১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

জেনে নিন এশিয়ার বৃহত্তম পারদ টেলিস্কোপ সম্পর্কে

উত্তরাখণ্ডের দেবাস্থল অবজ়ারভেটরিতে ভারতের প্রথম লিকুইড-মিরর টেলিস্কোপ স্থাপন করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল লিকুইড-মিরর টেলিস্কোপটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৪৫০ মিটার উচ্চতায় হিমালয়ের কোলে স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তু যেমন— গ্রহাণু, মহাকাশে ভাসমান ধ্বংসাবশেষ, সুপারনোভা খুব সহজেই ও স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এটি স্থাপন করা হয়েছে।

আর্যভট্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ অবজারভেশনাল সায়েন্সেস -এর মালিকানাধীন দেবস্থল অবজারভেটরি ক্যাম্পাসের আইএলএমটি-ই হল জ্যোতির্বিদ্যার জন্য স্থাপিত বিশ্বের প্রথম লিকুইড-মিরর টেলিস্কোপ। মহাবিশ্বের নানান জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপাদান পর্যবেক্ষণ করতে এই টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হবে।

প্রচলিত টেলিস্কোপগুলিতে একটি বা একাঝিক কার্ভড পৃষ্ঠের পালিশ করা কাঁচের আয়না থাকে। অন্যদিকে লিকুইড মিরর টেলিস্কোপগুলি প্রতিফলনকারী তরল (পারদ) দিয়ে তৈরি হয়।

কী এই লিকুইড-মিরর টেলিস্কোপ?

ভারত, বেলজিয়াম, কানাডার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই টেলিস্কোপটি তৈরি করেছেন। এটি ৪ মিটার ব্যাসের কাচের ওপর তরল পারদের পাতলা আস্তরণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। আর্যভট্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ অবজ়ারভেশনাল সায়েন্সেস-এর মালিকানাধীন দেবাস্থল অবজারভেটরি ক্যাম্পাসে স্থাপন করা হয়েছে এটি। মাল্টি লেন্সের দ্বারাই আলো প্রতিফলিত হতে পারে ও এর ফলেই স্বচ্ছ ছবি পাওয়া যায়। বড় আকৃতির ইলেকট্রনিক ক্যামেরাটি টেলিস্কোপের ফোকাসে স্থাপন করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল লিকুইড-মিরর টেলিস্কোপটি সহ দেবস্থলে মোট তিনটি টেলিস্কোপ রয়েছে। এই বছরের অক্টোবর মাস থেকেই এই টেলিস্কোপটি ব্যবহার করা শুরু হবে।

কারা এটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে?

বেলজিয়াম, ভারত, কানাডা, পোল্যান্ড, উজবেকিস্তান এই দেশগুলি ইন্টারন্যাশনাল লিকুইড-মিরর টেলিস্কোপটি  স্থাপনে সাহায্য করেছে। বেলজিয়ামের ‘অ্যাডভান্সড মেকানিক্যাল এন্ড অপটিক্যাল সিস্টেম কর্পোরেশন’ টেলিস্কোপটি তৈরিতে সাহায্য করেছে। ভারত এটিকে চালনা করবে।

লিকুইড মিরর টেলিস্কোপ কীভাবে কাজ করে?

আইএলএমটি -এর উল্লম্ব অক্ষ বরাবর একটি নির্দিষ্ট গতিতে ঘূর্ণীয়মান একটি বদ্ধ পাত্রে প্রায় ৫০ লিটার পারদ থাকে। বৃত্তাকার গতিবিধির কারণে, পাত্রের দেওয়ালে পারদ ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি পাতলা স্তর গঠন করে। এটি একটি প্যারাবোলয়েড-আকৃতির প্রতিফলিত পৃষ্ঠ তৈরি করে, যা পরে আয়না হিসাবে কাজ করে। ৪ মিটার ব্যাসের এই পৃষ্ঠটি আলো সংগ্রহ এবং ফোকাস করার জন্য আদর্শ।

লিকুইড মিরর টেলিস্কোপের ব্যবহার

বেলজিয়াম, কানাডা, পোল্যান্ড এবং উজবেকিস্তানের সহযোগিতায় ভারত এটি স্থাপন করেছে। লিকুইড মিরর টেলিস্কোপটি বেলজিয়ামের ‘অ্যাডভান্সড মেকানিক্যাল অ্যান্ড অপটিক্যাল সিস্টেম কর্পোরেশন’ এবং ‘সেন্টার স্প্যাশিয়াল ডি লিজে ডিজাইন’ দ্বারা নির্মিত। এই টেলিস্কোপটি আকাশের স্ক্যান করতে, বিভিন্ন নক্ষত্রপুঞ্জ পর্যবেক্ষণ করতে ব্যবহার করা হবে। তাছাড়াও মহাকাশ থেকে ছিটকে পড়া বিভিন্ন ধূমকেতুর দিকে নজর রাখতেও ব্যবহার করা হবে।

সাধারণ টেলিস্কোপ থেকে এটির কী পার্থক্য?

সাধারণ টেলিস্কোপের সাহায্যে মহাকাশের শুধুমাত্র একটি মহাজাগতিক বস্তুকেই পর্যবেক্ষণ করা হয়। কিন্তু লিকুইড-মিরর টেলিস্কোপের সাহায্যে মহাকাশের অনেকটা জায়গা জুড়ে পর্যবেক্ষণ করা যায়। মহাকাশের একটি জায়গার সমস্ত তারা, নক্ষত্রপুঞ্জ, ধূমকেতু ও বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তুর ওপর নজর রাখা যায়।

এছাড়া, আইএলএমটি বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহে সাহায্য করবে। এটি এক রাতেই ১০-১৫ জিবি ডেটা সংগ্রহে সক্ষম। এর মাধ্যমে গ্রহাণু, সুপারনোভা, মহাকাশীয় ধ্বংসাবশেষ এবং অন্যান্য সমস্ত মহাকাশীয় বস্তু পর্যবেক্ষণ করা যাবে। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

জেনে নিন এশিয়ার বৃহত্তম পারদ টেলিস্কোপ সম্পর্কে

প্রকাশ: ০৬:৩৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মার্চ ২০২৩

উত্তরাখণ্ডের দেবাস্থল অবজ়ারভেটরিতে ভারতের প্রথম লিকুইড-মিরর টেলিস্কোপ স্থাপন করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল লিকুইড-মিরর টেলিস্কোপটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৪৫০ মিটার উচ্চতায় হিমালয়ের কোলে স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তু যেমন— গ্রহাণু, মহাকাশে ভাসমান ধ্বংসাবশেষ, সুপারনোভা খুব সহজেই ও স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এটি স্থাপন করা হয়েছে।

আর্যভট্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ অবজারভেশনাল সায়েন্সেস -এর মালিকানাধীন দেবস্থল অবজারভেটরি ক্যাম্পাসের আইএলএমটি-ই হল জ্যোতির্বিদ্যার জন্য স্থাপিত বিশ্বের প্রথম লিকুইড-মিরর টেলিস্কোপ। মহাবিশ্বের নানান জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপাদান পর্যবেক্ষণ করতে এই টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হবে।

প্রচলিত টেলিস্কোপগুলিতে একটি বা একাঝিক কার্ভড পৃষ্ঠের পালিশ করা কাঁচের আয়না থাকে। অন্যদিকে লিকুইড মিরর টেলিস্কোপগুলি প্রতিফলনকারী তরল (পারদ) দিয়ে তৈরি হয়।

কী এই লিকুইড-মিরর টেলিস্কোপ?

ভারত, বেলজিয়াম, কানাডার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই টেলিস্কোপটি তৈরি করেছেন। এটি ৪ মিটার ব্যাসের কাচের ওপর তরল পারদের পাতলা আস্তরণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। আর্যভট্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ অবজ়ারভেশনাল সায়েন্সেস-এর মালিকানাধীন দেবাস্থল অবজারভেটরি ক্যাম্পাসে স্থাপন করা হয়েছে এটি। মাল্টি লেন্সের দ্বারাই আলো প্রতিফলিত হতে পারে ও এর ফলেই স্বচ্ছ ছবি পাওয়া যায়। বড় আকৃতির ইলেকট্রনিক ক্যামেরাটি টেলিস্কোপের ফোকাসে স্থাপন করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল লিকুইড-মিরর টেলিস্কোপটি সহ দেবস্থলে মোট তিনটি টেলিস্কোপ রয়েছে। এই বছরের অক্টোবর মাস থেকেই এই টেলিস্কোপটি ব্যবহার করা শুরু হবে।

কারা এটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে?

বেলজিয়াম, ভারত, কানাডা, পোল্যান্ড, উজবেকিস্তান এই দেশগুলি ইন্টারন্যাশনাল লিকুইড-মিরর টেলিস্কোপটি  স্থাপনে সাহায্য করেছে। বেলজিয়ামের ‘অ্যাডভান্সড মেকানিক্যাল এন্ড অপটিক্যাল সিস্টেম কর্পোরেশন’ টেলিস্কোপটি তৈরিতে সাহায্য করেছে। ভারত এটিকে চালনা করবে।

লিকুইড মিরর টেলিস্কোপ কীভাবে কাজ করে?

আইএলএমটি -এর উল্লম্ব অক্ষ বরাবর একটি নির্দিষ্ট গতিতে ঘূর্ণীয়মান একটি বদ্ধ পাত্রে প্রায় ৫০ লিটার পারদ থাকে। বৃত্তাকার গতিবিধির কারণে, পাত্রের দেওয়ালে পারদ ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি পাতলা স্তর গঠন করে। এটি একটি প্যারাবোলয়েড-আকৃতির প্রতিফলিত পৃষ্ঠ তৈরি করে, যা পরে আয়না হিসাবে কাজ করে। ৪ মিটার ব্যাসের এই পৃষ্ঠটি আলো সংগ্রহ এবং ফোকাস করার জন্য আদর্শ।

লিকুইড মিরর টেলিস্কোপের ব্যবহার

বেলজিয়াম, কানাডা, পোল্যান্ড এবং উজবেকিস্তানের সহযোগিতায় ভারত এটি স্থাপন করেছে। লিকুইড মিরর টেলিস্কোপটি বেলজিয়ামের ‘অ্যাডভান্সড মেকানিক্যাল অ্যান্ড অপটিক্যাল সিস্টেম কর্পোরেশন’ এবং ‘সেন্টার স্প্যাশিয়াল ডি লিজে ডিজাইন’ দ্বারা নির্মিত। এই টেলিস্কোপটি আকাশের স্ক্যান করতে, বিভিন্ন নক্ষত্রপুঞ্জ পর্যবেক্ষণ করতে ব্যবহার করা হবে। তাছাড়াও মহাকাশ থেকে ছিটকে পড়া বিভিন্ন ধূমকেতুর দিকে নজর রাখতেও ব্যবহার করা হবে।

সাধারণ টেলিস্কোপ থেকে এটির কী পার্থক্য?

সাধারণ টেলিস্কোপের সাহায্যে মহাকাশের শুধুমাত্র একটি মহাজাগতিক বস্তুকেই পর্যবেক্ষণ করা হয়। কিন্তু লিকুইড-মিরর টেলিস্কোপের সাহায্যে মহাকাশের অনেকটা জায়গা জুড়ে পর্যবেক্ষণ করা যায়। মহাকাশের একটি জায়গার সমস্ত তারা, নক্ষত্রপুঞ্জ, ধূমকেতু ও বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তুর ওপর নজর রাখা যায়।

এছাড়া, আইএলএমটি বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহে সাহায্য করবে। এটি এক রাতেই ১০-১৫ জিবি ডেটা সংগ্রহে সক্ষম। এর মাধ্যমে গ্রহাণু, সুপারনোভা, মহাকাশীয় ধ্বংসাবশেষ এবং অন্যান্য সমস্ত মহাকাশীয় বস্তু পর্যবেক্ষণ করা যাবে। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক