০২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনেতাদের সাথে বৈঠকে মোদী

জাপানের হিরোশিমায় জি-৭ বৈঠকের ফাঁকে মুখোমুখি বৈঠক করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর হামলার পর এই প্রথম দুই রাষ্ট্রনেতা মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে করেছিলেন মোদী।

সেই সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন, “এই যুগ যুদ্ধের জন্য নয়।” তখন পুতিনও সেই কথা মেনে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ায় জি২০-এর যৌথ বিবৃতিতে মোদীর এই মন্ত্রেই ঐক্যমত্যে এসেছিল ২০টি দেশ। এদিকে প্রসঙ্গত, ভারত এবারের জি২০-র সভাপতি। এদিকে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাক পেয়েছেন মোদী। সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবেই জাপানে গিয়েছেন জেলেনস্কি।

এদিকে জেলেনস্কি ছাড়াও আরও দেশের প্রধানদের সঙ্গে আজকে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে আজ ৫০ মিনিটের বৈঠক করেন মোদী। সেমিকন্ডাক্টর, প্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিকাঠামো নিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনা হয়।

এছাড়াও রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি, জার্মানির চ্যান্সেলার, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। পাশাপাশি জাপানের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও দেখা করেন মোদী।

জানা গিয়েছে, হিরোশিমাতেই কোয়াডের বৈঠক হতে পারে। কোয়াডের বৈঠক অস্ট্রেলিয়াতে হওয়ার কথা ছিল। তবে দেশের অর্থনৈতিক সংকটের আবহে অস্ট্রেলিয়া সফর বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এই পরিস্থিতিতে জাপানে জি৭ বৈঠকের ফাঁকেই কোয়াডের বৈঠকে বসতে পারেন ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রনেতারা।

হিরোশিমাতেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দেশের রাষ্ট্র প্রধানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে হয়েছে আলোচনা। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। দুই নেতা বাস্তিল দিবসের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ফ্রান্স সফর নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্বের অগ্রগতির পর্যালোচনা করেছেন।”

বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, বাণিজ্যে সহযোগিতা সহ বিস্তৃত বিষয়গুলি নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্র; বেসামরিক বিমান চালনা; নবায়নযোগ্য; সংস্কৃতি; প্রতিরক্ষা খাতে সহ-উৎপাদন এবং উত্পাদন; বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা। তারা নতুন ডোমেনে অংশীদারিত্ব প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছেন তাঁরা।

এছাড়া, রিপাবলিক অফ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার সকালে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী দফতর জানিয়েছে, “কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ইউন সুক ইওলের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ভারত এবং কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের মধ্যে একটি উষ্ণ বন্ধুত্ব এবং গভীর-মূল সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে। এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক সেক্টরে বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করার উপায়গুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।”

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী জানিয়েছেন, “এই বছর ভারত-প্রজাতন্ত্র কোরিয়া কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করার সময় দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নেতারা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উচ্চ প্রযুক্তি, আইটি হার্ডওয়্যার উৎপাদন, প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে সম্মত হন। ভারতের জি-২০ প্রেসিডেন্সি এবং রিপাবলিক অফ কোরিয়ার ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।” খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

বিশ্বনেতাদের সাথে বৈঠকে মোদী

প্রকাশ: ০৯:১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ মে ২০২৩

জাপানের হিরোশিমায় জি-৭ বৈঠকের ফাঁকে মুখোমুখি বৈঠক করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর হামলার পর এই প্রথম দুই রাষ্ট্রনেতা মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে করেছিলেন মোদী।

সেই সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন, “এই যুগ যুদ্ধের জন্য নয়।” তখন পুতিনও সেই কথা মেনে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ায় জি২০-এর যৌথ বিবৃতিতে মোদীর এই মন্ত্রেই ঐক্যমত্যে এসেছিল ২০টি দেশ। এদিকে প্রসঙ্গত, ভারত এবারের জি২০-র সভাপতি। এদিকে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাক পেয়েছেন মোদী। সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবেই জাপানে গিয়েছেন জেলেনস্কি।

এদিকে জেলেনস্কি ছাড়াও আরও দেশের প্রধানদের সঙ্গে আজকে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে আজ ৫০ মিনিটের বৈঠক করেন মোদী। সেমিকন্ডাক্টর, প্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিকাঠামো নিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনা হয়।

এছাড়াও রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি, জার্মানির চ্যান্সেলার, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। পাশাপাশি জাপানের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও দেখা করেন মোদী।

জানা গিয়েছে, হিরোশিমাতেই কোয়াডের বৈঠক হতে পারে। কোয়াডের বৈঠক অস্ট্রেলিয়াতে হওয়ার কথা ছিল। তবে দেশের অর্থনৈতিক সংকটের আবহে অস্ট্রেলিয়া সফর বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এই পরিস্থিতিতে জাপানে জি৭ বৈঠকের ফাঁকেই কোয়াডের বৈঠকে বসতে পারেন ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রনেতারা।

হিরোশিমাতেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দেশের রাষ্ট্র প্রধানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে হয়েছে আলোচনা। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। দুই নেতা বাস্তিল দিবসের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ফ্রান্স সফর নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্বের অগ্রগতির পর্যালোচনা করেছেন।”

বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, বাণিজ্যে সহযোগিতা সহ বিস্তৃত বিষয়গুলি নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্র; বেসামরিক বিমান চালনা; নবায়নযোগ্য; সংস্কৃতি; প্রতিরক্ষা খাতে সহ-উৎপাদন এবং উত্পাদন; বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা। তারা নতুন ডোমেনে অংশীদারিত্ব প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছেন তাঁরা।

এছাড়া, রিপাবলিক অফ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার সকালে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী দফতর জানিয়েছে, “কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ইউন সুক ইওলের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ভারত এবং কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের মধ্যে একটি উষ্ণ বন্ধুত্ব এবং গভীর-মূল সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে। এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক সেক্টরে বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করার উপায়গুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।”

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী জানিয়েছেন, “এই বছর ভারত-প্রজাতন্ত্র কোরিয়া কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করার সময় দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নেতারা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উচ্চ প্রযুক্তি, আইটি হার্ডওয়্যার উৎপাদন, প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে সম্মত হন। ভারতের জি-২০ প্রেসিডেন্সি এবং রিপাবলিক অফ কোরিয়ার ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।” খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক