বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম
সৌমিত্রকন্যা পৌলমী করোনায় আক্রান্ত ভারতে টিকা নেয়ার পর ৪৪৭ জনের শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহারের জন্য মোবাইল কোর্টে মোল্লা বিঁড়িকে বিশ হাজার টাকা জরিমানা ময়মনসিংহ বিভাগ ফেসবুক গ্রুপের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ময়মনসিংহ ইউনিটের উদ্যোগে শীতবস্ত্র( কম্বল) বিতরণ জামালপুরে ৭ অবৈধ ইটভাটায় ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা পরিবেশ অধিদপ্তরের মোবাইল কোর্টে সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা স্মারক পেলেন সাংবাদিক নজরুল ইসলাম জুয়েল র‍্যাব সেবা সপ্তাহ এর দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদান ময়মনসিংহে মাদকাসক্ত সনাক্তকরণের জন্য ডোপ টেস্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন মাদ্রাসার অসহায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ

ময়মনসিংহে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে জয় বাংলা চত্বর এর শুভ উদ্বোধন

ময়মনসিংহে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে জয় বাংলা চত্বর এর শুভ উদ্বোধন

 এনামুল হক ছোটন: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এর অর্থায়নে ময়মনসিংহ নগরীর পাট গুদাম ব্রীজের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে জয় বাংলা চত্বর এর শুভ উদ্বোধন করা হয়। আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এর আয়োজনে জয় বাংলা চত্বর এর শুভ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এর জনপ্রিয় মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু এর সভাপতিত্বে ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট জহিরুল হক খোকা ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, ময়মনসিংহ দি চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোঃ আমিনুল হক শামীম সিআইপি, ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলন এর সাধারণ সম্পাদক ইন্জিনিয়ারিং মোঃ আবুল কালাম। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন,১৬ ডিসেম্বর বাঙালী জাতির মহান বিজয় দিবস। আর এই বিজয় দিবস অর্জনের পিছনে রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপক ইতিহাস।

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নগরবাসীর কাছে তুলে ধরতেই এই জয় বাংলা চত্বর স্হাপন করা হয়েছে। এই জয় বাংলা চত্বরের প্রতিটি স্তরে ও প্রতিটি ফলক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের স্মৃতির প্রতিফলনে তৈরি। মহান বিজয় দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর এর জীবনী, উক্তি, ৬ দফা, ৭ই মার্চের ভাষণ, নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সহ সাত জন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ এর প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে এই জয় বাংলা চত্বর এর নির্মাণে। আর মুজিব শতবর্ষে মহান বিজয় দিবসে আমি নগরবাসীকে জানাতে চাই, আমি আপনাদের সহোযোগিতায় ময়মনসিংহ নগরীরকে একটি আধুনিক নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে চাই।এছাড়াও আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এর প্যানেল মেয়র আসিফ হোসেন ডন সহ অনন্য কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরগণ, ময়মনসিংহ জিলা মটর মালিক সমিতির কোচ বিভাগের সম্পাদক সোমনাথ সাহা, ময়মনসিংহ দি চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সহ সভাপতি শংকর সাহা, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকগন এবং বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ। উল্লেখ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত হয় জয় বাংলা চত্বর। বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম ও সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে।

 

সেইসব মুক্তির সংগ্রাম ও যুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। সেই অবিস্মরণীয় ইতিহাস কালান্তরে ধরে রাখার জন্য নির্মিত হয় জয় বাংলা চত্বর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জীবন এবং আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথে কিছু তারিখ – সংখ্যা সংশ্লিষ্ট ও অনিবার্যভাবে স্মরণীয়। সেইসব তারিখ – সংখ্যা ‘ জয় বাংলা চত্বর ‘স্থাপনার প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করা হয়। স্হাপনাটি মূলত ত্রিভূজ আকৃতির ত্রিস্তর বিশিষ্ট বেদীর উপর ৫ টি ফলক।মাঝের ফলকটি সর্বোচ্চ ও পাশেরগুলো ছোট।মাঝখানের ফলকটি ৩০ ফুট, যা মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদের স্মরণে রেখে নির্মিত। আর এর মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আবক্ষ ম্যূরাল চিত্র। আর দুইপাশের দুটি ফলকে টেরাকোটা মূরাল চিত্রে প্রতীকীভাবে মুক্তিযুদ্ধের পুরো কাহিনী। একবারে কিনারের দুটি ফলকের একটিতে বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক জীবন ও অপরটিতে অবিস্মরণীয় স্মৃতি। ফলকগুলোর সামনে ৯ ইঞ্চি উচ্চতার ১৬ টি ছোট্ট বেদী রয়েছে আর এগুলো মাধ্যমে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ ও ১৬ ই ডিসেম্বর। মূল বেদীতে ওঠানামা জন্য একপাশে ৬ টি সিড়ির মাধ্যমে ৬ দফা অান্দোলনকে স্মরণ ও অপরদিকে ৭ টি সিড়ি দ্বারা ৭ই মার্চ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জন্মদিন ১৭ মার্চকে স্মরণে রেখে মূল বেদীতে ১৭ টি শাপলার ভাস্কর্য। স্হাপনাটি নির্মাণের আগে থেকেই ছিলো ৭ টি বটল পাম যা ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠের প্রতীক হিসাবে পশ্চাৎপদে দাঁড়িয়ে আছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© ২০১৯ দৈনিক নবযুগ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Designed and developed by Smk Ishtiak