শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০২:৫৬ অপরাহ্ন

নয়নতারা

নিশাদ

সুভাষ কুমার রায়: নিশাদের পোষা টিয়া জোড়া ক’দিন যাবতই অদ্ভুত আচরণ করছে । খাঁচার ভিতর প্রায় সারাদিনই উড়ার চেষ্টায় আছে । দিন বললে ভুলই হবে , যখন এরকম আচরণ শুরু হয় তখন দিন আর রাত নেই । সর্বক্ষণ চলতেই থাকে । ওদের স্বাভাবিক কণ্ঠস্বর বদলে যায়। অন্যরকম সুরে ডাকতে থাকে । কথা বলাটাও পাল্টে যায় । পাখি জোড়া এরকম আচরণ এই প্রথম করছে এমন নয় , মাঝে মাঝেই করে থাকে । এখনতো দু’টি টিয়া, প্রথম যখনএকটি ছিল তখন থেকেই ঘটনা ঘটতে থাকে । পর পর বেশ কিছু কাÐ ঘটে যায় , ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং পাখির অদ্ভুত আচরণ – কী যেন একটা মিল আছে ! এরকম যখন ঘটে তখনই মনে হয় ‘কাকতালীয় ঘটনা’ নামে যে প্রবাদটা আছে তা যেন সত্যিই একটি বিষয় ।

অনার্স শেষে মাস্টার্সে ভর্তি হরার পর পরই একদিন বিকেলে কাটাবন থেকে একটি টিয়া খাঁচা সমেত কিনে চুপি চুপি বাসায় হাজির । বাবা-মায়ের কারো ইচ্ছা নেই একটি বন্য প্রাণী খাঁচায় বন্দী থাকুক , যদিও নিশাদের বাবা ছোট বেলায় খাঁচায় টিয়া পুষতো , একঝাক কবুতরও ছিল। সাদা, সাদা-কালো, ধূসর, বাদামী, খয়েরী বিভিন্ন রংয়ের , নিশাদের দাদুর পছন্দ ছিল না । কবুতরের বন্দী জীবন ছিল না তবে টিয়া খাকতো খাঁচায় নিশাদের বাবা গ্রামের স্কুল পেরিয়ে পড়ালেখার জন্য ঢাকা এলে একদিন নিশাদের দাদু টিয়ার খাঁচার মুখ খুলে দিল । নিশাদের বাবা বাড়ি গিয়ে দেখে পাখিটি এগাছ সেগাছে উড়াউড়ি ক’রে,কাছে আসে না, দু’দিন পর আর দেখা গেল না । কবুতরগুলো দিয়ে দিল এক বন্ধুকে ।

বাবা বন্য প্রাণী গৃহবন্দী করতে চাচ্ছে না , নিশাদের প্রবল আগ্রহ আর প্রধান কৌশল অনশনের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হলো । নিশাদ তার ইচ্চা পূরণের হাতিয়ার হিসেবে অনশন করে থাকে । ওর না খেয়ে থাকাটা নিশাদের মা কিংবা বাবা কেউ সহ্য করতে পারে না । প্রথমে সন্ধ্যার চা খেল না , মায়ের মনে হলো নিশাদ সম্ভবত অনশন শুরু করেছে কিন্তু নিশাদ বুঝতে দেয়নি , বলেছিল- আমি ক্যাম্পাস থেকে চা খেয়ে এসেছি । যখন রাতের খাবার খেতে ডাকা হলো তখনই বোঝা গেল নিশাদ অনশনে আছে । শেষ পর্যন্ত টিয়া পোষার অনুমতি দেয়া হলো । রাতে খাবার টেবিলে রুটি খেতে খেতে বিষয়টি নিয়ে বেশ হাসাহাসি ।

টিয়ার কিছু পছন্দের খাবার আছে – পাকা ফল, বিশেষ করে লাল ফল বেশ পছন্দ, পাকা মরিচ দিলে বেশ মজা করে খায় । বাজার থেকে বেছে বেছে পাকা মরিচ, লাল টমেটো, লাল জামরুল আর কাঁচা হলুদ নিয়ে আসেন বাবা। নিশাদের মা মুচকি হাসেন, যিনি টিয়াটি রাখতেই চাচ্ছিলেন না তিনিই খাবার নিয়ে আসেন- হলুদ নিয়ে আসেন । নিশাদ প্রতিদিন সকালে গোসলের সময় টিয়াকেও গোছল করিয়ে দেয় । ওর বাবা বলছিলেন , গ্রামে তিনি টিয়া নিয়ে নদীতে যেতেন গোছল করাতে, তখন টিয়ার গোছল করানোকে সবাই বলতেন ‘ঝাপানো” । গোছলের সময় বেটে রাখা কাঁচা হলুদ একটি বড় পাত্রে পানির সাথে মিশিয়ে সেই পানি দিয়েই গোছল করাতে হয় । বাবার শিখিয়ে দেয়া থেরাপী । রান্নায় বাটা মশল্লা ব্যবহার না হলেও টিয়ার জন্য প্রতিদিন হলুদ বেটে রাখা নিশাদের মায়ের রুটিন হয়ে দাড়িয়েছে । কাঁচা হলুদ টিয়াকে যেকোনো সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে , আবার পাখি থেকেও কোনোরূপ সংক্রমিত হবার সম্ভাবনা থাকে না , নিপা ভাইরাস তো পাখি থেকেইে এসেছে।

ক’দিনেই টিয়ার মায়ায় পড়ে গেল সবাই । সুন্দর একটি নামও দেয়া হলো “নয়ন” । নয়নের গলায় লাল-হলুদ দাগ দেখা যাচ্ছে , ক্রমেই সেটা স্পষ্ট হলো । বুঝতে বাকি রইলো না টিয়াটি পুরুষ টিয়া । সুন্দর একটি মালার মতো দেখতে হয়েছে । কণ্ঠের এই লাল-হলুদ বর্ণে পাখিটিও বেশ সুন্দর হয়েছে তবে অদ্ভুত আচরণ শুরু করেছে । ছোট খাঁচাটি যেন আর ভালো লাগছে না । ডানা দুটো দিনরাত ঝাপটাচ্ছে । যে কয়টি কথা শিখেছে তাও মিষ্টি সুরে বলছে না । নাম ধরে ডাকা- নিশাদ , আব্বু – আম্মু কিংবা লংকা দাও বলা শিখেছে , সুন্দর করে শীষ দেয়া শিখেছে । কিন্তু এখন আর মিষ্টি করে নিশাদ বলে ডাকে না , কণ্ঠ কর্কশ । পরিবর্তনটা নিশাদ, বাবা-মা কারোই দৃষ্টি এড়ালো না ।

বাবার পরামর্শ – খাঁচাটি বড় করে দাও । কাটাবনে বড় খাঁচা আনতে গিয়ে ওদের সাথে বিষয়টি আলোচনা করে মোটামুটি আশ্বস্ত হলেও একজন পাখি বিশারদের পরামর্শ নেয়াই শ্রেয় মনে হলো । তিনি জানালেন, একটি সংগী এনে দাও ।

পাখীর সংগী প্রয়োজন, এমনটিতো সে কখনো ভাবেনি । সংগীর অভাবে এরূপ অদ্ভুত আচরণ ? পরামর্শ শুনে নিশাদের মনের বসন্তের হাওয়া জোরে বইতে শুরু করলো। মনে হলো আজ কাটাবনের রাস্তার সবগুলো কৃষ্ণচূড়া গাছে ফুল ফুটেছে, নীলক্ষেতের রাস্তায় আজ কোনো ট্রাফিক জ্যাম নেই, রিকশাগুলো হাওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে ছুঠে চলেছে , পাশের বিরিয়ানী দোকানগুলোতে লাল কাপড়ে মোড়া পাতিল থেকে শুধু কাচ্চি বিরিয়ানীর সুবাস পাওয়া যাচ্ছে , দোকানের কিংবা ফুটপাতের দোকানদারগুলো ওকে সমীহ করে ডেকে কবিতার বইগুলো কেনার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে , গাড়ীর হর্ণের কোনো আওয়াজ নেই , নিউমার্কেট-নীলক্ষেত রাস্তার মোড়ের বটগাছ থেকে শুধু কোকিলের ডাক শোনা যাচ্ছে। আজ নিজেকে পৃথিবীর সবচাইতে সুখী মানুষ মনে হলো। নিশাদের প্রিয়জনের সংবাদ কী তবে নয়ন পেয়ে গেছে !

পাখিটি কেনার সময়ে লিটা নামের যে মেয়েটির সাথে নিশাদের পরিচয়, কেন্দ্রিয় লাইব্রেরীর বারান্দায় একাধিক বার দেখা হবার পর কলাভবনের ক্যাফেটরিয়ায় একসাথে বসে দুপুরের খাবার খেতে খেতে কখন যে বন্ধুত্বের সম্পর্কটি আরো গাঢ় হয়ে গেল কেউ বুঝতেই পারেনি । একদিন দেখা না হলেই মনে হয় আজ সারাদিনটাই মাটি হয়ে গেল । রাতে ঘুমানোর আগে মুঠোফোনটি কান থেকে এখন আর নামতেই চায় না । নয়নের প্রতিও কেমন যেন উদাসীন হয়ে যাচ্ছিলো , রুটিন কাজগুলো শেষ করে দ্রæত ক্যাম্পাসে যাবার জন্য অস্থির হয়ে থাকে । বন্ধের দিনগুলো এখন আর ঘুমিয়ে কাটে না । বিষয়টি নয়নের মায়ের দৃষ্টি এড়ায়না । রাতে খাবার টেবিলে সবাই একসাথে খাওয়া হয়, সুযোগটি হয় না । বের হবার সময়টি একেকজনের একেক রকম । সুযোগ বুঝে মা একদিন সকালে নাস্তার টেবিলে নিশাদকে মুচকি হেসে বললেন, তোমার পরিবর্তনটা আমার চোখে পড়েছে । তোমাকে কী নয়ন বদলে দিলো ? নিশাদ কিছু বলেনি , শুধু বলেছিলো- না তেমন কিছুই নয় ।

খাঁচাটি বড় করার সাথে আরও একটি টিয়া কেনা হলো । কাটাবনের দোকানীগুলো মেয়ে টিয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি, ওদের ভাসায় মাদী টিয়া । ওরা যদিও জানে পুরুষ টিয়ার কণ্ঠে মালা বা ’কণ্ঠী’হয়। এখানে যেগুলো পাওয়া যায় সবগুলোরই বয়স কম। কম বয়সের পাখি না হলে পোষ মানানো যায় না । বাড়িতে নিয়ে নয়নের সংগে রাখা হলো । লেগে গেলো ঝগড়া । নিশাদের মা বললেন, এদের বন্ধুত্ব হবে না -এটি মেয়ে টিয়া নয় । খাঁচাটি বেশ বড় থাকাতে দুটিই এপ্রান্ত ওপ্রান্ত করতে থাকলো , লাল মরিচ এবং টমেটো দুটিকেই লোভনীয় খাবারগুলো দেয়া হলো । কিছুতেই ওরা শান্ত হচ্ছে না ।

নিশাদের বাবা কবুতরগুলোকে যখন ’জুটি’ বাঁধার জন্য একটি পুরুষ আর একটি মেয়ে কবুতর একটি খাঁচায় রাখতেন তখনও দু’একদিন ঝগড়ার পর বন্ধুত্ব হয়ে যেত । কিছুদিন পরেই দেখা যেতো বাসা তৈরি করার জন্য খড়কুটো নেয়া শুরু করে দিতো । তিনি যখন স্কুলে পড়েন তখন তিনি কবুতর পোষা শুরু করেন । একদিন বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে খাবার দিতে গিয়ে দেখেন নতুন জুটি খড়কুটো নেয়া শুরু করেছে – সে কী আনন্দ । সেদিন বিকেলে মাঠে ফুটবল খেলতে যায়নি । সারা বিকেল ওদের বাসা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহের সুখে বিভোর ছিলেন । রাতেও ভালো পড়া হয়নি । পরদিন বন্ধুদের সাথে বিষটি বলার পরই একটু স্বাভাবিক হয়েছিলেন । তিনি বললেন দেখো-না দু’একদিন । মায়ের অভিজ্ঞ চোখ বলছে এদের বন্ধুত্ব¡ হবেনা-কেননা যেটি নতুন কেনা হয়েছে সেটি মেয়ে টিয়া নয় ।

সবাই ঘুমাতে গেলেও নিশাদ এখনও ঘুমায়নি সবেমাত্র লিটাকে ফোন দিয়েছে এমন সময় টিয়া দু’টোর চিৎকার চেচামেচিতে সবাই বারান্দায় চলে এলো । নতুন কেনা টিয়ার সমস্ত শরীর রক্তাক্ত। নয়নও আহত , ওর মাথায় রক্ত । খাঁচার মুখ খুলে দেয়া হলো । নতুন টিয়াটি বের হয়ে এলো । ক্ষত জায়গাগুলোতে কাঁচা হলুদ বাটা লাগিয়ে দিয়ে আলাদা খাঁচায় রাখা হলো ।

জানা গেলো টঙ্গীতে পাখির বাজার আছে , সেখানে কাঙ্খিত টিয়া পাওয়া যেতে পারে । নিশাদের মায়ের ইচ্ছায় একটি তিন চাকার গাড়ী যাওয়া আসার জন্য কন্ট্রাক্ট করে খাঁচাসহ টিয়া এবং পরিবারের সকলেই যাওয়া হলো । নিশাদের মায়ের অভিজ্ঞ চোখ খুঁজে ফিরছে মাদি টিয়া , একেকটি টিয়ার কাছে নয়নকে রাখা হয় এবং ওদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি । গুণে গুণে সাতটি টিয়ার কাছে নিয়ে নয়নের আচরণ দেখা হলো , নিশাদ অধৈর্য্য হয়ে গেল কিন্তু মা-বাবার বিরক্তি নেই । আট নম্বরে গিয়ে নিশাদের মায়ের মনে হলো – এটি নেয়া যেতে পারে । সাধারণত যে দাম দিয়ে টিয়া কেনা যায় তার থেকে বেশি দিতে হলো , বিক্রেতা সুযোগ বুঝে বেশি দাম হেকে বসলেন ।

নতুনটির নাম রাখা হলো তারা । নয়নতারার দু’দিনেই ভাব হয়ে গেল , কবুতরের মতো তারা ঠোঁটে ঠোঁটে ভাব বিনিময় করে । নিশাদের বাবা যখন কবুতর পুষতেন তখন স্কুলের ছাত্র , দেখলেন যে কবুতর জুটির ভাব হয়ে যায় তারা ঠোঁটে ঠোঁটে আদর করে । প্রখমদিন মনে করেছিলেন হয়তোবা খাবার ভাগ করে খায় ,দু’তিন দিনের মধ্যেই বুঝতে পারলেন ভালোবাসার সময়টাতেই ঠোঁটের ব্যবহার হয় । নয়নতারার ঠোঁটের আদর দেখে নিশাদের মা মুচকি হাসেন, বাবা নির্লিপ্তভাবে খাবার দেন, নিশাদ নিজেকে সরিয়ে নেয় ।

মায়ের ধারণা ওর রুমে গিয়ে কাউকে ফোন দিবে , পাখি জোড়ার ভালোবাসার কথা জানাবে । ভালোলাগার বিষয়গুলো প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করলে অনুভূতি মধুর হয় । নিশাদের বাবাকে বিষয়টি জানানো দরকার – যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবেলার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি থাকলে সুবিধা হয় । ছেলের প্রতি নিশাদের বাবার অগাধ বিশ্বাস, মায়েরও পূর্ণ আস্থা আছে তবু মাঝে মাঝে মনে করিয়ে দেয়, তুমি আমাদের একমাত্র সন্তান তোমাকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন- এমন কিছু করবে না যাতে বাবা-মায়ের অসম্মান হয় ।

হোম কোয়ারেন্টাইন চলছে । নিশাদের বাবার অফিস বন্ধ , নিশাদের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ , মায়ের কলেজ বন্ধ – তিনজনেরই অবসর সময় কাটে পাখির খাঁচার সামনে । প্রতি প্রহরে নয়নতারার ডাক শোনা যেত , বিশেষ করে রাত বারোটা এবং ভোরের ডাক স্পষ্ট হতো । সন্ধ্যার কিংবা দিনের অন্য সময়ে বাইরের কোলাহল বা নানান কাজের কারণে মিষ্টি ডাক শোনা হতো না । এখন ওদের মিষ্টি ডাকের অপেক্ষা করে সকলে । মার্চ মাস শেষ হয়নি, এখনও প্রকৃতিতে বসন্ত আছে ,বাসার সামনের আম গাছটায় কোকিল বসে যেমন মিষ্টি সূরে প্রিয়জনকে আহŸান করে নয়নতারাও ওদের ভালোবাসার জানান দিয়ে আসছিলো।

আজ সকাল থেকেই নয়ন কেমন ঝিম মেরে আছে , ওদের পাশাপাশি অবস্থান নেই, খাঁচার দু’প্রান্তে দু’জন বসে আছে । তবে কী ওরা কোয়ারেন্টাইন মেনে চলছে নাকি নয়ন অসুস্থ ? টিয়ার যে সমস্ত সমস্যাগুলো হয় নয়নের বাবার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে , কখনও ঝিম মেরে ঘার কাত করে বসে খাকতে দেখেনি । অনেক কষ্ট করে কাঁচা হলুদ পানি দিয়ে গোছল করানো হলো । আগেতো গোছলে নয়নের আগ্রহ থাকতো , গোছল করাতে গেলে পাখা জাপটে নিজেই গোছল করে নিতো । আজ যতবারই গোছল করাতে গেছে ততবারই তারা বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছে । কখনো ওরা ঠোঁট দিয়ে টোকর দিতে আসতো না , আজ হাত ভিতরে দিলেই ঠোকর দিতে আসছে । পশু পাখির সাথে প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্ক, নিশাদের বাবার স্পষ্ট মনে আছে সুনামীর সময়ে পুকুরের পানি হঠাৎ করে ফুলে উঠলো, পুকুরে থাকা মাছ সাপ লাফালাফি করছে, গোয়ালের গরু ,গাছের পাখিগুলো সমস্বরে ডাকাডাকি করছে । প্রকৃতির বিপর্যয় এরা বেশ ভালোভাবে বুঝতে পারে – যা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় । ঝড়-বৃষ্টির আগেও ওরা জানিয়ে দেয় অদ্ভুত কিচির মিচির করে , আজকের এই অদ্ভুত আচরণ কী কোনো কিছুর পূর্বাভাস ? যে ভাইরাস নিয়ে সারা বিশ্ব উদ্বিগ্ন , নয়ন কী তবে আক্রান্ত ?

সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়নি কোনো পাখি এপর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে । তবেতো বাসার সকলেরই আক্রান্তের আশংকা রয়েছে – এজন্যই কী নয়ন আর তারা আলাদা থাকার চেষ্টা করছে ?

নিশাদের বাবা ভোর থেকেই শীত শীত অনুভব করছে- শরীর বেশ গরম।

সমস্ত শরীর – বিশেষ করে কোমর থেকে নিচের দিকে ,গলায় মাথায প্রচন্ড ব্যাথা । কাশি হচ্ছে, থামতেই চায় না – ক্রমশ দম ছোট হয়ে আসছে ।

লেখকঃ সিনিয়র শিক্ষক

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© ২০১৯ দৈনিক নবযুগ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Designed and developed by Smk Ishtiak