০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ভারতের এক মাসে কেনা রুশ তেল, ইউরোপের এক বিকেলের চেয়ে কম: জয়শঙ্কর

ভারত রাশিয়া থেকে গোটা মাসে যে পরিমাণ তেল আমদানি করে থাকে, ইউরোপ এক বিকেলে তারচেয়ে বেশি রুশ তেল ক্রয় করে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত ১১ এপ্রিল, সোমবার, ওয়াশিংটন ডিসিতে ৪র্থ ভারত-মার্কিন ২+২ মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন মোদী মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্য।

জয়শঙ্কর বলেন, “প্রসঙ্গ যদি আসে রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়ের, তাহলে আমার পরামর্শ হচ্ছে, আপনারা ইউরোপের দিকে ফোকাস করুন। আমরা রাশিয়া থেকে নেহায়েতই অল্প কিছু জ্বালানী ক্রয় করে থাকি, যা আমাদের শক্তি নিরাপত্তার জন্য ভীষণভাবে প্রয়োজনীয়। কিন্তু, আমার ধারণা, পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝা যাবে, ইউরোপ এক বিকেলে রাশিয়া থেকে যে পরিমাণ তেল ক্রয় করে, তা আমাদের গোটা মাসের রুশ তেল আমদানির চেয়ে বেশি!”

এসময়, সাম্প্রতিক রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধাবস্থা নিয়েও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে ভারত নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে। আমরা সবসময়ই বলেছি যে, আমরা সংঘাতের বিরুদ্ধে। কূটনীতি এবং সংলাপের মাধ্যমেই আমাদের সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। শান্তির চর্চায় ভারত যেকোনো অবদান রাখতে প্রস্তুত।”

এর আগে, এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে বৈঠকে বসেছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সেখানেও ভারতের নিরপেক্ষ নীতি তুলে ধরেছিলেন বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটির সরকারের সুপ্রিমো।

ইতোপূর্বে গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল ক্রয়ের বিষয়ে মার্কিন অনাপত্তির কথাও জানিয়েছিলেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন সাকি। তিনি বলেছিলেন, “রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর দরুণ ভারতকে কোনো প্রকার সতর্কতা কিংবা হুমকি বার্তা দেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারত মস্কোর চেয়ে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে বেশি তেল আমদানি করে। রাশিয়া থেকে যেখানে ভারত মাত্র ১ বা ২ শতাংশ তেল আমদানি করে, সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১০ শতাংশ তেল ক্রয় করে থাকে।”

তবে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা চায় না ইউক্রেনে আগ্রাসনের জন্য যে দেশ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে, তাদের থেকে জ্বালানি বা অন্যান্য পণ্য কেনা বাড়াক নয়াদিল্লি। তাই অন্য জায়গা থেকে তেল আমদানির চেষ্টা করলে, এক্ষেত্রে ভারতের পাশে থাকতে তৈরি আমেরিকা। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

ভারতের এক মাসে কেনা রুশ তেল, ইউরোপের এক বিকেলের চেয়ে কম: জয়শঙ্কর

প্রকাশ: ০৭:১৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২

ভারত রাশিয়া থেকে গোটা মাসে যে পরিমাণ তেল আমদানি করে থাকে, ইউরোপ এক বিকেলে তারচেয়ে বেশি রুশ তেল ক্রয় করে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত ১১ এপ্রিল, সোমবার, ওয়াশিংটন ডিসিতে ৪র্থ ভারত-মার্কিন ২+২ মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন মোদী মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্য।

জয়শঙ্কর বলেন, “প্রসঙ্গ যদি আসে রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়ের, তাহলে আমার পরামর্শ হচ্ছে, আপনারা ইউরোপের দিকে ফোকাস করুন। আমরা রাশিয়া থেকে নেহায়েতই অল্প কিছু জ্বালানী ক্রয় করে থাকি, যা আমাদের শক্তি নিরাপত্তার জন্য ভীষণভাবে প্রয়োজনীয়। কিন্তু, আমার ধারণা, পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝা যাবে, ইউরোপ এক বিকেলে রাশিয়া থেকে যে পরিমাণ তেল ক্রয় করে, তা আমাদের গোটা মাসের রুশ তেল আমদানির চেয়ে বেশি!”

এসময়, সাম্প্রতিক রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধাবস্থা নিয়েও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে ভারত নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে। আমরা সবসময়ই বলেছি যে, আমরা সংঘাতের বিরুদ্ধে। কূটনীতি এবং সংলাপের মাধ্যমেই আমাদের সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। শান্তির চর্চায় ভারত যেকোনো অবদান রাখতে প্রস্তুত।”

এর আগে, এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে বৈঠকে বসেছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সেখানেও ভারতের নিরপেক্ষ নীতি তুলে ধরেছিলেন বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটির সরকারের সুপ্রিমো।

ইতোপূর্বে গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল ক্রয়ের বিষয়ে মার্কিন অনাপত্তির কথাও জানিয়েছিলেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন সাকি। তিনি বলেছিলেন, “রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর দরুণ ভারতকে কোনো প্রকার সতর্কতা কিংবা হুমকি বার্তা দেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারত মস্কোর চেয়ে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে বেশি তেল আমদানি করে। রাশিয়া থেকে যেখানে ভারত মাত্র ১ বা ২ শতাংশ তেল আমদানি করে, সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১০ শতাংশ তেল ক্রয় করে থাকে।”

তবে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা চায় না ইউক্রেনে আগ্রাসনের জন্য যে দেশ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে, তাদের থেকে জ্বালানি বা অন্যান্য পণ্য কেনা বাড়াক নয়াদিল্লি। তাই অন্য জায়গা থেকে তেল আমদানির চেষ্টা করলে, এক্ষেত্রে ভারতের পাশে থাকতে তৈরি আমেরিকা। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক