ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

জিনপিং ক্ষমতা নেয়ার পর আরও আগ্রাসী হয়েছে চীন

২০১২ সালে শি জিনপিং রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর থেকে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে চীন অনেক বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ার লোই ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ মাইকেল ফুলিলোভ।
২৪ ডিসেম্বর, শুক্রবার, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত দ্বিতীয় অটল বিহারী বাজপেয়ী স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
ফুলিলোভ বলেন, “শি জিনপিং এর আমল থেকেই চীন নিজেদের পূর্ব ও পশ্চিম জলসীমায় এবং ইন্দো-প্যাসিক অঞ্চলের অন্যান্য রাষ্ট্রের প্রতি অনেক বেশি আগ্রাসী হয়েছে উঠেছে।”
তবে উক্ত সময়কালে চীনের পাশাপাশি ভারতও সমানভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থার জানান দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই কূটনীতিক বিশেষজ্ঞ। ফুলিলোভ বলেন, “ভারতীয় সৈন্যরা সীমান্তে বীরত্ব প্রদর্শন করে এবং নিজেদের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছে যে ভারতও চীনের চেয়ে কম নয়। ক্রমবর্ধমান ভাবে বিশ্বে নিজেদের অবস্থার জানান দিচ্ছে তারা।”
 অজি এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “গত এক দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন উভয়েই অনমনীয় আচরণ প্রদর্শন করেছে। চীনের বিদেশ নীতি যেমন কঠিন হয়েছে, তেমনই এর অভ্যন্তরীণ মানবাধিকারও ক্রমাগত ক্ষুন্ন হয়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, মনে হচ্ছে, চীন যেকোনো পর্যায়ের সমালোচনা সহ্য ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।”
তবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের কট্টর নীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তহীনতায় এখানে কয়েকটি দৃশ্যমান অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ফুলিলোভ। সেগুলো যথাক্রমে,
* আঞ্চলিক শক্তিসমূহ নিজস্ব সম্ভাবনার বৃহত্তর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং কাজের স্বাধীনতা বাড়িয়েছে।
* ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নতি ঘটছে।
* সমমনা দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে।
এসময়, ভারতের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফুলিলোভ বলেন, “আমি ভারতের সমসাময়িক কর্মকান্ডে অত্যন্ত আনন্দিত এবং প্রভাবিত হয়েছি। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারত একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়েছে, অন্যদিকে কোয়াড গঠন করে আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।”
সর্বশেষ এশিয়া পাওয়ার সূচকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সূচকের বর্তমান অবস্থাই প্রমাণ করে গোটা অঞ্চল জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা চীন কেউই একক প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হবেনা। এটি একটি বাইপোলার সম্পর্কের ইঙ্গিতবাহী। এখানে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া সহ সমমনা দেশগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
আলোচনাকালে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমূহ সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন ফুলিলোভ। ব্যাপক অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক স্তরে সম্পর্ক বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠ মিত্রতা গড়ে তোলার ব্যাপারে এসময় নিজ মতামত ব্যক্ত করেন এই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ।
এক পর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীকে একজন কবি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলে অভিহিত করেন তিনি। ফুলিলোভ বলেন, “একজন অন্তর্দেশীয় নেতা ছিলেন বাজপেয়ী। তার নেতৃত্ব, পররাষ্ট্র নীতি সবকিছুতেই ছিলো সৃজনশীলতার ছাপ।”
খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক
Tag :

Notice: Trying to access array offset on value of type int in /home/nabajugc/public_html/wp-content/themes/NewsFlash-Pro/template-parts/common/single_two.php on line 182

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

জিনপিং ক্ষমতা নেয়ার পর আরও আগ্রাসী হয়েছে চীন

Update Time : ০৫:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২১
২০১২ সালে শি জিনপিং রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর থেকে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে চীন অনেক বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ার লোই ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ মাইকেল ফুলিলোভ।
২৪ ডিসেম্বর, শুক্রবার, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত দ্বিতীয় অটল বিহারী বাজপেয়ী স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
ফুলিলোভ বলেন, “শি জিনপিং এর আমল থেকেই চীন নিজেদের পূর্ব ও পশ্চিম জলসীমায় এবং ইন্দো-প্যাসিক অঞ্চলের অন্যান্য রাষ্ট্রের প্রতি অনেক বেশি আগ্রাসী হয়েছে উঠেছে।”
তবে উক্ত সময়কালে চীনের পাশাপাশি ভারতও সমানভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থার জানান দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই কূটনীতিক বিশেষজ্ঞ। ফুলিলোভ বলেন, “ভারতীয় সৈন্যরা সীমান্তে বীরত্ব প্রদর্শন করে এবং নিজেদের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছে যে ভারতও চীনের চেয়ে কম নয়। ক্রমবর্ধমান ভাবে বিশ্বে নিজেদের অবস্থার জানান দিচ্ছে তারা।”
 অজি এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “গত এক দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন উভয়েই অনমনীয় আচরণ প্রদর্শন করেছে। চীনের বিদেশ নীতি যেমন কঠিন হয়েছে, তেমনই এর অভ্যন্তরীণ মানবাধিকারও ক্রমাগত ক্ষুন্ন হয়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, মনে হচ্ছে, চীন যেকোনো পর্যায়ের সমালোচনা সহ্য ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।”
তবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের কট্টর নীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তহীনতায় এখানে কয়েকটি দৃশ্যমান অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ফুলিলোভ। সেগুলো যথাক্রমে,
* আঞ্চলিক শক্তিসমূহ নিজস্ব সম্ভাবনার বৃহত্তর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং কাজের স্বাধীনতা বাড়িয়েছে।
* ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নতি ঘটছে।
* সমমনা দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে।
এসময়, ভারতের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফুলিলোভ বলেন, “আমি ভারতের সমসাময়িক কর্মকান্ডে অত্যন্ত আনন্দিত এবং প্রভাবিত হয়েছি। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারত একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়েছে, অন্যদিকে কোয়াড গঠন করে আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।”
সর্বশেষ এশিয়া পাওয়ার সূচকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সূচকের বর্তমান অবস্থাই প্রমাণ করে গোটা অঞ্চল জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা চীন কেউই একক প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হবেনা। এটি একটি বাইপোলার সম্পর্কের ইঙ্গিতবাহী। এখানে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া সহ সমমনা দেশগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
আলোচনাকালে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমূহ সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন ফুলিলোভ। ব্যাপক অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক স্তরে সম্পর্ক বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠ মিত্রতা গড়ে তোলার ব্যাপারে এসময় নিজ মতামত ব্যক্ত করেন এই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ।
এক পর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীকে একজন কবি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলে অভিহিত করেন তিনি। ফুলিলোভ বলেন, “একজন অন্তর্দেশীয় নেতা ছিলেন বাজপেয়ী। তার নেতৃত্ব, পররাষ্ট্র নীতি সবকিছুতেই ছিলো সৃজনশীলতার ছাপ।”
খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক