বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন

অবৈধ অস্ত্র সরবরাহে ড্রোন ব্যবহার করছে কিছু রাষ্ট্র: ভারত

অবৈধ অস্ত্র সরবরাহে ড্রোন ব্যবহার করছে কিছু রাষ্ট্র: ভারত

ড্রোন

সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলিকে অবৈধ অস্ত্রের আন্তঃসীমান্ত সরবরাহের জন্য ড্রোনের মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ভারত। গত ২২ নভেম্বর, সোমবার, নিরাপত্তা পরিষদে ‘শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রের বিমুখতা এবং পাচারের প্রভাব’ বিষয়ক উন্মুক্ত বিতর্কে উপরোক্ত দেশগুলোর প্রতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে ভারত। গোটা আয়োজনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (সিপিভি এবং ওআইএ) সঞ্জয় ভট্টাচার্য।

নিজ বক্তব্য দিতে গিয়ে সঞ্জয় ভট্টাচার্য বলেন, “সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো যেসব অত্যাধুনিক অস্ত্র অর্জন করেছে এবং যে ধরণের গুণমান সম্পন্ন অস্ত্র বর্তমানে তাদের হাতে মজুদ রয়েছে, তা আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে তাঁরা যেকোনো রাষ্ট্রের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এটি কখনোই হাসিল করতে পারতো না।”

এসময় পাকিস্তানের নাম না করে দেশটির উদ্দেশ্যে তোপ দাগেন ভারতীয় সচিব। তিনি বলেন, “এটি ইতোমধ্যে প্রমাণিত যে কিছু রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং এর জন্য ড্রোনের ব্যবহারও কড়ছে। এসব ন্যাক্ক্বারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।”

ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, “সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গুলোর কাছে থাকা ছোট অস্ত্র এবং হালকা অস্ত্রের ক্রমাগত প্রবাহের প্রভাবে তাঁরা আরও ভয়ঙ্কর এবং প্রাণঘাতী কর্মকান্ড পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে। নির্বিচারে নারী ও শিশুদের উপর দমনমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে তাঁরা।”
সঞ্জয় ভট্টাচার্য বলেন, “আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রের অবৈধ হস্তান্তর এবং বেআইনি বিচ্যুতি সম্পূর্ণ ভাবে রহিত করতে হবে। গোটা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্যেই এটি উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত। এটি উন্নয়ন, নিরাপত্তা, মানবিক এবং আর্থ-সামাজিক দিকগুলোর উপর ক্রস কাটিং ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্র সমূহের দায়িত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “অস্ত্র সরবরাহ ও এর অবৈধ ব্যবহারের হুমকি মোকাবেলার প্রাথমিক দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের। পর্ষদ সদস্যরা এই জটিল এবং বহুমাত্রিক সমস্যা নিয়ে টানা তিন মাস আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করেছেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য আরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।”

এসময়, সন্ত্রাসবাদ আটকাতে বেশ কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করেন তিনি। এর প্রথম পয়েন্ট হিসেবে সন্ত্রাসীদের লজিস্টিক সাপ্লাই আটকানো এবং কর্মকান্ড মনিটরিং বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেন ভারতীয় এই কূটনীতিক।

দ্বিতীয় সমাধান হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যাবতীয় সকল অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার কার্যকর বাস্তবায়ন।

তৃতীয় সমাধান হিসেবে সঞ্জয় বলেন, শান্তিরক্ষীদের নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চায়ন। অবৈধ প্রবাহ যত দ্রুত সম্ভব নিঃশেষ করার মাধ্যমে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা বিধানের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এছাড়াও, সার্বিকভাবে নিরাপত্তা পরিষদের কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান করার উপর জোর দেন তিনি। এসময়, সন্ত্রাসবাদ দমনে ও নিরাপত্তা নিশ্চায়নে ভারতীয় মডেলের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সঞ্জয় বলেন, “আমরা ২০০২-০৩ সালে গভর্নমেন্টাল এক্সপার্টস গ্রুপের সভাপতিত্ব করার সুবিধা পেয়েছিলাম, যার সুপারিশগুলো ইন্টারন্যাশনাল ট্রেসিং ইনস্ট্রুমেন্ট (আইটিআই) নিয়ে আলোচনার জন্য ওপেন-এন্ডেড ওয়ার্কিং গ্রুপের দিকে পরিচালিত করেছিল। ভারত বিশ্বাস করে যে ছোট অস্ত্র এবং হালকা অস্ত্রের অবৈধ বাণিজ্য মোকাবেলার জন্য আইটিআই-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।”

নিজ বক্তব্যের শেষ ধাপে, সার্বিকভাবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ভারতের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি যেকোনো ধরণের সহযোগিতায় ভারত অগ্রগণ্য থাকবে বলে নিজ প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করেন তিনি। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© ২০১৯ দৈনিক নবযুগ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Designed and developed by Smk Ishtiak