ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চন্দ্র বিজয়ে ইতিহাস ভারতের

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণ করেছে ভারতের মহাকাশযান চন্দ্রযান-৩। প্রথম কোনো দেশ হিসেবে চাঁদের ওই অংশে পদচিহ্ন রাখার মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়ল দেশটি। ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (ইসরো) তথ্যমতে, গতকাল ভারতের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে মহাকাশযানটির ল্যান্ডার বিক্রম চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করে।

চতুর্থ কোনো দেশ হিসেবে চাঁদের মাটিতে পা রাখল ভারত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন সফলভাবে চাঁদে মহাকাশযান অবতরণ করায়। মহাকাশ পরাশক্তি হয়ে ওঠার দৌড়ে এ অভিযানটিকে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে রাশিয়ান একটি মহাকাশযান অবতরণে ব্যর্থ হওয়ার একদিন পরই ভারত সফলভাবে সেখানে মহাকাশযান অবতরণ করাল।

চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদে অবতরণের দৃশ্য ইসরোর ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এ উপলক্ষে দেশটির সব স্কুল খোলা রাখা হয়। চাঁদের মাটিতে বিক্রমের অবতরণের পর পরই ইসরোর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখা হয়, ‘ভারত, আমি আমার গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছি।’

এদিকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ইসরোর ভার্চুয়াল আয়োজনে যুক্ত ছিলেন। চন্দ্রযানের অবতরণের পর মোদি বলেন, ‘আমি হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকায় আছি, তবে আমার মনটা চন্দ্রযান মিশনের সঙ্গেই আছে। আমরা নতুন ভারতের নতুন যাত্রার সাক্ষী। নতুন ইতিহাস লেখা হলো।’

বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়ে মোদি বলেছেন, ‘আমরা পৃথিবীর মাটিতে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম। চাঁদে গিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করলাম। ভারত এখন খুব খুশি। আমার বিশ্বাস আমাদের আগামী প্রজন্ম চাঁদে পর্যটনের স্বপ্ন দেখবে।’

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে এর আগে কোনো দেশ মহাকাশযান পাঠাতে সক্ষম হয়নি। ফলে ওই অঞ্চলটি নিয়ে রহস্য ছিল দীর্ঘদিনের। সেখানে পানির সন্ধান মিলতে পারে এবং প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। আর সেসবই অনুসন্ধান করবে ল্যান্ডার বিক্রমে থাকা রোভার প্রজ্ঞান। চন্দ্রপৃষ্ঠের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে পৃথিবীতে ছবি ও তথ্য পাঠাবে এটি।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুলাই ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে চন্দ্রযান-৩ উৎক্ষেপণ করা হয়। এর আগে ২০১৯ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবতরণের উদ্দেশ্যে চন্দ্রযান-২ পাঠিয়েছিল ভারত। কিন্তু অভিযানটি ব্যর্থ হয়। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

Tag :

Notice: Trying to access array offset on value of type int in /home/nabajugc/public_html/wp-content/themes/NewsFlash-Pro/template-parts/common/single_two.php on line 182

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

চন্দ্র বিজয়ে ইতিহাস ভারতের

Update Time : ১১:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৩

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণ করেছে ভারতের মহাকাশযান চন্দ্রযান-৩। প্রথম কোনো দেশ হিসেবে চাঁদের ওই অংশে পদচিহ্ন রাখার মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়ল দেশটি। ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (ইসরো) তথ্যমতে, গতকাল ভারতের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে মহাকাশযানটির ল্যান্ডার বিক্রম চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করে।

চতুর্থ কোনো দেশ হিসেবে চাঁদের মাটিতে পা রাখল ভারত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন সফলভাবে চাঁদে মহাকাশযান অবতরণ করায়। মহাকাশ পরাশক্তি হয়ে ওঠার দৌড়ে এ অভিযানটিকে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে রাশিয়ান একটি মহাকাশযান অবতরণে ব্যর্থ হওয়ার একদিন পরই ভারত সফলভাবে সেখানে মহাকাশযান অবতরণ করাল।

চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদে অবতরণের দৃশ্য ইসরোর ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এ উপলক্ষে দেশটির সব স্কুল খোলা রাখা হয়। চাঁদের মাটিতে বিক্রমের অবতরণের পর পরই ইসরোর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখা হয়, ‘ভারত, আমি আমার গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছি।’

এদিকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ইসরোর ভার্চুয়াল আয়োজনে যুক্ত ছিলেন। চন্দ্রযানের অবতরণের পর মোদি বলেন, ‘আমি হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকায় আছি, তবে আমার মনটা চন্দ্রযান মিশনের সঙ্গেই আছে। আমরা নতুন ভারতের নতুন যাত্রার সাক্ষী। নতুন ইতিহাস লেখা হলো।’

বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়ে মোদি বলেছেন, ‘আমরা পৃথিবীর মাটিতে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম। চাঁদে গিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করলাম। ভারত এখন খুব খুশি। আমার বিশ্বাস আমাদের আগামী প্রজন্ম চাঁদে পর্যটনের স্বপ্ন দেখবে।’

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে এর আগে কোনো দেশ মহাকাশযান পাঠাতে সক্ষম হয়নি। ফলে ওই অঞ্চলটি নিয়ে রহস্য ছিল দীর্ঘদিনের। সেখানে পানির সন্ধান মিলতে পারে এবং প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। আর সেসবই অনুসন্ধান করবে ল্যান্ডার বিক্রমে থাকা রোভার প্রজ্ঞান। চন্দ্রপৃষ্ঠের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে পৃথিবীতে ছবি ও তথ্য পাঠাবে এটি।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুলাই ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে চন্দ্রযান-৩ উৎক্ষেপণ করা হয়। এর আগে ২০১৯ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবতরণের উদ্দেশ্যে চন্দ্রযান-২ পাঠিয়েছিল ভারত। কিন্তু অভিযানটি ব্যর্থ হয়। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক