বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ময়মনসিংহ রেঞ্জে ১৩তম শ্রেষ্ঠ ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ

ময়মনসিংহ রেঞ্জে ১৩তম শ্রেষ্ঠ ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ

এনামুল হক ছোটন

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখায় যোগদানের পর থেকে একের পর এক সাফল্য অর্জন করেই চলছেন জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ)অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ কামাল আকন্দ,পিপিএম (বার)।নিজ কর্ম ও কৃতিত্বের মাধ্যমে তিনি যোগদানের পর থেকে প্রতিবারই ময়মনসিংহ রেঞ্জে শ্রেষ্ঠ হওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ করে চলছেন। গত অক্টোবর মাসে ময়মনসিংহ রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ হওয়ার মাধ্যমে তিনি ১৩ তম বারের মত শ্রেষ্ঠ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

গত অক্টোবর মাসের রেঞ্জ পুলিশের মাসিক সভায় ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এ নেওয়াজী ও ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দসহ রেঞ্জে ১৩ পুলিশ সদস্য ও চৌকিদারকে শ্রেষ্টত্বের পুরস্কার প্রদান করা হয়। গত ২৮ (নভেম্বর) বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশের অক্টোবর/২০১৯ মাসের সভায় মাদক, অস্ত্র উদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অবদানের জন্য নগদ অর্থ, সম্মাননা, সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করেন রেঞ্জ ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আক্কাস উদ্দিন ভূইয়া, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার ( অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদন্নতিপ্রাপ্ত) শাহ মোঃ আবিদ হোসেন, বিপিএম (বার) ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকতাগণ।

পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, নেত্রকোণা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এ নেওয়াজী, শেরপুরের শ্রীবরদি থানার ওসি রুহুল আমিন তালুকদার, ময়মনসিংহের ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ, ময়মনসিংহের পুলিশ পরিদর্শক ট্রাফিক (সাবেক) কাজী আসাদুজ্জামান, রেঞ্জ অফিসের এসআই হাফিজুর রহমান টিটু, ময়মনসিংহ ডিবির এসআই আক্রাম হোসেন, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থানার এসআই ফরহাদ আলী, রেঞ্জ অফিসের এএসআই মাসুদ রানা, শ্রীবরদি থানার এএসআই নজরুল ইসলাম। এছাড়া কর্মচারী কোঠায় শ্রেষ্ট কম্পিউটার অপারেটর হিসাবে রেঞ্জ অফিসের আব্দুল মোতালেব, শ্রেষ্ট হিসাবরক নজরুল ইসলাম ও হারুন অর রশিদ এবং শ্রেষ্ট চৌকিদার হিসাবে জামালপুরের সরিষাবাড়ির ডোবাইল ইউনিয়নের চৌকিদার শ্যামল চন্দ্র রবিদাস পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, রহস্যজনক ও কুলেস মামলার রহস্য দ্রুততম সময়ে উদঘাটন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার,মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসহ সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশের আলোচিত হত্যাকান্ড ময়মনসিংহের পাটগুদাম ব্রীজ মোড় থেকে মাথা, হাত ও পা বিহীন ব্রীফকেস ভর্তি দেহ উদ্ধার মামলার কয়েকদিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন, হত্যাকান্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন, পিস্তল, গুলি, পাইপগান ও কার্তুজ উদ্ধার করায় শ্রেষ্ট গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন শাহ কামাল আকন্দ।

ডিবির ওসি জানান, নেত্রকোণার পূর্বধলার হুগলা গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের ছেলে বকুলকে বালিশ চাপা ও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে একটি চক্র। পরে হত্যার আলামত ও লাশের পরিচয় গোপন করতে লাশের শরীর থেকে মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করে ছয়টি টুকরো। টুকরোগুলো পলিথিন দিয়ে শক্ত করে মুড়িয়ে ট্রলি ব্যাগে (ব্রিফকেছ) ভরে। পরে শরীর ভর্তি ট্রলি ময়মনসিংহের পাটগুদাম ব্রীজ মোড়ে এবং কুড়িগ্রাম জেলা সদর ও রাজাপুরে পৃথকভাবে হাত, পা ও মাথা নিশ্চিন্তে চলে যায় খুনী চক্র। ময়মনসিংহের পাটগুদাম ব্রীজ মোড় থেকে হাত, পা ও মাথা বিহীন বিহীন শরীর উদ্ধারের ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা নং ১০২, তাং ২৫/১০/১৯ দায়ের হয়। মাথা, হাত-পা বিহীন শরীর উদ্ধারের ৯দিনের মাথায় ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশ নিহত মোঃ বকুলকে সনাক্তকরণসহ খুনের সাথে জড়িত থাকা চার খুনীকে গ্রেফতার করে। ডিবি পুলিশ তদন্তভার পেয়ে চিরকুট এবং ডিবি পুলিশের উদ্ধার করা সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে ডিবি পুলিশ নিহত ব্যক্তির পরিচয় সনাক্ত করে ৪ জনকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত চারজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। ডিবির ওসি শাহ কামাল আরো জানান, এছাড়াও অক্টোবর মাসে একটি ম্যাগাজিন সংযুক্ত পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি এবং একটি পাইপাগন, ১০টি কার্তুজ ও ২০টি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়। এ সময় আন্তঃজেলা ডাকাতদলের এক সদস্য ডিবির সাথে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হন।

অপরদিকে ৫৯৬৫ পিস, ১৯০ গ্রাম হেরোইন, এক কেজি গাঁজা, একটি ট্রাক, চারটি দেশী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া জিডি মূলে ও চোরাই মোবাইল উদ্ধার, ৪৩টি মামলা রুজু, ৫৩টি মামলা নিষ্পত্তি, পাবলিক দরখাস্ত নিষ্পত্তি ১২টি, নিবারণ মূলক গ্রেফতার ৩৫, ভিকটিম উদ্ধার ৪জন, ১০টি ফেইসবুক হেক হওয়া আইডি উদ্ধার, ২৩টি বিকাশ প্রতারক সনাক্তকরণ ও উদ্ধার, ২টি চুরি হওয়া লেপটপ উদ্ধার এবং ৯৬টি সিডিএমএস মামলা দায়ের করা হয়।

১৩ তম বারের মতো ময়মনসিংহ রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ হওয়ার বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ১৩ তম বারের মত শ্রেষ্ঠ হওয়ার এটা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়,এটা একটা টিম ওর্য়াক কাজের ফসল।আমি সবার মাঝে একটি প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করার মাধ্যমে আমি আমার এই সাফল্য ধরে রেখেছি।আমি প্রতিটি কাজেরই সুষ্ঠু তদারকি করি ও প্রতিটি টিমকে আমি একটি মাসিক টার্গেট দিয়ে থাকি ফলে সবাই সবার টার্গেট পূরণ করে আর সফলতা দ্রুত চলে আসে। সবাই কাজের স্বীকৃতি ও পুরস্কার পাওয়ার মাধ্যমে অনুপ্রেরণা পায় আর এতেই আমার সফলতা নিহিত।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© ২০১৯ দৈনিক নবযুগ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Designed and developed by Smk Ishtiak