০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শ্রীলঙ্কায় ৭৬ হাজার টন জ্বালানী পাঠালো ভারত

মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কার জন্য আরও জ্বালানী সম্পদ পাঠিয়েছে ভারত। ০৭ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, এক টুইট বার্তায় শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, “জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করতে কলম্বোকে এ সাহায্য পাঠানো হয়েছে।”

জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শ্রীলঙ্কায় আরো ৭৬ হাজার টন জ্বালানী তেল পাঠিয়েছে ভারত। এসব জ্বালানীর মধ্যে রয়েছে ৩৬ হাজার টন পেট্রোল, বাকি ৪০ হাজার টন ডিজেল। এর মাধ্যমে দেশটিতে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টন জ্বালানী সরবরাহ করা হলো।

এর আগে গত ০২ এপ্রিল, শনিবার, ৪০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর বন্দরে পৌঁছায়। এই ডিজেলের দাম পড়েছে ১০০ কোটি ডলার। যার অর্থ দিয়েছে ভারত।

জানা গিয়েছে, ২ কোটি ২০ লাখ অধিবাসীর দ্বীপরাষ্ট্রটিতে আর্থিক মন্দা চরমে পৌঁছেছে। ১৯৪৮ সালে স্বাধীন হওয়ার পর ৭৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্র। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানিরও ক্ষমতা হারিয়েছে দেশটি।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়; কিন্তু দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এতটাই কমেছে যে, তা দিয়ে এক মাসের আমদানি ব্যয়ও মেটানো যাবে না।

দেশটিতে মারাত্মক অর্থনৈতিক ও জ্বালানী-সংকট তৈরি হয়েছে। হাজারো মানুষ ফিলিং স্টেশনের সামনে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। মুদ্রা বিনিময় সংকটের কারণে আমদানি বিধিনিষেধ থাকায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে।

এর দরুন সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। দেশটির প্রায় প্রতিটি জায়গায় সরকারের প্রতিনিধিদের কুশপুতুল দাহ করা হচ্ছে। অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই অবস্থায় শিয়রে শমন হয়ে দেখা দিয়েছে শ্রীলঙ্কার তেলের ভাড়ার, যা এক্কেবারে শূন্যের কোটায়। এমন পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারত।

গত মাসের শুরুর দিকে শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপক্ষে নয়াদিল্লি সফর করেন। তখন আমদানি করা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম পরিশোধে দেশটিকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি ডলার ঋণসহায়তার আশ্বাস দিয়েছিল ভারত। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

শ্রীলঙ্কায় ৭৬ হাজার টন জ্বালানী পাঠালো ভারত

প্রকাশ: ০৫:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল ২০২২

মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কার জন্য আরও জ্বালানী সম্পদ পাঠিয়েছে ভারত। ০৭ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, এক টুইট বার্তায় শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, “জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করতে কলম্বোকে এ সাহায্য পাঠানো হয়েছে।”

জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শ্রীলঙ্কায় আরো ৭৬ হাজার টন জ্বালানী তেল পাঠিয়েছে ভারত। এসব জ্বালানীর মধ্যে রয়েছে ৩৬ হাজার টন পেট্রোল, বাকি ৪০ হাজার টন ডিজেল। এর মাধ্যমে দেশটিতে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টন জ্বালানী সরবরাহ করা হলো।

এর আগে গত ০২ এপ্রিল, শনিবার, ৪০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর বন্দরে পৌঁছায়। এই ডিজেলের দাম পড়েছে ১০০ কোটি ডলার। যার অর্থ দিয়েছে ভারত।

জানা গিয়েছে, ২ কোটি ২০ লাখ অধিবাসীর দ্বীপরাষ্ট্রটিতে আর্থিক মন্দা চরমে পৌঁছেছে। ১৯৪৮ সালে স্বাধীন হওয়ার পর ৭৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্র। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানিরও ক্ষমতা হারিয়েছে দেশটি।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়; কিন্তু দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এতটাই কমেছে যে, তা দিয়ে এক মাসের আমদানি ব্যয়ও মেটানো যাবে না।

দেশটিতে মারাত্মক অর্থনৈতিক ও জ্বালানী-সংকট তৈরি হয়েছে। হাজারো মানুষ ফিলিং স্টেশনের সামনে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। মুদ্রা বিনিময় সংকটের কারণে আমদানি বিধিনিষেধ থাকায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে।

এর দরুন সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। দেশটির প্রায় প্রতিটি জায়গায় সরকারের প্রতিনিধিদের কুশপুতুল দাহ করা হচ্ছে। অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই অবস্থায় শিয়রে শমন হয়ে দেখা দিয়েছে শ্রীলঙ্কার তেলের ভাড়ার, যা এক্কেবারে শূন্যের কোটায়। এমন পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারত।

গত মাসের শুরুর দিকে শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপক্ষে নয়াদিল্লি সফর করেন। তখন আমদানি করা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম পরিশোধে দেশটিকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি ডলার ঋণসহায়তার আশ্বাস দিয়েছিল ভারত। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক