০৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পাক বাহিনীর হাতে ভারতীয় জেলে হত্যার ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে দিল্লী

সমুদ্রে আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে এক ভারতীয় জেলে নিহত হয়েছেন। গত ০৬ নভেম্বর, শনিবার, বিকেলে ভারতের গুজরাটের ওখা বন্দরের কাছে পাকিস্তানের মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি’র (পিএমএসএ) গুলিতে ওই ভারতীয় জেলে নিহত হন।

এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেছে ভারত। এমনকি জেলেকে হত্যার প্রতিবাদে এফআইআর দায়ের করেছে দেশটি। ভারতের সরকারি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে জলপরী নামক একটি নৌকা নিয়ে গুজরাটের সমুদ্রে মাছ ধরতে যান সাত ভারতীয় জেলে। ভুলবশত তারা আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যেতেই নৌকা লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে পাকিস্তানের মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সির সদস্যরা।

জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের ওখা বন্দরের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সতর্ক না করেই ভারতীয় জেলেদের ওপর গুলি চালায় পাকিস্তানের মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি। গুলিতে ঘটনাস্থলেই এক জেলে নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও এক জেলে। বর্তমানে গুজরাটের একটি হাসপাতালে আহত ওই জেলের চিকিৎসা চলছে। নিহত ওই জেলের নাম শ্রীধর রমেশ চামরে। ৩২ বছর বয়সী এই জেলে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা ছিলেন।

সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সমুদ্রের পানির ওপর কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব না হওয়ায়, কেউ আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছাকাছি চলে আসলে তাকে প্রথমে সতর্ক করার নিয়ম রয়েছে। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ভারতীয় ওই জেলেদের দাবি, কোনো ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া ছাড়াই পাকিস্তানের বাহিনী তাদের ওপর গুলি চালায়।

মাছ ধরতে সমুদ্রে যাওয়া জেলেকে হত্যার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে মোদী সরকার। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘গোটা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা করা হবে। একইসঙ্গে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।’

উল্লেখ্য, এমন এক সময়ে ঘটনাটি ঘটলো, যখন পাকিস্তানের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তাল ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক। কদিন আগেই জানা গিয়েছে, আগামী ১০ নভেম্বর আফগান ইস্যুতে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা নিরাপত্তা সংলাপে অংশ নেবেনা পাকিস্তান। এছাড়াও, শ্রীনগর-শারজাহ ফ্লাইটের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি পাকিস্তান। এমতাবস্থায়, ভারতীয় জেলে হত্যার ঘটনাটি কতদূড় গড়ায়, সেটিই দেখার!

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

পাক বাহিনীর হাতে ভারতীয় জেলে হত্যার ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে দিল্লী

প্রকাশ: ০৪:৪৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ নভেম্বর ২০২১

সমুদ্রে আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে এক ভারতীয় জেলে নিহত হয়েছেন। গত ০৬ নভেম্বর, শনিবার, বিকেলে ভারতের গুজরাটের ওখা বন্দরের কাছে পাকিস্তানের মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি’র (পিএমএসএ) গুলিতে ওই ভারতীয় জেলে নিহত হন।

এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেছে ভারত। এমনকি জেলেকে হত্যার প্রতিবাদে এফআইআর দায়ের করেছে দেশটি। ভারতের সরকারি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে জলপরী নামক একটি নৌকা নিয়ে গুজরাটের সমুদ্রে মাছ ধরতে যান সাত ভারতীয় জেলে। ভুলবশত তারা আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যেতেই নৌকা লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে পাকিস্তানের মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সির সদস্যরা।

জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের ওখা বন্দরের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সতর্ক না করেই ভারতীয় জেলেদের ওপর গুলি চালায় পাকিস্তানের মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি। গুলিতে ঘটনাস্থলেই এক জেলে নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও এক জেলে। বর্তমানে গুজরাটের একটি হাসপাতালে আহত ওই জেলের চিকিৎসা চলছে। নিহত ওই জেলের নাম শ্রীধর রমেশ চামরে। ৩২ বছর বয়সী এই জেলে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা ছিলেন।

সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সমুদ্রের পানির ওপর কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব না হওয়ায়, কেউ আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছাকাছি চলে আসলে তাকে প্রথমে সতর্ক করার নিয়ম রয়েছে। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ভারতীয় ওই জেলেদের দাবি, কোনো ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া ছাড়াই পাকিস্তানের বাহিনী তাদের ওপর গুলি চালায়।

মাছ ধরতে সমুদ্রে যাওয়া জেলেকে হত্যার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে মোদী সরকার। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘গোটা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা করা হবে। একইসঙ্গে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।’

উল্লেখ্য, এমন এক সময়ে ঘটনাটি ঘটলো, যখন পাকিস্তানের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তাল ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক। কদিন আগেই জানা গিয়েছে, আগামী ১০ নভেম্বর আফগান ইস্যুতে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা নিরাপত্তা সংলাপে অংশ নেবেনা পাকিস্তান। এছাড়াও, শ্রীনগর-শারজাহ ফ্লাইটের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি পাকিস্তান। এমতাবস্থায়, ভারতীয় জেলে হত্যার ঘটনাটি কতদূড় গড়ায়, সেটিই দেখার!

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক