০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মানবাধিকার পরিষদে রাশিয়ার সদস্যপদ স্থগিত

রাশিয়ার সেনাবাহিনী ইউক্রেনে ‘গণহারে এবং পরিকল্পিতভাবে নিপীড়ন এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন’ করেছে জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে রাশিয়াকে বরখাস্ত করেছে। গত ০৭ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, রাশিয়ার সদস্যপদ স্থগিত চেয়ে এক প্রস্তাব আনে যুক্তরাষ্ট্র। উক্ত রেজুলেশনে ভোটদানে বিরত থেকেছে ভারত।
রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দিয়েছে ৯৩টি দেশ, বিপক্ষে ২৪টি দেশ। এ সময় ভোটদানে বিরত থাকে ভারতসহ ৫৮টি দেশ। এর আগেও জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপন করা সকল প্রস্তাবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে নয়াদিল্লী।
জেনেভা ভিত্তিক জাতিসংঘের ৪৭ সদস্যের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে রাশিয়াকে বাদ দিতে প্রস্তাবের পক্ষে ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন ছিল।
৫৮ দেশ ভোট দান থেকে বিরত থাকায় তাদের অনুপস্থিত বলে বিবেচনা করা হয়। ফলে প্রস্তাবের পক্ষে ৯৩ ভোট পড়ায় তা দুইতৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান ব্যখ্যা করে জাতিসংঘে নিযুক্ত নয়াদিল্লীর স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি বলেন, “আমরা ইউক্রেনে ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতিতে রীতিমতো উদ্বীগ্ন এবং অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহবান জানাচ্ছি। নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষার্থে কূটনীতিই একমাত্র পন্থা।”
অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক আরও বলেন, “রুশ-ইউক্রেন সংঘাতের শুরু থেকেই শান্তি, সংলাপ এবং কূটনীতির পক্ষে দাড়িয়েছে ভারত। আমরা বিশ্বাস করি রক্ত ঝড়িয়ে কোন সমাধান আসেনা। ভারত যদি কোন এক পক্ষ বেছে নেয়, তবে সেটি কেবলমাত্র শান্তির পক্ষ।”
এসময়, বুচায় গণহত্যার সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্ত দাবি করেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের জোট নিরপেক্ষ কৌশল অনুসরণ করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কিয়েভ-মস্কো সংঘাত নিয়েও প্রথম থেকেই নিরপেক্ষ থেকেছে ভারত। যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইউক্রেনে ওষুধ ও খাদ্য সাহায্য পাঠালেও জনসমক্ষে রাশিয়ার সমালোচনা থেকে বিরত থেকেছে তারা। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে এই প্রথম অবস্থান বদলাতে দেখা গেল ভারতকে। রুশ নীতির সমালোচনা করলো ভারত।
অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক বলেন, “দু পক্ষের যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য, শক্তি, তেল সহ নানাবিধ বস্তু ও বিষয়ের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায়, গঠনমূলক কার্যক্রম আমাদের কাম্য। সেটি অবশ্যই আমাদের সম্মিলিত স্বার্থেও এবং মানবতার স্বার্থেও।”
এসময়, বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উপর জোর দেন ভারতীয় কূটনীতিক। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক
ট্যাগ:

মানবাধিকার পরিষদে রাশিয়ার সদস্যপদ স্থগিত

প্রকাশ: ০৬:০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ এপ্রিল ২০২২
রাশিয়ার সেনাবাহিনী ইউক্রেনে ‘গণহারে এবং পরিকল্পিতভাবে নিপীড়ন এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন’ করেছে জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে রাশিয়াকে বরখাস্ত করেছে। গত ০৭ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, রাশিয়ার সদস্যপদ স্থগিত চেয়ে এক প্রস্তাব আনে যুক্তরাষ্ট্র। উক্ত রেজুলেশনে ভোটদানে বিরত থেকেছে ভারত।
রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দিয়েছে ৯৩টি দেশ, বিপক্ষে ২৪টি দেশ। এ সময় ভোটদানে বিরত থাকে ভারতসহ ৫৮টি দেশ। এর আগেও জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপন করা সকল প্রস্তাবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে নয়াদিল্লী।
জেনেভা ভিত্তিক জাতিসংঘের ৪৭ সদস্যের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে রাশিয়াকে বাদ দিতে প্রস্তাবের পক্ষে ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন ছিল।
৫৮ দেশ ভোট দান থেকে বিরত থাকায় তাদের অনুপস্থিত বলে বিবেচনা করা হয়। ফলে প্রস্তাবের পক্ষে ৯৩ ভোট পড়ায় তা দুইতৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান ব্যখ্যা করে জাতিসংঘে নিযুক্ত নয়াদিল্লীর স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি বলেন, “আমরা ইউক্রেনে ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতিতে রীতিমতো উদ্বীগ্ন এবং অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহবান জানাচ্ছি। নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষার্থে কূটনীতিই একমাত্র পন্থা।”
অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক আরও বলেন, “রুশ-ইউক্রেন সংঘাতের শুরু থেকেই শান্তি, সংলাপ এবং কূটনীতির পক্ষে দাড়িয়েছে ভারত। আমরা বিশ্বাস করি রক্ত ঝড়িয়ে কোন সমাধান আসেনা। ভারত যদি কোন এক পক্ষ বেছে নেয়, তবে সেটি কেবলমাত্র শান্তির পক্ষ।”
এসময়, বুচায় গণহত্যার সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্ত দাবি করেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের জোট নিরপেক্ষ কৌশল অনুসরণ করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কিয়েভ-মস্কো সংঘাত নিয়েও প্রথম থেকেই নিরপেক্ষ থেকেছে ভারত। যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইউক্রেনে ওষুধ ও খাদ্য সাহায্য পাঠালেও জনসমক্ষে রাশিয়ার সমালোচনা থেকে বিরত থেকেছে তারা। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে এই প্রথম অবস্থান বদলাতে দেখা গেল ভারতকে। রুশ নীতির সমালোচনা করলো ভারত।
অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক বলেন, “দু পক্ষের যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য, শক্তি, তেল সহ নানাবিধ বস্তু ও বিষয়ের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায়, গঠনমূলক কার্যক্রম আমাদের কাম্য। সেটি অবশ্যই আমাদের সম্মিলিত স্বার্থেও এবং মানবতার স্বার্থেও।”
এসময়, বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উপর জোর দেন ভারতীয় কূটনীতিক। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক