১২:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে যৌথভাবে কাজ করবে বিজিবি-বিএসএফ

সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান বন্ধ ও হিংসাত্মক ঘটনার সংখ্যা কমাতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী যৌথ টহলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকায় সেই টহল চালানো হবে প্রধানত গভীর থেকে ভোররাতে, যখন অপরাধীরা সাধারণত সক্রিয় হয়। বিএসএফ আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা  করা হবে।

বৈঠকে ঠিক হয়েছে, সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে যথাসম্ভব কম শক্তি প্রয়োগ করা হবে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় দুই বাহিনীর মহাপরিচালকেরা স্বীকার করেন, কখনো কখনো নিচু পর্যায়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগে খামতি থাকে। কখনো অযথা বলপ্রয়োগের অবাঞ্ছিত ঘটনাও ঘটে। কিন্তু দুপক্ষই সীমান্ত হত্যা যথাসম্ভব কমাতে চায়।

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৩তম বৈঠকে এসব বিষয়ে কথা হয়। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১১ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই বৈঠক চলে। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নেতৃত্বে ছিলেন মহাপরিচালক সুজয় লাল থাওসেন।

বিজিবির মহাপরিচালক নাজমুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা নিয়ে আমরা চিন্তিত। ভারতও তা কমাতে সমানভাবে আগ্রহী। দুই দেশ একসময় এক থাকার কারণে দুই তরফেই অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা রয়ে গেছে। তা বন্ধে দুই দেশই তৎপর। সীমান্ত সিল করা ছাড়াও আমরা যৌথ টহলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

বিএসএফ প্রধান থাওসেন বলেন, ‘ভারতীয় রক্ষীরা অপরাধীদের মধ্যে বৈষম্য করে না। তারা শেষ অবলম্বন হিসেবে গুলি চালায়। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বলপ্রয়োগ করা হলে বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিএসএফ প্রধান বলেন, ‘মারণাস্ত্রের ব্যবহার কত কম করা যায়, সেই প্রশিক্ষণ বাহিনীকে দেওয়া হয়। আমাদের লক্ষ্য সীমান্ত মৃত্যু শূন্যতে নামিয়ে আনা।’

বিএসএফের পক্ষে আজ বুধবার এই বৈঠক নিয়ে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সীমান্তের পাঁচটি এলাকায় যৌথভাবে দুই দেশের বাহিনী কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই কাজ সীমান্তের দুই পারের বাসিন্দাদের জীবন সহজ করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সম্পর্কের উন্নতি ঘটাবে। এই উন্নয়নে দুই সীমান্তের মানুষই উপকৃত হবেন। যেমন সোনাই নদীর ওপর ভারত একটা ‘বেইলি ব্রিজ’ নির্মাণ করবে। বাংলাদেশ শেষ করবে রামনগর সরকারি স্কুলের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাগনা বাজার সীমান্তের সেতু ভারত তৈরি করবে, বাংলাদেশ করবে ঝালংগি ও ভিতরবাড়ি এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্প্রসারণের কাজ। তেমন ইন্ডিয়াপাড়া সীমান্ত চৌকির গ্রামের ইটের রাস্তা বিএসএফ তৈরি করে দেবে, বিজিবি খুলে দেবে রহিমপুর খাল ও কুশিয়ারা নদীর মুখ।

সীমান্তে ‘সিঙ্গল রো’ বেড়া দেওয়ার কাজে সহায়তার জন্য বিজিবির প্রশংসা করা হয়েছে। থাওসেন বলেন, অবকাঠামোসহ উন্নয়নের কাজ দ্রুত শেষ করতে দুপক্ষই এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তাদের বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই বাহিনীর মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে খেলাধুলা, শুভেচ্ছা সফর, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের সাংবাদিকদের সফরের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। বিএসএফ প্রধান তাতে সম্মতি দিয়েছেন। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

সীমান্তে যৌথভাবে কাজ করবে বিজিবি-বিএসএফ

প্রকাশ: ০৭:৩০:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০২৩

সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান বন্ধ ও হিংসাত্মক ঘটনার সংখ্যা কমাতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী যৌথ টহলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকায় সেই টহল চালানো হবে প্রধানত গভীর থেকে ভোররাতে, যখন অপরাধীরা সাধারণত সক্রিয় হয়। বিএসএফ আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা  করা হবে।

বৈঠকে ঠিক হয়েছে, সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে যথাসম্ভব কম শক্তি প্রয়োগ করা হবে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় দুই বাহিনীর মহাপরিচালকেরা স্বীকার করেন, কখনো কখনো নিচু পর্যায়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগে খামতি থাকে। কখনো অযথা বলপ্রয়োগের অবাঞ্ছিত ঘটনাও ঘটে। কিন্তু দুপক্ষই সীমান্ত হত্যা যথাসম্ভব কমাতে চায়।

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৩তম বৈঠকে এসব বিষয়ে কথা হয়। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১১ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই বৈঠক চলে। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নেতৃত্বে ছিলেন মহাপরিচালক সুজয় লাল থাওসেন।

বিজিবির মহাপরিচালক নাজমুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা নিয়ে আমরা চিন্তিত। ভারতও তা কমাতে সমানভাবে আগ্রহী। দুই দেশ একসময় এক থাকার কারণে দুই তরফেই অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা রয়ে গেছে। তা বন্ধে দুই দেশই তৎপর। সীমান্ত সিল করা ছাড়াও আমরা যৌথ টহলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

বিএসএফ প্রধান থাওসেন বলেন, ‘ভারতীয় রক্ষীরা অপরাধীদের মধ্যে বৈষম্য করে না। তারা শেষ অবলম্বন হিসেবে গুলি চালায়। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বলপ্রয়োগ করা হলে বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিএসএফ প্রধান বলেন, ‘মারণাস্ত্রের ব্যবহার কত কম করা যায়, সেই প্রশিক্ষণ বাহিনীকে দেওয়া হয়। আমাদের লক্ষ্য সীমান্ত মৃত্যু শূন্যতে নামিয়ে আনা।’

বিএসএফের পক্ষে আজ বুধবার এই বৈঠক নিয়ে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সীমান্তের পাঁচটি এলাকায় যৌথভাবে দুই দেশের বাহিনী কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই কাজ সীমান্তের দুই পারের বাসিন্দাদের জীবন সহজ করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সম্পর্কের উন্নতি ঘটাবে। এই উন্নয়নে দুই সীমান্তের মানুষই উপকৃত হবেন। যেমন সোনাই নদীর ওপর ভারত একটা ‘বেইলি ব্রিজ’ নির্মাণ করবে। বাংলাদেশ শেষ করবে রামনগর সরকারি স্কুলের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাগনা বাজার সীমান্তের সেতু ভারত তৈরি করবে, বাংলাদেশ করবে ঝালংগি ও ভিতরবাড়ি এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্প্রসারণের কাজ। তেমন ইন্ডিয়াপাড়া সীমান্ত চৌকির গ্রামের ইটের রাস্তা বিএসএফ তৈরি করে দেবে, বিজিবি খুলে দেবে রহিমপুর খাল ও কুশিয়ারা নদীর মুখ।

সীমান্তে ‘সিঙ্গল রো’ বেড়া দেওয়ার কাজে সহায়তার জন্য বিজিবির প্রশংসা করা হয়েছে। থাওসেন বলেন, অবকাঠামোসহ উন্নয়নের কাজ দ্রুত শেষ করতে দুপক্ষই এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তাদের বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই বাহিনীর মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে খেলাধুলা, শুভেচ্ছা সফর, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের সাংবাদিকদের সফরের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। বিএসএফ প্রধান তাতে সম্মতি দিয়েছেন। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক