০৫:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

২০৩০ নাগাদ ভারত-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্য $১০০ বিলিয়ন হবে

২০৩০ সাল নাগাদ ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। ০৭ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, অস্ট্রেলিয়ার বিজনেস কাউন্সিল আয়োজিত ব্যবসায়ী নেতাদের সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভারত-অস্ট্রেলিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তি (ইন্ডআউস ইসিটিএ) -এর আওতায় আগামী ৫-৬ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করতে হবে।”

গোয়াল বলেন, “ভারত ‘ইনভেস্ট ইন্ডিয়া অফিস’ স্থাপন করবে এবং কয়েক মাসের মধ্যে ইন্ডআউস ইসিটিএ -এর সম্ভাব্যতা উপলব্ধি করার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় একটি ট্রেড প্রমোশন অফিস খুলবে।”

ইন্ডআউস ইসিটিএ -কে একটি ‘ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব’ হিসাবে অভিহিত করে গোয়েল বলেন, “ভারত ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা এবং শক্তি দক্ষতা তিনগুণ করার দিকে নজর দিচ্ছে৷ আমাদের দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা এমন একটি কাঠামোতে হবে, যার ভিত্তিতে উভয় পক্ষের মধ্যে অন্যান্য সমস্ত ব্যস্ততা সমৃদ্ধ হবে।”

গোয়েল বলেন, “আমি একমত যে আপনাকে যদি ১০০ বিলিয়ন পর্যন্ত পৌঁছাতে হয়, তাহলে আমাদের চুক্তিকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে ড্রিল করতে হবে। এই স্পেসিফিকেশনগুলোতে মেধাভিত্তিক শক্তিও আসে, যেমন আমাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে, আমাদের গবেষণায়, আমাদের শিক্ষায় আরও গভীর নিযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে, আমাদের মানগুলো সারিবদ্ধ করতে হবে।”

উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বর্তমানে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন ভারতীয় মন্ত্রী। সফর চলাকালে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, নেতৃবৃন্দ এবং ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করছেন গোয়েল। অস্ট্রেলিয়ার সাথে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ব্যাপক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র চারদিন পরই গত ০৫ এপ্রিল দেশটি সফরে যান তিনি।

সফরকালে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার শিক্ষা খাতে সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেছেন গোয়েল। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেলবোর্ন ক্রিকেট, অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়া চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড অস্ট্রেডে গ্রাউন্ড এবং অস্ট্রেলিয়া ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করার কথা রয়েছে গোয়েলের। লবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেলবোর্ন ল স্কুলে মন্ত্রী ড্যান তেহান এবং মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর অ্যালান মায়ার্সের সাথে একটি সম্মেলনেও অংশ নেন তিনি।

সফর চলাকালে মেলবোর্নের শিব বিষ্ণু মন্দির পরিদর্শন করেন গোয়েল। সেখানে ভারতীয় প্রবাসীদের সাথে একটি অনুষ্ঠানেও যোগ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, শনিবার একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। সেখানেই স্বাক্ষরিত হয় দু দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ব্যাপক বাণিজ্য চুক্তি।

নতুন এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পাশাপাশি পীযূষের আশা, এই চুক্তির ফলে ১০ লক্ষ চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। এবং রাতারাতি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ একলাফে বেড়ে যাবে অনেকটাই।

এই চুক্তির ফলে বিনিয়োগ দ্বিগুণ হয়ে যাবে বলেও আশা ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রীর। ২৭ বিলিয়নের পরিবর্তে এবার ৪৫-৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রের লাভবান হওয়ার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পীযূষ।

এই চুক্তি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, “ভারত-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে এই চুক্তির ফলে। অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের রফতানির পরিমাণ গত ১২ মাসে সর্বোচ্চ বেড়েছে। আমরা আলোচনার গতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি।”

নতুন এই চুক্তির ফলে ভারতে আমদানি হওয়া অস্ট্রেলিয়ান সামগ্রীর ৮৫ শতাংশের উপর থেকে কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সামগ্রীগুলোর রফতানি মূল্য প্রায় ১২.৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার। ভেড়ার মাংস, উল, তামা, কয়লা, অ্যালুমিনা, তাজা অস্ট্রেলিয়ান রক লবস্টারের মতো বহু বস্তু রফতানির ক্ষেত্রে এখন থেকে আর ভারতকে কর দিতে হবে না অস্ট্রেলিয়াকে।

নতুন চুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীও। তিনি জানিয়েছেন, “এই চুক্তি বিশ্বের দ্রুততম বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির দরজা খুলে দেবে অস্ট্রেলিয়ার কৃষক, উৎপাদক ও অন্যদের জন্য।” খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

২০৩০ নাগাদ ভারত-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্য $১০০ বিলিয়ন হবে

প্রকাশ: ০৫:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল ২০২২

২০৩০ সাল নাগাদ ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। ০৭ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, অস্ট্রেলিয়ার বিজনেস কাউন্সিল আয়োজিত ব্যবসায়ী নেতাদের সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভারত-অস্ট্রেলিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তি (ইন্ডআউস ইসিটিএ) -এর আওতায় আগামী ৫-৬ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করতে হবে।”

গোয়াল বলেন, “ভারত ‘ইনভেস্ট ইন্ডিয়া অফিস’ স্থাপন করবে এবং কয়েক মাসের মধ্যে ইন্ডআউস ইসিটিএ -এর সম্ভাব্যতা উপলব্ধি করার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় একটি ট্রেড প্রমোশন অফিস খুলবে।”

ইন্ডআউস ইসিটিএ -কে একটি ‘ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব’ হিসাবে অভিহিত করে গোয়েল বলেন, “ভারত ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা এবং শক্তি দক্ষতা তিনগুণ করার দিকে নজর দিচ্ছে৷ আমাদের দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা এমন একটি কাঠামোতে হবে, যার ভিত্তিতে উভয় পক্ষের মধ্যে অন্যান্য সমস্ত ব্যস্ততা সমৃদ্ধ হবে।”

গোয়েল বলেন, “আমি একমত যে আপনাকে যদি ১০০ বিলিয়ন পর্যন্ত পৌঁছাতে হয়, তাহলে আমাদের চুক্তিকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে ড্রিল করতে হবে। এই স্পেসিফিকেশনগুলোতে মেধাভিত্তিক শক্তিও আসে, যেমন আমাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে, আমাদের গবেষণায়, আমাদের শিক্ষায় আরও গভীর নিযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে, আমাদের মানগুলো সারিবদ্ধ করতে হবে।”

উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বর্তমানে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন ভারতীয় মন্ত্রী। সফর চলাকালে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, নেতৃবৃন্দ এবং ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করছেন গোয়েল। অস্ট্রেলিয়ার সাথে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ব্যাপক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র চারদিন পরই গত ০৫ এপ্রিল দেশটি সফরে যান তিনি।

সফরকালে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার শিক্ষা খাতে সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেছেন গোয়েল। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেলবোর্ন ক্রিকেট, অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়া চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড অস্ট্রেডে গ্রাউন্ড এবং অস্ট্রেলিয়া ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করার কথা রয়েছে গোয়েলের। লবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেলবোর্ন ল স্কুলে মন্ত্রী ড্যান তেহান এবং মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর অ্যালান মায়ার্সের সাথে একটি সম্মেলনেও অংশ নেন তিনি।

সফর চলাকালে মেলবোর্নের শিব বিষ্ণু মন্দির পরিদর্শন করেন গোয়েল। সেখানে ভারতীয় প্রবাসীদের সাথে একটি অনুষ্ঠানেও যোগ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, শনিবার একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। সেখানেই স্বাক্ষরিত হয় দু দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ব্যাপক বাণিজ্য চুক্তি।

নতুন এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পাশাপাশি পীযূষের আশা, এই চুক্তির ফলে ১০ লক্ষ চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। এবং রাতারাতি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ একলাফে বেড়ে যাবে অনেকটাই।

এই চুক্তির ফলে বিনিয়োগ দ্বিগুণ হয়ে যাবে বলেও আশা ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রীর। ২৭ বিলিয়নের পরিবর্তে এবার ৪৫-৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রের লাভবান হওয়ার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পীযূষ।

এই চুক্তি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, “ভারত-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে এই চুক্তির ফলে। অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের রফতানির পরিমাণ গত ১২ মাসে সর্বোচ্চ বেড়েছে। আমরা আলোচনার গতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি।”

নতুন এই চুক্তির ফলে ভারতে আমদানি হওয়া অস্ট্রেলিয়ান সামগ্রীর ৮৫ শতাংশের উপর থেকে কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সামগ্রীগুলোর রফতানি মূল্য প্রায় ১২.৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার। ভেড়ার মাংস, উল, তামা, কয়লা, অ্যালুমিনা, তাজা অস্ট্রেলিয়ান রক লবস্টারের মতো বহু বস্তু রফতানির ক্ষেত্রে এখন থেকে আর ভারতকে কর দিতে হবে না অস্ট্রেলিয়াকে।

নতুন চুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীও। তিনি জানিয়েছেন, “এই চুক্তি বিশ্বের দ্রুততম বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির দরজা খুলে দেবে অস্ট্রেলিয়ার কৃষক, উৎপাদক ও অন্যদের জন্য।” খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক