১২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বাস্তিল কুচকাওয়াজে যাচ্ছে ভারতীয় সেনার তিন শাখা

১৪ জুলাই দিনটি ফ্রান্সে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। এটি বাস্তিল দিবস হিসেবেও পরিচিত। ফরাসী বিপ্লবের সময় ১৭৮৯ সালের এই দিনেই বাস্তিল দুর্গের পতন হয়েছিল। এবছরে ফ্রান্সে বাস্তিল দিবসের কুচকাওয়াজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীকে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই কুচকাওয়াজে ফরাসী সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখার ২৬৯ জন সদস্যও যোগ দেবেন। এরা আজই ফ্রান্স রওনা হয়ে গেছেন।

সেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই ভারতীয় ও ফরাসী সেনাবাহিনী একে অপরের সংস্পর্শে এসেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ১৩ লক্ষেও বেশি ভারতীয় সৈন্য যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৪ হাজার নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন ৬৭ হাজার সেনা। ফ্রান্সের মাটিতেও ভারতীয় সেনাদল বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। তাঁদের সাহস, বীরত্ব ও চরম আত্মত্যাগ শুধু শত্রুকেই পর্যুদস্তু করেনি, যুদ্ধ জয়ের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে ২৫ লক্ষ ভারতীয় সেনা যোগ দিয়েছিলেন। সেবারও অনেকে যুদ্ধ করেছিলেন ফ্রান্সের মাটিতে। ভারতীয় সেনা এই যুদ্ধে বীরত্বের যে নিদর্শন রেখেছিল, তাঁদের দেওয়া বিভিন্ন সাহসিকতার পুরস্কার তার সাক্ষ্য দিচ্ছে।

এবছর দুই দেশ তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের রজতজয়ন্তী বর্ষ উদযাপন করছে। দুদেশের সেনাবাহিনী যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়েছে, নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারত ও ফ্রান্স একে অপরের বিশ্বস্ত প্রতিরক্ষা অংশীদার হয়ে উঠেছে।

ভারতীয় সেনার প্রতিনিধি দলে ৭৭ জন কুচকাওয়াজকারী এবং ৩৮ জন ব্যান্ডের সদস্য রয়েছেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্যাপ্টেন আমান জগতপ। ভারতীয় নৌবাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন কম্যান্ডার ভ্রাট বাঘেল, বায়ু সেনার নেতৃত্বে স্কোয়াড্রন লিডার সিন্ধু রেড্ডি। কুচকাওয়াজে ভারতীয় বায়ু সেনার রাফালে যুদ্ধ বিমানও অংশগ্রহণ করবে।

সেনা দলের প্রতিনিধিত্ব করছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সব থেকে পুরনো রেজিমেন্টগুলির একটি – পাঞ্জাব রেজিমেন্ট। এই রেজিমেন্টের সেনারা দুটি বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন অভিযানেও তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এই রেজিমেন্টের সেনারা ১৮টি পদক পেয়েছিলেন। তাঁরা লড়াই করেছিলেন মেসোপটেমিয়া, গাল্লিপলি, প্যালেস্তাইন, মিশর, চীন, হংকং, দামাস্কাস ও ফ্রান্সে। ফ্রান্সে ১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ন্যুভ চ্যাপেলের কাছে এক অভিযানে তাঁরা যোগ দিয়েছিলেন। পেয়েছিলেন ‘লুজ’ এবং ‘ফ্রান্স অ্যান্ড ফ্লেন্ডারস’ সম্মান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও ভারতীয় সেনারা ১৬টি ব্যাটেল অনার এবং ১৪টি থিয়েটার অনার অর্জন করেছিলেন।

প্রতিনিধি দলে রাজপুতানা রাইফেলস রেজিমেন্ট ব্যান্ড রয়েছে। এটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সব থেকে পুরনো রাইফেল রেজিমেন্ট। এই বাহিনীর দীর্ঘ গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বহু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এঁরা অংশগ্রহণ করেছেন। দুটি বিশ্বযুদ্ধেই এঁরা দৃষ্টান্তমূলক অবদান রেখেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যেখানেই ভারতীয় সেনাবাহিনী ছিল, সেখানেই এই রেজিমেন্টের সদস্যরা ছিলেন। এই বাহিনীর সদস্যরা স্বাধীনতার আগে ৬টি ভিক্টোরিয়া ক্রস পেয়েছেন। রাজস্থানের নাসিরাবাদে ১৯২০ সালে এই ব্যান্ড গড়ে উঠেছিল। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

বাস্তিল কুচকাওয়াজে যাচ্ছে ভারতীয় সেনার তিন শাখা

প্রকাশ: ০৬:৫৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০২৩

১৪ জুলাই দিনটি ফ্রান্সে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। এটি বাস্তিল দিবস হিসেবেও পরিচিত। ফরাসী বিপ্লবের সময় ১৭৮৯ সালের এই দিনেই বাস্তিল দুর্গের পতন হয়েছিল। এবছরে ফ্রান্সে বাস্তিল দিবসের কুচকাওয়াজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীকে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই কুচকাওয়াজে ফরাসী সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখার ২৬৯ জন সদস্যও যোগ দেবেন। এরা আজই ফ্রান্স রওনা হয়ে গেছেন।

সেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই ভারতীয় ও ফরাসী সেনাবাহিনী একে অপরের সংস্পর্শে এসেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ১৩ লক্ষেও বেশি ভারতীয় সৈন্য যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৪ হাজার নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন ৬৭ হাজার সেনা। ফ্রান্সের মাটিতেও ভারতীয় সেনাদল বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। তাঁদের সাহস, বীরত্ব ও চরম আত্মত্যাগ শুধু শত্রুকেই পর্যুদস্তু করেনি, যুদ্ধ জয়ের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে ২৫ লক্ষ ভারতীয় সেনা যোগ দিয়েছিলেন। সেবারও অনেকে যুদ্ধ করেছিলেন ফ্রান্সের মাটিতে। ভারতীয় সেনা এই যুদ্ধে বীরত্বের যে নিদর্শন রেখেছিল, তাঁদের দেওয়া বিভিন্ন সাহসিকতার পুরস্কার তার সাক্ষ্য দিচ্ছে।

এবছর দুই দেশ তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের রজতজয়ন্তী বর্ষ উদযাপন করছে। দুদেশের সেনাবাহিনী যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়েছে, নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারত ও ফ্রান্স একে অপরের বিশ্বস্ত প্রতিরক্ষা অংশীদার হয়ে উঠেছে।

ভারতীয় সেনার প্রতিনিধি দলে ৭৭ জন কুচকাওয়াজকারী এবং ৩৮ জন ব্যান্ডের সদস্য রয়েছেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্যাপ্টেন আমান জগতপ। ভারতীয় নৌবাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন কম্যান্ডার ভ্রাট বাঘেল, বায়ু সেনার নেতৃত্বে স্কোয়াড্রন লিডার সিন্ধু রেড্ডি। কুচকাওয়াজে ভারতীয় বায়ু সেনার রাফালে যুদ্ধ বিমানও অংশগ্রহণ করবে।

সেনা দলের প্রতিনিধিত্ব করছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সব থেকে পুরনো রেজিমেন্টগুলির একটি – পাঞ্জাব রেজিমেন্ট। এই রেজিমেন্টের সেনারা দুটি বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন অভিযানেও তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এই রেজিমেন্টের সেনারা ১৮টি পদক পেয়েছিলেন। তাঁরা লড়াই করেছিলেন মেসোপটেমিয়া, গাল্লিপলি, প্যালেস্তাইন, মিশর, চীন, হংকং, দামাস্কাস ও ফ্রান্সে। ফ্রান্সে ১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ন্যুভ চ্যাপেলের কাছে এক অভিযানে তাঁরা যোগ দিয়েছিলেন। পেয়েছিলেন ‘লুজ’ এবং ‘ফ্রান্স অ্যান্ড ফ্লেন্ডারস’ সম্মান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও ভারতীয় সেনারা ১৬টি ব্যাটেল অনার এবং ১৪টি থিয়েটার অনার অর্জন করেছিলেন।

প্রতিনিধি দলে রাজপুতানা রাইফেলস রেজিমেন্ট ব্যান্ড রয়েছে। এটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সব থেকে পুরনো রাইফেল রেজিমেন্ট। এই বাহিনীর দীর্ঘ গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বহু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এঁরা অংশগ্রহণ করেছেন। দুটি বিশ্বযুদ্ধেই এঁরা দৃষ্টান্তমূলক অবদান রেখেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যেখানেই ভারতীয় সেনাবাহিনী ছিল, সেখানেই এই রেজিমেন্টের সদস্যরা ছিলেন। এই বাহিনীর সদস্যরা স্বাধীনতার আগে ৬টি ভিক্টোরিয়া ক্রস পেয়েছেন। রাজস্থানের নাসিরাবাদে ১৯২০ সালে এই ব্যান্ড গড়ে উঠেছিল। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক