০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পুতিন-জেলনস্কি আলোচনায় জোর মোদীর

ভার্চুয়াল মাধ্যমে মতবিনিময় করলেন ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার প্রধান। ১১ এপ্রিল, সোমবার, উত্তাল বিশ্ব রাজনীতির বিভিন্ন ঘটনার ডামাডোলের মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মিলিত হলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চতুর্থ ২+২ বৈঠকের ঠিক প্রাক্বালে দুই শীর্ষ নেতার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে ইউক্রেনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নয়াদিল্লির ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থানের ব্যাখ্যাও করেছেন তিনি। বৈঠকে বাইডেনের সঙ্গে হাজির ছিলেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সফররত ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে ওষুধ ও ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোয় ভারতের ভূমিকার কথা জানিয়ে বাইডেনকে মোদী বলেন, “ভারত আশা করে যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই শান্তির পথের সন্ধান মিলবে। শীঘ্রই আমরা আবারও ইউক্রেনে মেডিকেল টীম ও সহায়তা পাঠাবো।”

ইউক্রেনে যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে ভারতের ভূমিকা নিয়ে ইতোমধ্যেই আমেরিকা এবং ইউরোপের একাধিক দেশ প্রকাশ্যে হতাশা প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা একটিও প্রস্তাব সমর্থন করেনি মোদী সরকার।

পাশাপাশি, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের ভারত সফর এবং রুশ তেল কেনার বিষয়ে নয়াদিল্লির আগ্রহ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই রাশিয়ার ওপর একাধিক ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা এবং তার সহযোগী দেশগুলো। এই পরিস্থিতিতে মোদী-বাইডেনের বৈঠককে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকে মোদী বলেন, “ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে বুচায় গণহত্যার নিন্দা করেছে ভারত। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও সমর্থন করেছে। যে কোনও পরিস্থিতিতে ইউক্রেইনের পাশে আছে ভারত। আলোচনার মাধ্যমেই রাশিয়া এবং ইউক্রেইনের যুদ্ধের একটা দিক নিশ্চয় বেরিয়ে আসবে।”

ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে মোদী বলেন, “আমি ইউক্রেন এবং রাশিয়া দু’দেশের নেতাদের সঙ্গেই একাধিকবার কথা বলেছি এবং তাদের সরাসরি কথা বলার জন্য অনুরোধ করেছি।”

এসময়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মোদী বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী দুই গণতন্ত্র হিসেবে আমাদের মধ্যে গভীর ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন রাষ্ট্রপতির বলা এক কথার সাথে আমিও একমত যে, ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্ব অনেক বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে অবদান রাখতে পারে।”

এসময়, ইউক্রেনে ভারতের মানবিক উদ্যোগ এবং নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার জন্য ভারতের প্রশংসা করেন বাইডেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ইউক্রেন ইস্যু ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন খাত, যেমন: মহামারীতে বিশ্ব অর্থনীতি উদ্ধার, মহামারী সম্পূর্ণ নির্মূল, জলবায়ু কর্ম, দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি,  ইন্দো-প্যাসিফিক পরিস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছেন বাইডেন ও মোদী। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

পুতিন-জেলনস্কি আলোচনায় জোর মোদীর

প্রকাশ: ০৭:১২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২

ভার্চুয়াল মাধ্যমে মতবিনিময় করলেন ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার প্রধান। ১১ এপ্রিল, সোমবার, উত্তাল বিশ্ব রাজনীতির বিভিন্ন ঘটনার ডামাডোলের মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মিলিত হলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চতুর্থ ২+২ বৈঠকের ঠিক প্রাক্বালে দুই শীর্ষ নেতার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে ইউক্রেনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নয়াদিল্লির ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থানের ব্যাখ্যাও করেছেন তিনি। বৈঠকে বাইডেনের সঙ্গে হাজির ছিলেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সফররত ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে ওষুধ ও ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোয় ভারতের ভূমিকার কথা জানিয়ে বাইডেনকে মোদী বলেন, “ভারত আশা করে যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই শান্তির পথের সন্ধান মিলবে। শীঘ্রই আমরা আবারও ইউক্রেনে মেডিকেল টীম ও সহায়তা পাঠাবো।”

ইউক্রেনে যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে ভারতের ভূমিকা নিয়ে ইতোমধ্যেই আমেরিকা এবং ইউরোপের একাধিক দেশ প্রকাশ্যে হতাশা প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা একটিও প্রস্তাব সমর্থন করেনি মোদী সরকার।

পাশাপাশি, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের ভারত সফর এবং রুশ তেল কেনার বিষয়ে নয়াদিল্লির আগ্রহ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই রাশিয়ার ওপর একাধিক ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা এবং তার সহযোগী দেশগুলো। এই পরিস্থিতিতে মোদী-বাইডেনের বৈঠককে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকে মোদী বলেন, “ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে বুচায় গণহত্যার নিন্দা করেছে ভারত। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও সমর্থন করেছে। যে কোনও পরিস্থিতিতে ইউক্রেইনের পাশে আছে ভারত। আলোচনার মাধ্যমেই রাশিয়া এবং ইউক্রেইনের যুদ্ধের একটা দিক নিশ্চয় বেরিয়ে আসবে।”

ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে মোদী বলেন, “আমি ইউক্রেন এবং রাশিয়া দু’দেশের নেতাদের সঙ্গেই একাধিকবার কথা বলেছি এবং তাদের সরাসরি কথা বলার জন্য অনুরোধ করেছি।”

এসময়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মোদী বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী দুই গণতন্ত্র হিসেবে আমাদের মধ্যে গভীর ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন রাষ্ট্রপতির বলা এক কথার সাথে আমিও একমত যে, ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্ব অনেক বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে অবদান রাখতে পারে।”

এসময়, ইউক্রেনে ভারতের মানবিক উদ্যোগ এবং নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার জন্য ভারতের প্রশংসা করেন বাইডেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ইউক্রেন ইস্যু ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন খাত, যেমন: মহামারীতে বিশ্ব অর্থনীতি উদ্ধার, মহামারী সম্পূর্ণ নির্মূল, জলবায়ু কর্ম, দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি,  ইন্দো-প্যাসিফিক পরিস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছেন বাইডেন ও মোদী। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক