আলোচনাকালে বহুপাক্ষিক সমঝোতার উপর জোর দেন তিনি। বলেন, “আমাদের অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া এবং ক্রিপ্টো-কারেন্সির মতো উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য যৌথভাবে বৈশ্বিক নিয়ম তৈরী করতে হবে। যাতে সেগুলো গণতন্ত্রকে ক্ষমতায়ন করতে ব্যবহার করা হয়, এটিকে দুর্বল করার জন্য নয়।”

সম্মেলনের পর মোদী নিজে টুইট করে লেখেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমন্ত্রণে সামিট ফর ডেমোক্রেসিতে অংশ নিতে পেরে আমি খুশি৷ বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসাবে, বহুপাক্ষিক ফোরাম সহ বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে আমাদের অংশীদারদের সাথে কাজ করতে ভারত প্রস্তুত৷ খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

গণতন্ত্রের সার্থকতা ছিল, আছে, থাকবে: মোদী

প্রকাশ: ০২:৩০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২১

বাইডেনের সামিট ফর ডেমোক্রেসিতে যোগ দিয়ে বিশ্বের কাছে গণতন্ত্রের জয়গান করলেন মোদী। দৃপ্ত কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন, “গণতন্ত্রের সার্থকতা আগেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।” গত ০৯ ডিসেম্বর বিশ্বের গণতান্ত্রিক ১১০ টি রাষ্ট্রের সমন্বয়ে আয়োজিত দুদিন ব্যাপী গণতন্ত্র সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এভাবেই নিজের মনোভব ব্যক্ত করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় ভারতীয়দের বিশ্বাস ও অবস্থানের কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, “এই সম্মেলনে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। গণতান্ত্রিক চেতনা আমাদের সভ্যতার নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “বিশ্বের কাছে ভারতের একটাই বার্তা- গণতন্ত্রের সার্থকতা আগেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মানুষের মধ্যে এবং মানুষের সঙ্গে গণতন্ত্র রয়েছে। ভারতীয়দের মজ্জায় গণতন্ত্র রয়েছে। গণতান্ত্রিক চেতনা এবং নীতি প্রাচীন ভারতকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ করে তুলেছিলো। কয়েক শতাব্দীর ঔপনিবেশিক শাসন ভারতীয় জনগণের গণতান্ত্রিক চেতনাকে দমন করতে পারেনি”

মোদীর কথায়, “ভারতীয় গণতান্ত্রিক শাসনের চারটি স্তম্ভ হল – সংবেদনশীলতা, জবাবদিহি, অংশগ্রহণ এবং সংস্কার। ৭৫ বছর আগে ৯ ডিসেম্বরের দিনই স্বাধীন ভারতের গণপরিষদে প্রথম অধিবেশন আয়োজিত হয়েছিল।”

গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সংবিধানে উল্লেখিত মূল্যবোধ বাস্তবায়িত করার উপর জোর দেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রের ধারণার অন্যতম উৎস ভারতীয় সভ্যতার আচার-বিচার। ভারতীয়দের মধ্যে অনেক আগে থেকেই রয়েছে গণতান্ত্রিক চেতনা। রয়েছে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বহুত্ববাদী আচার। প্রবাসী ভারতীয়রাও এই চেতনাকে অনুসরণ করেন। সেই কারণে ভিন দেশের সমাজ কল্যাণ ও সম্প্রীতিতেও এর প্রভাব দেখা যায়।”

মোদী বলেন, “গণতন্ত্র জনগণের দ্বারা, জনগণের সাথে এবং জনগণের জন্য তো বটেই, জনগণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে।” এসময়, বহুদলীয় নির্বাচন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং মুক্ত গণমাধ্যমের মতো কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ বলে মন্তব্য করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

আলোচনাকালে বহুপাক্ষিক সমঝোতার উপর জোর দেন তিনি। বলেন, “আমাদের অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া এবং ক্রিপ্টো-কারেন্সির মতো উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য যৌথভাবে বৈশ্বিক নিয়ম তৈরী করতে হবে। যাতে সেগুলো গণতন্ত্রকে ক্ষমতায়ন করতে ব্যবহার করা হয়, এটিকে দুর্বল করার জন্য নয়।”

সম্মেলনের পর মোদী নিজে টুইট করে লেখেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমন্ত্রণে সামিট ফর ডেমোক্রেসিতে অংশ নিতে পেরে আমি খুশি৷ বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসাবে, বহুপাক্ষিক ফোরাম সহ বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে আমাদের অংশীদারদের সাথে কাজ করতে ভারত প্রস্তুত৷ খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক