০১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

প্রচন্ড শাসিত নেপাল

মেজর জেনারেল হর্ষ কাকর: হিমালয়ের দেশ নেপালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেন দেশটির রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক দশকব্যাপী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে আসা সাবেক মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দল। তিনি ‘দে গুয়েরে প্রচন্ড’ নামেও পরিচিত। যার অর্থ ‘ভয়ানক’ বা ‘উগ্র’। গত মাসের নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় প্রধান বিরোধী দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে রবিবার তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছেন।

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, দলীয় কর্মকর্তারা রবিবার জানিয়েছেন, বিরোধী কমিউনিস্ট ইউনিফাইড মার্কসবাদী-লেনিনবাদীর সমর্থনে পাঁচ বছরের মেয়াদের প্রথমার্ধের জন্য নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন (ইউএমএল) পার্টি এবং অন্যান্য ছোট দল।

রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারীর একজন সহযোগী টিকা ঢকাল রয়টার্সকে বলেছেন, ‘তাকে নিয়োগ করা হয়েছে এবং সংসদের একটি বড় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের নির্দেশ দিয়েছেন।’ সোমবার শপথ নেওয়ার কথা ছিল প্রচন্ডের। এরপর সপ্তাহের শেষের দিকে ২৭৫ সদস্যের হাউসে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন তিনি। সাতটি দল তাকে সমর্থনের অঙ্গীকার করেছে।

নেপালি কংগ্রেস পার্টির শের বাহাদুর দেউবার স্থলাভিষিক্ত হওয়া প্রচন্ড, ২০২৫ সালে পদত্যাগ করবেন। এর মাধ্যমে ইউএমএল-এর অফিস গ্রহণের পথ তৈরি হবে বলে স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে। নতুন জোটের বৈঠকের পর প্রচণ্ডের মাওবাদী কেন্দ্র দলের সাধারণ সম্পাদক দেব গুরুং রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এটাই বোঝাপড়া। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ ও মন্ত্রণালয়ের বণ্টনের বাকি কাজ এখনও করা বাকি আছে।’

৬৮ বছর বয়সী প্রচন্ড আশ্চর্যজনকভাবে ৭৬ বছর বয়সী দেউবার নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা পরে নতুন জোট ক্ষমতায় আসে। দেউবার নেপালি কংগ্রেস ২০ নভেম্বরের ভোটের পরে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য প্রচন্ডকে সমর্থন করতে অস্বীকার করেছিলেন তিনি।

প্রচণ্ডের মাওবাদী কেন্দ্র দল ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে ৩২টি আসন জিতেছে। ইউএমএল-এর ৭৮টি আসন রয়েছে এবং বাকিগুলো ১৩৮-সংখ্যাগরিষ্ঠের জন্য প্রয়োজনীয়, ছোট দল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস পার্টি পেয়েছে ৮৯টি আসন।

নেপালের ১৯৯৬-২০০৬ গৃহযুদ্ধের সময় জঙ্গলে বহু বছর লুকিয়ে ছিলেন প্রচন্ড। এই যুদ্ধে প্রায় ১৭ হাজার লোক নিহত হয়েছিল এবং এরপরেই দেশটিতে ২৩৯ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে।

২০০৬ সালে মাওবাদীরা তাদের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছেড়ে দিয়ে জাতিসংঘ-সহায়তা শান্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দেয় এবং মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করে। ২০০৮-০৯ এবং ২০১৬-১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংক্ষিপ্তভাবে দায়িত্ব পালন করেন প্রচন্ড।

বিশ্লেষকদের মতে, অনেক জোটের অংশীদারদের কারণে প্রচণ্ড হয়তো দেশকে স্থিতিশীলতা দিতে পারবেন না বা সেই সম্ভাবনা কম। এই মুহুর্তে তিনি গুরুতর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জেরও সম্মুখীন। কেননা বর্তমানে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের বেশি, যা ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি নেপাল এখন মৌলিক পণ্য আমদানির ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতাসহ ক্রমহ্রাসমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মুখোমুখি।

নেপাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর দীপেন্দ্র বাহাদুর ক্ষেত্রী রয়টার্সকে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিনিয়োগ ও ব্যবসাকে ধুঁকবে বলে অর্থনীতির বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম।’

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সরকারে ঘন ঘন পরিবর্তন এবং দলগুলোর মধ্যে কলহের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নেপাল যার কারণে সংবিধান রচনায় বিলম্ব এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধীর হচ্ছে। হিমালয় জাতিটি রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর ২০০৮ সাল থেকে ১০টি সরকারের পরিবর্তন দেখেছে।

এদিকে, ভারতের আগেই নেপালের সাথে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে চীন। কলকাতা ভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, পুষ্পকমল দহল প্রচন্ড নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার সাথে সাথে ভারত এবং চীনের মধ্যে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছিল বলেই দাবি ভারতীয় কূটনৈতিক শিবিরের।

অতি দ্রুত তার সাথে প্রথম বৈঠকটি করার জন্য তাই তৎপর হয়েছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু তারই মধ্যে নেপালে নিজেদের ভূকৌশলগত গুরুত্ব এবং সংযোগ বাড়াতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চীন। নেপাল ও চীনের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত রেলপথের থমকে থাকা প্রকল্পকে আবার জাগিয়ে তোলা হচ্ছে। এই রেল সংযোগ এমনিতেই ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের চিন্তার কারণ।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, বেইজিং একটি কারিগরি দলকে কাঠমান্ডু পাঠিয়ে দিয়েছে। তারা নেপালের রাজধানী থেকে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পর্যন্ত রেল প্রকল্পের বিভিন্ন খুঁটিনাটি দিকগুলো খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করছে।

পাশাপাশি তিন বছর বন্ধ থাকার পর নেপাল থেকে রাসুওয়াগড়ি-কেরুং সীমান্ত দিয়ে পণ্য চীনে আসার বিষয়টিতে অমুমতি দিয়েছে বেইজিং। গত রোববার প্রচন্ড পোখরা আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন করেছেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই বিমানবন্দরটি বানিয়ে দিয়েছে চীন।

নেপালে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ওয়াং শিং একটি টুইট করে জানিয়েছেন, এই পোখরা বিমানবন্দর চীন-নেপাল সহযোগিতার একটি অন্যতম প্রকল্পই শুধু নয়, এটি চীনের মহাযোগাযোগ প্রকল্প ওবর-এর অন্তর্গতও বটে।

পত্রিকাটি জানায়, ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অতি বাম চরমপন্থার নেতৃত্ব দেয়া প্রচন্ডের সাথে চীনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ২০০৮-এ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম সরকারি সফরটি তিনি বেইজিংয়ে করেন। সেটি ছিল ঐতিহ্য ভাঙা, কারণ তার আগের ৫০ বছরে তার সব পূর্বসূরি আসনে বসার পরে প্রথম গন্তব্য হিসেবে ভারতকেই বেছে নিয়েছিলেন। তবে ২০১৬ সালে দ্বিতীয় দফায় প্রচন্ড প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম সরকারি সফরে নয়াদিল্লিতেই গিয়েছিলেন।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সামরিক কর্তা

খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

প্রচন্ড শাসিত নেপাল

প্রকাশ: ০৩:৫০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৩

মেজর জেনারেল হর্ষ কাকর: হিমালয়ের দেশ নেপালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেন দেশটির রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক দশকব্যাপী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে আসা সাবেক মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দল। তিনি ‘দে গুয়েরে প্রচন্ড’ নামেও পরিচিত। যার অর্থ ‘ভয়ানক’ বা ‘উগ্র’। গত মাসের নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় প্রধান বিরোধী দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে রবিবার তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছেন।

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, দলীয় কর্মকর্তারা রবিবার জানিয়েছেন, বিরোধী কমিউনিস্ট ইউনিফাইড মার্কসবাদী-লেনিনবাদীর সমর্থনে পাঁচ বছরের মেয়াদের প্রথমার্ধের জন্য নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন (ইউএমএল) পার্টি এবং অন্যান্য ছোট দল।

রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারীর একজন সহযোগী টিকা ঢকাল রয়টার্সকে বলেছেন, ‘তাকে নিয়োগ করা হয়েছে এবং সংসদের একটি বড় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের নির্দেশ দিয়েছেন।’ সোমবার শপথ নেওয়ার কথা ছিল প্রচন্ডের। এরপর সপ্তাহের শেষের দিকে ২৭৫ সদস্যের হাউসে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন তিনি। সাতটি দল তাকে সমর্থনের অঙ্গীকার করেছে।

নেপালি কংগ্রেস পার্টির শের বাহাদুর দেউবার স্থলাভিষিক্ত হওয়া প্রচন্ড, ২০২৫ সালে পদত্যাগ করবেন। এর মাধ্যমে ইউএমএল-এর অফিস গ্রহণের পথ তৈরি হবে বলে স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে। নতুন জোটের বৈঠকের পর প্রচণ্ডের মাওবাদী কেন্দ্র দলের সাধারণ সম্পাদক দেব গুরুং রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এটাই বোঝাপড়া। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ ও মন্ত্রণালয়ের বণ্টনের বাকি কাজ এখনও করা বাকি আছে।’

৬৮ বছর বয়সী প্রচন্ড আশ্চর্যজনকভাবে ৭৬ বছর বয়সী দেউবার নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা পরে নতুন জোট ক্ষমতায় আসে। দেউবার নেপালি কংগ্রেস ২০ নভেম্বরের ভোটের পরে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য প্রচন্ডকে সমর্থন করতে অস্বীকার করেছিলেন তিনি।

প্রচণ্ডের মাওবাদী কেন্দ্র দল ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে ৩২টি আসন জিতেছে। ইউএমএল-এর ৭৮টি আসন রয়েছে এবং বাকিগুলো ১৩৮-সংখ্যাগরিষ্ঠের জন্য প্রয়োজনীয়, ছোট দল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস পার্টি পেয়েছে ৮৯টি আসন।

নেপালের ১৯৯৬-২০০৬ গৃহযুদ্ধের সময় জঙ্গলে বহু বছর লুকিয়ে ছিলেন প্রচন্ড। এই যুদ্ধে প্রায় ১৭ হাজার লোক নিহত হয়েছিল এবং এরপরেই দেশটিতে ২৩৯ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে।

২০০৬ সালে মাওবাদীরা তাদের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছেড়ে দিয়ে জাতিসংঘ-সহায়তা শান্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দেয় এবং মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করে। ২০০৮-০৯ এবং ২০১৬-১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংক্ষিপ্তভাবে দায়িত্ব পালন করেন প্রচন্ড।

বিশ্লেষকদের মতে, অনেক জোটের অংশীদারদের কারণে প্রচণ্ড হয়তো দেশকে স্থিতিশীলতা দিতে পারবেন না বা সেই সম্ভাবনা কম। এই মুহুর্তে তিনি গুরুতর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জেরও সম্মুখীন। কেননা বর্তমানে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের বেশি, যা ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি নেপাল এখন মৌলিক পণ্য আমদানির ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতাসহ ক্রমহ্রাসমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মুখোমুখি।

নেপাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর দীপেন্দ্র বাহাদুর ক্ষেত্রী রয়টার্সকে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিনিয়োগ ও ব্যবসাকে ধুঁকবে বলে অর্থনীতির বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম।’

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সরকারে ঘন ঘন পরিবর্তন এবং দলগুলোর মধ্যে কলহের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নেপাল যার কারণে সংবিধান রচনায় বিলম্ব এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধীর হচ্ছে। হিমালয় জাতিটি রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর ২০০৮ সাল থেকে ১০টি সরকারের পরিবর্তন দেখেছে।

এদিকে, ভারতের আগেই নেপালের সাথে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে চীন। কলকাতা ভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, পুষ্পকমল দহল প্রচন্ড নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার সাথে সাথে ভারত এবং চীনের মধ্যে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছিল বলেই দাবি ভারতীয় কূটনৈতিক শিবিরের।

অতি দ্রুত তার সাথে প্রথম বৈঠকটি করার জন্য তাই তৎপর হয়েছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু তারই মধ্যে নেপালে নিজেদের ভূকৌশলগত গুরুত্ব এবং সংযোগ বাড়াতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চীন। নেপাল ও চীনের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত রেলপথের থমকে থাকা প্রকল্পকে আবার জাগিয়ে তোলা হচ্ছে। এই রেল সংযোগ এমনিতেই ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের চিন্তার কারণ।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, বেইজিং একটি কারিগরি দলকে কাঠমান্ডু পাঠিয়ে দিয়েছে। তারা নেপালের রাজধানী থেকে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পর্যন্ত রেল প্রকল্পের বিভিন্ন খুঁটিনাটি দিকগুলো খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করছে।

পাশাপাশি তিন বছর বন্ধ থাকার পর নেপাল থেকে রাসুওয়াগড়ি-কেরুং সীমান্ত দিয়ে পণ্য চীনে আসার বিষয়টিতে অমুমতি দিয়েছে বেইজিং। গত রোববার প্রচন্ড পোখরা আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন করেছেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই বিমানবন্দরটি বানিয়ে দিয়েছে চীন।

নেপালে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ওয়াং শিং একটি টুইট করে জানিয়েছেন, এই পোখরা বিমানবন্দর চীন-নেপাল সহযোগিতার একটি অন্যতম প্রকল্পই শুধু নয়, এটি চীনের মহাযোগাযোগ প্রকল্প ওবর-এর অন্তর্গতও বটে।

পত্রিকাটি জানায়, ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অতি বাম চরমপন্থার নেতৃত্ব দেয়া প্রচন্ডের সাথে চীনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ২০০৮-এ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম সরকারি সফরটি তিনি বেইজিংয়ে করেন। সেটি ছিল ঐতিহ্য ভাঙা, কারণ তার আগের ৫০ বছরে তার সব পূর্বসূরি আসনে বসার পরে প্রথম গন্তব্য হিসেবে ভারতকেই বেছে নিয়েছিলেন। তবে ২০১৬ সালে দ্বিতীয় দফায় প্রচন্ড প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম সরকারি সফরে নয়াদিল্লিতেই গিয়েছিলেন।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সামরিক কর্তা

খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক