০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বহুজাতিক মহড়া প্যানেক্স-২১ আয়োজন করছে ভারত

মহামারীকালীন সঙ্কটে যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে বহুজাতিক মহড়া প্যানেক্স-২১ আয়োজন করতে চলেছে ভারত। ০৭ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার, নয়াদিল্লিতে প্যানেক্স ২১-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। মূলত, ভারতের নিকট প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ এবং বিমসটেক রাষ্ট্রগুলোর সমন্বয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই মহড়াটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ থেকে ২২ ডিসেম্বর অবধি সময়কালে।

ভারতের পুনেতে আয়োজিত এই ইভেন্টে সভাপতিত্ব করেন ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী অজয় ভাট। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমসটেক এর মহাসচিব তেনজিন লেকফেল, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত, সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল ভিআর চৌধুরী, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আর হরি কুমার, চিফ অব ইন্টিগ্রেটেড স্টাফ (সিআইএসসি) এয়ার মার্শাল বিআর কৃষ্ণ এবং বিমসটেক দেশগুলোর হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ভারতীয় সামরিক কর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অংশ নেন বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের সামরিক বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল। পরবর্তীতে এক বিবৃতিতের মাধ্যমে গোটা তথ্যটি নিশ্চিত করে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তৃতা করেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল নারভানে। নিজ বক্তব্যের শুরুতেই অতিথিদের স্বাগত জানান তিনি। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আগত অতিথিদের ভবিষ্যতে মহামারীকালীন দুর্যোগ মোকাবেলায় মহড়াটিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহবান জানান নারভানে।

আলোচনাকালে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জৈব যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রওয়াত। তিনি বলেন, “দেশে অনেক বিপর্যয় হয়েছে। যার মধ্যে কিছু প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট ছিল। তবে সমস্ত বিপর্যয়ের শীর্ষে রয়েছে ভাইরাসজনিত মহামারী। এর জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহামারীর মোকাবিলা করতে হবে।”

এসময়, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সম্ভাব্য ভয়াবহতার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি একটি নতুন ধরনের যুদ্ধের উপর আলোকপাত করেছেন। রাওয়াত বলেন, “যদি জৈব যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে সকলের উচিত নিজের দেশকে বিভিন্ন জীবাণু ও মহামারীর হাত থেকে রক্ষা করা।”

তাছাড়া, ভারতের প্রতিবেশী প্রথম নীতির বিষয়েও সবাইকে পুনরায় অবহিত করেন তিনি। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর প্রধান কর্তা বলেন, “আমাদের বিমসটেক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রয়েছে। ইতোপূর্বেও ভারতের তত্ত্বাবধানে দুটো বিমসটেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুশীলন করা হয়েছে। (দিল্লিতে ডিএমইএক্স-২০১৭ এবং পুরীতে ডিএমইএক্স-২০২০) ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বক্তব্য দেন ইভেন্টের সভাপতি ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী অজয় ভাট। তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করা খুবই জটিল কাজ। এটি একা বা একক প্রচেষ্টায় মোকাবেলা করা সম্ভবপর নয়। তাই সবাইকে একত্রে এসব দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। সেজন্যেই আমাদের এই আয়োজন।”

এক পর্যায়ে করোনা মহামারীতে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ভূমিকা ও সরকারের প্রচেষ্টার বিষয়ে আলোকপাত করেন তিনি। পরিচালিত সকল ত্রাণ কার্যক্রম সম্পর্কে আগত সকল অতিথিবৃন্দকে অবহিত করেন মোদী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্য।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর আবহে বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে একত্রে বিপর্যয় মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেজন্যেই মহা আড়ম্বরে শুরু হতে যাচ্ছে প্যানেক্স-২১। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ReplyForward
ট্যাগ:

বহুজাতিক মহড়া প্যানেক্স-২১ আয়োজন করছে ভারত

প্রকাশ: ০২:০২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২১
মহামারীকালীন সঙ্কটে যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে বহুজাতিক মহড়া প্যানেক্স-২১ আয়োজন করতে চলেছে ভারত। ০৭ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার, নয়াদিল্লিতে প্যানেক্স ২১-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। মূলত, ভারতের নিকট প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ এবং বিমসটেক রাষ্ট্রগুলোর সমন্বয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই মহড়াটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ থেকে ২২ ডিসেম্বর অবধি সময়কালে।

ভারতের পুনেতে আয়োজিত এই ইভেন্টে সভাপতিত্ব করেন ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী অজয় ভাট। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমসটেক এর মহাসচিব তেনজিন লেকফেল, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত, সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল ভিআর চৌধুরী, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আর হরি কুমার, চিফ অব ইন্টিগ্রেটেড স্টাফ (সিআইএসসি) এয়ার মার্শাল বিআর কৃষ্ণ এবং বিমসটেক দেশগুলোর হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ভারতীয় সামরিক কর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অংশ নেন বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের সামরিক বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল। পরবর্তীতে এক বিবৃতিতের মাধ্যমে গোটা তথ্যটি নিশ্চিত করে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তৃতা করেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল নারভানে। নিজ বক্তব্যের শুরুতেই অতিথিদের স্বাগত জানান তিনি। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আগত অতিথিদের ভবিষ্যতে মহামারীকালীন দুর্যোগ মোকাবেলায় মহড়াটিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহবান জানান নারভানে।

আলোচনাকালে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জৈব যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রওয়াত। তিনি বলেন, “দেশে অনেক বিপর্যয় হয়েছে। যার মধ্যে কিছু প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট ছিল। তবে সমস্ত বিপর্যয়ের শীর্ষে রয়েছে ভাইরাসজনিত মহামারী। এর জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহামারীর মোকাবিলা করতে হবে।”

এসময়, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সম্ভাব্য ভয়াবহতার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি একটি নতুন ধরনের যুদ্ধের উপর আলোকপাত করেছেন। রাওয়াত বলেন, “যদি জৈব যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে সকলের উচিত নিজের দেশকে বিভিন্ন জীবাণু ও মহামারীর হাত থেকে রক্ষা করা।”

তাছাড়া, ভারতের প্রতিবেশী প্রথম নীতির বিষয়েও সবাইকে পুনরায় অবহিত করেন তিনি। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর প্রধান কর্তা বলেন, “আমাদের বিমসটেক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রয়েছে। ইতোপূর্বেও ভারতের তত্ত্বাবধানে দুটো বিমসটেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুশীলন করা হয়েছে। (দিল্লিতে ডিএমইএক্স-২০১৭ এবং পুরীতে ডিএমইএক্স-২০২০) ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বক্তব্য দেন ইভেন্টের সভাপতি ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী অজয় ভাট। তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করা খুবই জটিল কাজ। এটি একা বা একক প্রচেষ্টায় মোকাবেলা করা সম্ভবপর নয়। তাই সবাইকে একত্রে এসব দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। সেজন্যেই আমাদের এই আয়োজন।”

এক পর্যায়ে করোনা মহামারীতে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ভূমিকা ও সরকারের প্রচেষ্টার বিষয়ে আলোকপাত করেন তিনি। পরিচালিত সকল ত্রাণ কার্যক্রম সম্পর্কে আগত সকল অতিথিবৃন্দকে অবহিত করেন মোদী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্য।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর আবহে বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে একত্রে বিপর্যয় মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেজন্যেই মহা আড়ম্বরে শুরু হতে যাচ্ছে প্যানেক্স-২১। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ReplyForward